শিরোনাম
◈ তেল-গ্যাসে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা কতটা ◈ যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইরান, সামনে তিন শর্ত ◈ উত্তর ইসরায়েলে তীব্র হামলা: ইরান-হিজবুল্লাহর ১০০ রকেট নিক্ষেপের দাবি ◈ রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চেয়েছে বাংলাদেশ ◈ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় র‌্যাবের ওপর হামলা ◈ নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন কে? নানা আলোচনা ◈ স্বাভাবিক হয়নি ভোজ্যতেলের বাজার ◈ সিঙ্গাপুর থেকে জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ‘লিয়ান হুয়ান হু’ ◈ সহ আ‌য়োজক যুক্তরা‌স্ট্রে ইরান বিশ্বকাপ খেলবে না, জানালেন ক্রীড়ামন্ত্রী ◈ বিদ্যুৎ–জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্যাংকের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি

প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০২:৪৫ দুপুর
আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ট্রাম্প গোল্ড কার্ড ভিসা কী, খরচ কত, কীভাবে আবেদন করতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা এখন থেকে ট্রাম্প গোল্ড কার্ড বা গোল্ড কার্ড ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এই ভিসার কথা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) এই ভিসা কার্যকর করে মার্কিন প্রশাসন। এরই মধ্যে গোল্ড কার্ড ভিসার জন্য আবেদন শুরু হয়ে গেছে।

গোল্ড কার্ড ভিসার সূচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘দেশ ও আমার জন্য দারুণ উত্তেজক একটা মুহূর্ত এটা। কারণ আমরা ট্রাম্প গোল্ড কার্ডের সূচনা করলাম। সাইট (গোল্ড কার্ড ভিসার আবেদন করার জন্য ওয়েবসাইট) ৩০ মিনিট‌ের জন্য চালু হয়ে যাচ্ছে।’

 ট্রাম্প জানান, গোল্ড কার্ড এত দিন ধরে চালু থাকা গ্রিন কার্ড ভিসার মতোই। তবে গোল্ড কার্ডে আরও অনেক অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি। তবে তার জন্য আবেদনকারীদের গুনতে হবে ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কোটি ১৪ লাখ টাকারও বেশি)।
 
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিভাধর বিদেশিদের আকৃষ্ট করা, মার্কিন কোষাগারের জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় এবং ঐতিহ্যবাহী ইবি-৫ ভিসা ব্যবস্থার একটি দ্রুত ও আরও লাভজনক বিকল্প হিসেবে এই গোল্ড কার্ড ভিসা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
 
ট্রাম্প গোল্ড কার্ড ভিসা কী: ট্রাম্প গোল্ড কার্ড হলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চালু করা একটি নতুন মার্কিন ভিসা প্রকল্প। যুক্তরাষ্ট্রে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ (কমপক্ষে ১০ লাখ ডলার) বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি এবং কোম্পানির জন্য বৈধ ও স্থায়ীভাবে বসবাস এবং মার্কিন নাগরিকত্বের সুযোগ করে দেবে এটি।
 
এটি ইবি-৫ ভিসা প্রোগ্রাম বাদ দিয়ে সেই জায়গায় এই গোল্ড কার্ড ভিসা প্রবর্তন করা হয়েছে। ইবি-৫ ভিসা যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং মার্কিন কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ১৯৯০ সালে গৃহীত হয়।
 
ট্রাম্প গোল্ড কার্ডের জন্য কারা আবেদন করতে পারবে: ব্যক্তি হলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বসবাস এবং দেশটিতে প্রবেশের যোগ্য হতে হবে। কোম্পানি বা কর্পোরেশন হলে ওই কোম্পানি বা কর্পোরেশন বিদেশে জন্মগ্রহণকারী কর্মচারীদের স্পনসর করতে পারবে। পরিবার হলে স্বামী/স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সি অবিবাহিত সন্তানরাও আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রত্যেককে অতিরিক্ত ফি দিতে হবে।
 
