স্পোর্টস ডেস্ক : বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমান আলী আঘার সেই বিতর্কিত রানআউট নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে চলছে তুমুল আলোচনা।
মিরাজের ফিল্ডিং আর আঘার ক্রিজের বাইরে থাকা নিয়ে যখন দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে যুক্তিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক তখনই বিষয়টি নিয়ে নিজেদের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দিয়েছে ক্রিকেটের আইন প্রণেতা সংস্থা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। সংস্থাটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মিরাজের সিদ্ধান্ত একদম সঠিক ছিল এবং নিয়ম অনুযায়ী সালমান আলী আঘা আউট ছিলেন। -- ডেইলি ক্রিকেট
ঠিক কী ঘটেছিল মিরপুরে?
ঘটনাটি ম্যাচের ৩৯তম ওভারের। মোহাম্মদ রিজওয়ান স্ট্রাইকে থাকাকালীন মিরাজের বলে একটি শট খেলেন, যা খুব একটা দূরে যায়নি।
নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা সালমান আলী আঘা বলটি কুড়িয়ে বোলারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু মিরাজ দ্রুত বলটি সংগ্রহ করে আন্ডারআর্ম থ্রোতে স্টাম্প ভেঙে দেন।
আঘা তখন ক্রিজের বাইরে ছিলেন। আম্পায়ার আউটের সংকেত দিলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে মাঠ ছাড়েন এই পাকিস্তানি ব্যাটার।
এমসিসি’র আইন যা বলছে
পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে এক বিবৃতিতে এমসিসি জানায়, "আইন অনুযায়ী আম্পায়ারদের এখানে ভিন্ন কিছু করার ছিল না। যখন স্টাম্প ভাঙা হয়েছে, বলটি তখনো 'ইন প্লে' বা লাইভ ছিল এবং ব্যাটার ক্রিজের বাইরে ছিলেন। ফলে এটি পরিষ্কার আউট।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "ফিল্ডিং সাইডের অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যাটারের বল ধরা উচিত নয়। যদি আঘা বলটি ধরতেন, তবে তাকে 'অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড' আউটের ঝুঁকিতে পড়তে হতো। তার উচিত ছিল বল না ধরে দ্রুত ক্রিজে ফেরার চেষ্টা করা।"
বল কি 'ডেড' ছিল?
অনেকে দাবি করেছিলেন বলটি 'ডেড' ঘোষণা করা উচিত ছিল। এর জবাবে এমসিসি জানায়, খেলোয়াড়দের ধাক্কা লাগলেই বল ডেড হয়ে যায় না। যদি এমন নিয়ম থাকত, তবে খেলোয়াড়রা নিজেদের সুবিধামতো সময়ে ইচ্ছাকৃত ধাক্কা লাগিয়ে বল ডেড করার চেষ্টা করত। মিরাজ যেহেতু বলটিকে লাইভ ভেবে স্টাম্প ভেঙেছেন, তাই এটি ডেড হওয়ার প্রশ্নই আসে না।
এমনকি আগামী অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন নিয়মের কথা উল্লেখ করে এমসিসি জানায়, সেখানেও এমন পরিস্থিতিতে ব্যাটারকে আউট দেওয়ার পক্ষেই যুক্তি থাকবে। ফলে মিরাজের ক্রিকেটীয় বুদ্ধিকে আইনত শতভাগ বৈধতা দিল এমসিসি।