শিরোনাম
◈ ঝুঁকিতে বিশ্বের ১৫ দেশ: আগামী ৫০ বছরে হারিয়ে যেতে পারে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ◈ আপা ডাকায় নয়, পুরোনো বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি: সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশা ◈ শার্শায় আইনজীবী মিন্টুকে গ্রেফতারচেষ্টা, গ্রামবাসীর বাধায় ব্যর্থ পুলিশ ◈ বিদেশি বিনিয়োগ আনা বাংলাদেশিদের পুরস্কৃত করবে সরকার ◈ জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে চুক্তি ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে, ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ◈ ইন্টারপোল রেড নোটিশভুক্ত নজরুল ইসলাম লিবিয়ায় গ্রেফতার ◈ এই বিজয় বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রের বিজয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: যে কারণে স্বপ্না হঠাৎ স্বামী সোহেল রানাকে মারতে তেড়ে যান ◈ তোফায়েলের জানাজা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, মুখ খুললেন হাছান মাহমুদ ◈ ন‌ভেম্ব‌রে ঢাকায় পুরুষ‌দের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল, থাক‌বে‌ ভিআরএস প্রযু‌ক্তি 

প্রকাশিত : ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৮:৩৯ সকাল
আপডেট : ১২ মে, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অহেতুক প্রাণী হত্যার পরিণতি: ইসলাম ও হাদিসের কঠোর সতর্কবার্তা

পৃথিবীতে প্রতিটি প্রাণই মহান আল্লাহর সৃষ্ট একেকটি আমানত। কাজেই মানুষের দায়িত্ব হচ্ছে সৃষ্টির প্রতি ন্যায়, মায়া ও সহানুভূতির আচরণ প্রদর্শন করা। কেননা ইসলাম কেবল মানবিক ন্যায়বিচার নয়, বরং প্রাণীর প্রতিও নৈতিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিয়েছে। আজকের বিশ্ব প্রাণী-অধিকার বিষয়ে আইন প্রণয়নকে আবশ্যক মনে করছে, অথচ দেড় হাজার বছর আগে মহানবী (সা.) প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা ও অহেতুক হত্যা সম্পর্কে এমন কঠোরতর সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন যে, তা আজও মানবিক সভ্যতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে আছে।

ইসলাম প্রাণীহত্যাকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেনি; জীবনধারণ, খাদ্য বা কোরবানির মতো প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রাণী জবাইয়ের অনুমোদন যেমন রয়েছে তেমনি অহেতুক নির্যাতন বা বিনোদনের উদ্দেশ্যে প্রাণী হত্যাকেও সম্পূর্ণরূপে হারাম বলে ঘোষনা করেছে। মহানবী (সা.)-এর বক্তব্যে এ বিষয়ে অত্যন্ত প্রগাঢ় সতর্কতা বর্ণিত হয়েছে= যার মাধ্যমে বোঝা যায়; একটি ক্ষুদ্র প্রাণীর জীবনও ঈমানের পরিপূর্ণতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

এক্ষেত্রে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির অন্যতম মর্মস্পর্শী হলো ছোট এক চড়ুই পাখিকে বিনা কারণে হত্যার বিষয়ে বর্ণিত হাদিস। মহানবী (সা.) বলেছেন: 

«مَنْ قَتَلَ عُصْفُورًا عَبَثًا عَجَّ إِلَى اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»

‘যে ব্যক্তি কোনো চড়ুইকে বিনা কারণে হত্যা করে, কিয়ামতের দিন সেই চড়ুই আল্লাহর কাছে আর্তনাদ করবে।

’ (সুনানে নাসায়ী আল-কুবরা ৪৩৪৬; আহমদ ২/১৮৫)
“প্রাণী ক্ষুদ্র হলেও জুলুম ক্ষুদ্র নয়” এই হাদিসে ইসলাম এই নীতি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছে।

এমন আরও একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা হলো সেই নারীকে নিয়ে, যিনি একটি বিড়ালকে বন্দী রেখে খাদ্য-পানীয় না দেওয়ায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হন। যা সহিহ বুখারির হাদিস ৩৩১৮ তে বর্ণিত হয়েছে। সেই প্রাণীটিকে হত্যা করেনি; কিন্তু উপেক্ষা ও অবহেলায় সে মারা যায়।

ইসলামী নৈতিকতার দৃষ্টিতে এ অবহেলাও বিরাট জুলুম বলে চিহ্নিত হয়েছে।
এমনকি প্রাণীকে খেলার নিশানা বানানোও ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। হাদিসে এসেছে-

عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدٍ قَالَ دَخَلْتُ مَعَ أَنَسٍ عَلَى الْحَكَمِ بْنِ أَيُّوبَ فَرَأٰى غِلْمَانًا أَوْ فِتْيَانًا نَصَبُوا دَجَاجَةً يَرْمُونَهَا فَقَالَ أَنَسٌ نَهٰى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ تُصْبَرَ الْبَهَائِمُ.