ট্রাম্প গোল্ড কার্ড ভিসার খরচ কত: প্রতি আবেদনকারী বা কর্পোরেট স্পনসরের জন্য ট্রাম্প গোল্ড কার্ড ভিসার প্রক্রিয়াকরণ ফি ১৫ হাজার ডলার। ব্যক্তি আবেদনকারীর জন্য ১০ লাখ ডলার এবং কর্পোরেট স্পনসরদের ক্ষেত্রে কর্মচারীদের জন্য ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করতে হবে।
 
ট্রাম্প জানান, কোনো কর্মীর দ্রুত ভিসা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে মার্কিন সংস্থাগুলোও ২০ লক্ষ ডলার খরচ করতে পারে। গোল্ড কার্ড ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে প্রথমে আবেদনকারীকে ১৫ হাজার ডলার ‘প্রসেসিং ফি’ বাবদ জমা দিতে হবে। আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘হোমল্যান্ড সিকিয়োরিটি’ দফতরকে দেয়া এই টাকা ফেরতযোগ্য নয়।
 
 ‘প্রসেসিং ফি’ দেয়ার পর আবেদনকারীর নথিপত্র যাচাই করা হবে। যাচাইপ্রক্রিয়া শেষ হলে আবেদনকারীকে ১০ লক্ষ ডলার ‘উপহারস্বরূপ’ মার্কিন কোষাগারে জমা করতে হবে। হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যা, আবেদনকারী যে আদতে আমেরিকার উপকারই করবেন, ওই ‘উপহার’ই তার প্রমাণ হিসাবে গণ্য হবে।
 
অন্যান্য ফির মধ্যে ভিসা-সম্পর্কিত ফি এবং চিকিৎসা পরীক্ষার খরচ প্রযোজ্য হতে পারে। গোল্ড কার্ড ভিসার ওয়েবসাইট জানাচ্ছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের অতিরিক্ত ফি জমা দিতে হতে পারে। তবে এই বিষয়ে সবিস্তার কিছু জানানো হয়নি।
 
ট্রাম্প গোল্ড কার্ডের জন্য কীভাবে আবেদন করবেন

অফিসিয়াল ওয়েবসাইট trumpcard.gov গিয়ে আবেদন করা যাবে। ওয়েবসাইটে গিয়ে গোল্ড কার্ডের ধরণ যেমন: ব্যক্তিগত, কর্পোরেট বা প্ল্যাটিনামের যেকোনো একটা বাছাই করতে হবে। এরপর ব্যক্তিগত বা কোম্পানির বিবরণ পূরণ করতে হবে।

এরপর হালনাগাদ তথ্যের জন্য একটি myUSCIS.gov অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এরপর ১৫ হাজার ডলার প্রক্রিয়াকরণ ফি প্রদান করতে হবে। এরপর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া যাচাই করবে। অনুমোদনের পরে ১০ লাখ বা ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করতে হবে।
 
ট্রাম্প গোল্ড কার্ডের জন্য কীভাবে অর্থ প্রদান করতে হবে
 
অর্থপ্রদানের পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রেডিট কার্ড, এসিএইচ ডেবিট (মার্কিন অ্যাকাউন্ট), অথবা সুইফট ওয়্যার ট্রান্সফার (আন্তর্জাতিক)।
 
ট্রাম্প গোল্ড কার্ডের সুবিধাগুলো কী কী :  আইনি স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা (ইবি-১ বা ইবি-২ ভিসা), ঐতিহ্যবাহী ভিসা পদ্ধতির তুলনায় দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ, যোগ্য পরিবারের সদস্যরা যোগ দিতে পারবেন এবং মার্কিন নাগরিকত্বের সম্ভাবনা।
 
ট্রাম্প গোল্ড কার্ডের সমস্যা:  জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ বা গুরুতর অপরাধমূলক কার্যকলাপের জন্য গোল্ড কার্ডের মর্যাদা বাতিল করা যেতে পারে। কিছু দেশে এক বছর বা তার বেশি সময় ভিসা অপেক্ষা করতে হতে পারে এবং সকল আবেদনকারীকে বিশ্বব্যাপী আয়ের ওপর মার্কিন কর দিতে হয়।  তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়