শিরোনাম
◈ যুক্তরাষ্ট্রে লিমন–বৃষ্টি হত্যা: তদন্তে বেরিয়ে এলো ভয়াবহ তথ্য ◈ আজ পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফায় ১৪২ আসনে ভোটগ্রহণ ◈ চীনের ব্যাটারি বিপ্লবে বদলে যাচ্ছে ইভি বাজার, ১০ মিনিটেরও কম সময়ে চার্জ হবে ইলেকট্রিক গাড়ি ◈ বড় বাজেট, বড় চ্যালেঞ্জ: ২০২৬–২৭ অর্থবছর নিয়ে দুশ্চিন্তা ও আশা ◈ সরকারি চাপে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড থে‌কে সভাপ‌তিসহ সবাই পদত‌্যাগ কর‌লেন ◈ হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আমিনুর গ্রেপ্তার ◈ পার্থের বক্তব্য ঘিরে সংসদ আবার উত্তপ্ত ◈ ইরানের হামলার জবাব কীভাবে দেওয়া হবে তার পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে বসছে ৬ মুসলিম দেশ ◈ পাকিস্তান-আফগানিস্তান ভয়াবহ যুদ্ধের শঙ্কা, মধ্যস্থতার চেষ্টা চীনের ◈ চলমান যুদ্ধ বন্ধে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন শান্তি প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে ইরান

প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:২০ বিকাল
আপডেট : ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইহরাম অবস্থায় সব ধরনের জুতা ব্যবহার করা যাবে কি?

হজ ও ওমরা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো ইহরাম। ইহরাম কেবল পোশাকের পরিবর্তন নয়; এটি একটি বিশেষ অবস্থান, যেখানে কিছু বৈধ কাজও নিষিদ্ধ হয়ে যায়। তাই ইহরাম সম্পর্কিত বিধানগুলো সঠিকভাবে জানা অত্যন্ত জরুরি—বিশেষ করে পোশাক ও জুতার ক্ষেত্রে করণীয়।

ইহরামের জন্য পুরুষদের নির্ধারিত পোশাক রয়েছে। তাদের সেলাইবিহীন দুই টুকরো সাদা কাপড় পরিধান করতে হয়। আর নারীরা পরিধান করেন শালীন পর্দাযুক্ত পোশাক।

তবে জুতার ক্ষেত্রে বিধান ভিন্ন। ইহরাম অবস্থায় পুরুষ ও নারীদের জুতা ব্যবহারের নিয়ম আলাদা, এবং পায়ের কিছু অংশ খোলা রাখার বিষয়েও নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

ইহরাম অবস্থায় পুরুষের জন্য এমন জুতা পরিধান করা নিষিদ্ধ, যা পায়ের পাতার ওপরের উঁচু হাড় (টাখনু) ঢেকে ফেলে। বরং এমন স্যান্ডেল বা চপ্পল পরতে হবে, যাতে ওই অংশ খোলা থাকে। একইভাবে ইহরাম অবস্থায় পুরুষের জন্য মোজা পরিধান করাও নিষিদ্ধ।

অন্যদিকে নারীরা ইহরাম অবস্থায় যেকোনো ধরনের জুতা বা স্যান্ডেল ব্যবহার করতে পারবেন। প্রয়োজনে তারা মোজাও পরতে পারবেন।

হজ ও ওমরার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ ইহরাম। নির্দিষ্ট মীকাত থেকে নিয়ত করে ইহরামে প্রবেশ করতে হয়। ইহরাম বাঁধার পর পুরুষের জন্য পূর্ণ পা ঢাকা জুতা, সেলাইকৃত পোশাক; আর নারীদের জন্য চেহারা ঢাকার নেকাব ও হাতমোজা পরিধানসহ কিছু বিষয় নিষিদ্ধ হয়ে যায়। হাদিসে পাকে এসেছে—

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: "لَا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ الْقَمِيصَ وَلَا الْعِمَامَةَ وَلَا السَّرَاوِيلَ وَلَا الْبُرْنُسَ وَلَا الْخُفَّيْنِ، إِلَّا أَنْ لَا يَجِدَ النَّعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسْ الْخُفَّيْنِ وَلْيَقْطَعْهُمَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ"

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— ‘মুহরিম ব্যক্তি (পুরুষ) জামা, পাগড়ি, পায়জামা, টুপি বা মোজা পরিধান করবে না। তবে যদি কেউ স্যান্ডেল না পায়, তাহলে সে মোজা পরতে পারবে, তবে তা টাখনুর নিচ থেকে কেটে নিতে হবে।’ মুসলিম ২৬৬৩)

ইহরাম অবস্থায় পুরুষের জন্য সব ধরনের সেলাইকৃত পোশাক পরিধান নিষিদ্ধ। যেমন— পাঞ্জাবি, জুব্বা, ফতুয়া, শার্ট, পায়জামা, প্যান্ট, গেঞ্জি, কোট, সোয়েটার, টুপি, পাগড়ি, হাতমোজা ইত্যাদি। তবে ইহরামের কাপড় ছিঁড়ে গেলে তা সেলাই বা জোড়া দেওয়া, রিপু করা বা তালি লাগানো যেতে পারে— যদিও এমন সেলাই না থাকাই উত্তম। এ ছাড়া ইহরাম অবস্থায় পুরুষের জন্য মাথা ও মুখ ঢাকাও নিষিদ্ধ।

নারীদের ক্ষেত্রে ইহরামের বিধান কিছুটা ভিন্ন। তাদের জন্য সেলাইকৃত পোশাক পরিধান করা, মাথা ঢেকে রাখা বা পা ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ নয়। তবে ইহরাম অবস্থায় নারীদের জন্য চেহারা ঢাকার নেকাব ও হাতমোজা পরা নিষিদ্ধ। হাদিসে পাকে এসেছে—

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ ﷺ: لَا تَنْتَقِبُ الْمَرْأَةُ الْمُحْرِمَةُ، وَلَا تَلْبَسُ الْقُفَّازَيْنِ

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— ‘ইহরাম অবস্থায় কোনো নারী নেকাব পরবে না এবং হাতমোজাও পরবে না।’ (বুখারি ৫৮০৩)

ইহরাম একটি পবিত্র অবস্থা, যেখানে প্রতিটি কাজ ও আচরণে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। জুতা ব্যবহারের মতো ছোট বিষয়েও শরিয়তের নির্দেশনা মেনে চলা ইবাদতের পরিপূর্ণতার অংশ। তাই হজ বা ওমরার প্রস্তুতির সময় এসব বিধান ভালোভাবে জেনে ও মান্য করে চলাই একজন সচেতন মুমিনের দায়িত্ব।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়