গাজার ৭০ ভাগ ভূখণ্ড দখল করে নিতে নিজের সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। পাশাপাশি লেবাননে তাণ্ডবলীলা চালাচ্ছে তার বাহিনী। তারা লেবাননের কৌশলগত বিউফোর্ট দুর্গ দখল করে নিয়েছে। একের পর এক এলাকা দখল করছে তারা। তাদের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে লেবাননের বিউফোর্ট দুর্গ দখল করে নেয়ার পর এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্স। লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন সম্প্রসারণে বিশ্বব্যাপী নিন্দা জানানো হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন বলেছেন, লেবাননে চলমান এই বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার কোনো যৌক্তিকতা নেই। একই সঙ্গে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক আহ্বানের অনুরোধ জানিয়েছে ফ্রান্স।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেতে কুপার ইসরাইলকে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই উত্তেজনা কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ সংকুচিত করেছে। জার্মানির ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের রাজনীতিক জোহান ওয়াল্টার রুডলফ ইসরাইলের অগ্রযাত্রাকে গভীর উদ্বেগের কারণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সব পক্ষকে শত্রুতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের স্থল অভিযান সম্প্রসারণ এবং অব্যাহত হামলার নিন্দা জানিয়ে এটিকে গুরুতর উত্তেজনা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে কাতার। মিশরীয় রাজনীতিক ও কূটনীতিক বদর আবেদলাত্তি লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে লেবাননের প্রতি কায়রোর সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি লেবাননের সব ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের ঘোষিত ‘বাফার জোন’ বা নিরাপত্তা বলয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসরাইল একাধিক দিক থেকে বিস্তৃত স্থল অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও লেবাননি সামরিক বিশ্লেষক হাসান জুনি। আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জুনি বলেন, ইসরাইলি সেনাবাহিনী বিভিন্ন অক্ষ বরাবর অগ্রসর হয়ে স্থল তৎপরতা জোরদার করছে। এটি তাদের অভিযানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত। তার মতে, বিউফোর্ট দুর্গ এখন ইসরাইলি অভিযানের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত এই ঐতিহাসিক দুর্গটি ওয়াদি আল-স্লুকি এবং লিতানি নদী অঞ্চলের ওপর কৌশলগত নজরদারির সুযোগ দেয়। জুনি বলেন, এটি এমন একটি এলাকা, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলছিল। এমনকি দুই থেকে তিন মাস আগেও এই এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তারা নদী অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। এখন তারা বিউফোর্ট দুর্গের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সেখানে নিজেদের পতাকা উত্তোলন করেছে। তিনি জানান, নিকটবর্তী পাহাড়ি শহর ঘান্দুরিয়েহতে পরিচালিত গৌণ অভিযানগুলোর লক্ষ্য ছিল দুইটি পর্বতশ্রেণির মধ্যবর্তী বাফার জোন নিরাপদ করা। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলের দিব্বিন অক্ষ মূলত অবস্থান ধরে রাখার ভূমিকা পালন করছে।
জুনি বলেন, আজ আমরা দুই ভিন্ন কৌশলের সংঘর্ষ দেখছি। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কৌশল হলো হিজবুল্লাহকে ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়ে উত্তর ইসরাইলকে লক্ষ্যবস্তু বানানো থেকে বিরত রাখা। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর কৌশল, আগে যেমন ছিল এখনও তেমনই, উত্তর ইসরাইলকে ক্রমাগত হামলার আওতায় রাখা।
সূত্র: মানবজমিন