স্পোর্টস ডেস্ক : ক্রিকেট ভারতীয়দের কাছে ধর্মের মতো। শত কোটি মানুষের দেশটিতে ক্রিকেট নামক আবেগ অনেকটা নেশার মতোই। বিশ্বের যে প্রান্তেই খেলা হোক, প্রিয় দলের খেলা দেখতে আকাশী নীল জার্সি গায়ে চাপিয়ে গ্যালারিতে হাজির হয় হাজার হাজার দর্শক।
আর ঘরের মাঠে খেলা হলেতো কোন কথাই নেই। ভারতীয় দর্শকদের গর্জনে প্রতিপক্ষ ভড়কে যায় প্রায় সময়ই। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও দেখতে হয় কখনো কখনো।
এই যেমন ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ১ লাখ ভারতীয় দর্শককে স্রেফ চুপ করিয়ে দেন প্যাট কামিন্সের অস্ট্রেলিয়া। --- ডেইলি ক্রিকেট
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়, সমর্থকদের বুনো উল্লাস এসব যখন সময়ের ব্যাপার তখন পুরো গ্যালারি হয়ে পড়ে শ্মশান। পুরো ভারতে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। কোটি ভারতীয়র হৃদয় ভেঙে মন খারাপের গল্প লিখে অজিরা।
এবার আরও একবার আহমেদাবাদ, আরও একবার ফাইনাল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। যারা এখনো পর্যন্ত কোন বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বাদ পায়নি। তবে সেই গল্পটাই বদলাতে চায় মিচেল স্যান্টনারের দল।
৫০ লাখ লোকের দেশ নিউ জিল্যান্ড হৃদয় ভাঙতে চায় ১৪০ কোটি মানুষের। অধরা শিরোপাটা নিজেদের করতে হৃদয় ভাঙার উপন্যাসে খলনায়ক হতেও আপত্তি নেই কিউইদের। দলপতি স্যান্টনার অকপটে সে কথাই যে বলে গেলেন।
তার ভাষ্য, 'সবাই জানে আমরা হয়তো ফেভারিট নই। কিন্তু এবার যদি ট্রফি জিততে গিয়ে কয়েকটা হৃদয় ভাঙতে হয়, তাতেও সমস্যা নেই।
ক্রিকেটীয় সামর্থ্য আর অন্যান্য বাস্তবতা মিলিয়ে এই মুহূর্তে ফাইনালের ফেভারিট ভারতই। তবুও চোখে চোখ রেখে লড়াই করে পুরো নিউজিল্যান্ডকে আনন্দ ভাসাতে চায় স্যান্টনার, ফিন অ্যালেনরা।
আর সেটা করতে পারলে নীরব হয়ে যাবে গ্যালারির ১ লাখ দর্শকের গর্জনও। সে লক্ষ্যেই আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে নামবে কিউইরা। অধিনায়ক স্যান্টনার যেমনটা বলছিলেন, 'আমাদের লক্ষ্য থাকবে দর্শকদের নীরব করে দেওয়া।
ফরম্যাটটা টি-টোয়েন্টি বলেই কোন কিছুর নিশ্চয়তা দেখেন না নিউজিল্যান্ড কাপ্তান। সুপার এইটে খুব একটা ভালো না করেও সমীকরণ মিলিয়ে সেমি-ফাইনালে উঠে যায় নিউজিল্যান্ড।
আবার সেমি-ফাইনালের আগ অবধি অপরাজিত থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের কাছে হেরেই বিদায় নেয় বিশ্বকাপ থেকে। তাই ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে একটু ভিন্নভাবেই ভাবছে নিউজিল্যান্ড।
স্যান্টনার বলেন, 'টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খুবই অনিশ্চিত। দক্ষিণ আফ্রিকা পুরো টুর্নামেন্টে ভালো খেলেও আমাদের বিপক্ষে এক ম্যাচেই ছিটকে গেছে।'
'আমরা যদি ঠিকভাবে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে আরেকটি বড় দলকে হারিয়ে দিতে পারি।'
যে বিশ্বাস নিয়ে কিউইরা ভারতকে হারানোর স্বপ্ন দেখছে তা সত্যি হলে ৫০ লাখ মানুষের মুখে হাসি ফুটবে। বিপরীতে হৃদয় ভাঙবে ১৪০ কোটি মানুষের।