হিশাম ইবনু যায়দ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি আনাস-এর সঙ্গে হাকাম ইবনু আইয়ূবের কাছে গেলাম। তখন আনাস (রা.) দেখলেন, কয়েকজন তরুণ একটি মুরগী বেঁধে তার দিকে তীর ছুঁড়ছে।

আনাস (রা.) বললেনঃ মহানবী (সা.) জীবজন্তুকে বেঁধে এভাবে তীর ছুঁড়তে নিষেধ করেছেন। (বুখারি, হাদিস ৫৫১৩)
এ নির্দেশনার মাধ্যমে ইসলাম জীবন্ত প্রাণী দিয়ে খেলা, কসরত বা বিনোদনমূলক সহিংসতার সব রূপকে নিষেধ করে দিয়েছে। 

আবার অন্যদিকে প্রয়োজনীয় জবাইয়ের ক্ষেত্রেও দয়া ও সৌন্দর্য বজায় রেখে তা সম্পাদন করার ব্যঅপারেও ইসলামের নির্দেশ রয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন—

«إِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذِّبْحَ»

`যখন তোমরা জবাই করবে, তখন সুন্দরভাবে জবাই কর।’  (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯৫৫)

সুন্দরভাবে জবাই করার মধ্যে রয়েছে ধারালো ছুরি ব্যবহার, প্রাণীকে কোনো ধরনের ভয় না দেখানো, তার সামনে অন্য প্রাণীকে জবাই না করা ইত্যাদি। যার সবগুলোই ইসলামের মহৎ প্রাণীনীতিকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।

আমাদের মনে রাখতে হবে ইসলাম প্রাণীদের উপর অত্যাচারকে কেবল অন্যায় নয়, বরং আধ্যাত্মিক অপরাধ হিসেবেও নিরূপণ করে। তাই কোনো প্রাণীকে ক্ষুধায় কষ্ট দেওয়া, তার উপর অতিরিক্ত বোঝা চাপানো, কোনো প্রাণীকে ভয় দেখানো; এগুলোও দৃঢ়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।    ইসলামের প্রাণীনীতিতে জান্নাতপ্রাপ্ত সেই ব্যক্তির হাদিসটি স্মরণীয়, যিনি পিপাসায় কাতর একটি কুকুরকে পানি পান করানোর কারণে মহানবী (সা.) তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ بَيْنَمَا رَجُلٌ يَمْشِي بِطَرِيقٍ اشْتَدَّ عَلَيْهِ الْعَطَشُ فَوَجَدَ بِئْرًا فَنَزَلَ فِيهَا فَشَرِبَ ثُمَّ خَرَجَ فَإِذَا كَلْبٌ يَلْهَثُ يَأْكُلُ الثَّرَى مِنَ الْعَطَشِ فَقَالَ الرَّجُلُ لَقَدْ بَلَغَ هَذَا الْكَلْبَ مِنَ الْعَطَشِ مِثْلُ الَّذِي كَانَ بَلَغَ مِنِّي ‏.‏ فَنَزَلَ الْبِئْرَ فَمَلأَ خُفَّهُ مَاءً ثُمَّ أَمْسَكَهُ بِفِيهِ حَتَّى رَقِيَ فَسَقَى الْكَلْبَ فَشَكَرَ اللَّهُ لَهُ فَغَفَرَ لَهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنَّ لَنَا فِي هَذِهِ الْبَهَائِمِ لأَجْرًا فَقَالَ ‏"‏ فِي كُلِّ كَبِدٍ رَطْبَةٍ أَجْرٌ ‏"

আবূ হুরাইরাহ (রা.) হতে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: জনৈক লোক কোন রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল, এমতাবস্থায় সে খুব তৃষ্ণার্ত হলো। সে একটি কূপ দেখতে পেয়ে তাতে নেমে পড়ল এবং পানি পান করল। তারপর সে বেরিয়ে এলো। সে সময় দেখতে পেল যে, (তৃষ্ণায় কাতর) একটি কুকুর জিভ বের করে হাপাচ্ছে আর মাটি চাটছে। লোকটি (মনে মনে) বলল, কুকুরটিকে আমার মতো তীব্র তৃষ্ণায় পেয়েছে। তখন সে কুয়ায় নামল এবং তার (চামড়ার) মোজায় পানি ভরল। তারপরে সে তার মুখে বন্ধ করে উপরে উঠল এবং কুকুরটিকে পান করাল। মহান আল্লাহ তার (এ আমলের) কদর করলেন এবং তাকে মাফ করে দিলেন। (সাহাবীগণ) প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! তাহলে কি আমাদের জন্য এসব প্রাণীর ব্যাপারেও (সদাচরণে) সাওয়াব রয়েছে? তিনি বললেন, প্রতিটি তাজা কলিজায় সাওয়াব রয়েছে।  (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২৪৪)

আজকের দুনিয়ায় অহেতুক প্রাণি শিকার, চিড়িয়াখানাগুলোয় প্রাণি নির্যাতন, নানন কসরত ও বিনোদনের নামে পশুর ওপর সহিংসত আচরণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ ইসলাম আমাদের মনে করিয়ে দেয়  প্রতিটি জীবনিই মহান আল্লাহর আমানত। আর অমানতের হেফাজতই ঈমানের দাবি; তার অবমাননা বড় ধরনের গোনাহ।

মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে ইসলামের প্রকবৃত শিক্ষা অনুধাবন করে আমার চারপাশের প্রাণিদের সাথে ইসলামের প্রাণীনীতির আলোকে আচরণ করার তাওফিক দান করুন। 

সূত্র: কালের কণ্ঠ 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়