শিরোনাম
◈ বা‌র্সেলেনার কা‌ছে শি‌রোপা হারা‌নোর পর সুপার কাপকে কম গুরুত্বপূর্ণ বললেন রিয়াল মা‌দ্রিদ কোচ ◈ প্রাক-নির্বাচনী জরিপে জামায়াতের চেয়ে ১.১% এগিয়ে বিএনপি ◈ ক্রীড়া উপদেষ্টার দেওয়া বক্তব্য আইসিসির সরাসরি কোনো জবাব নয় বলে জানালেন উপ-প্রেস সচিব ◈ নির্বাচন ডাকাতি আর কখনো না ঘটতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ◈ বিতর্কিত তিন নির্বাচন নিয়ে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন জমা ◈ ঢাকায় নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ◈ জাপানে এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য—জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে আকিয়ে আবের সঙ্গে ইউনূসের বৈঠক ◈ শ্রমিকের অধিকার নিজেরা  ছিনিয়ে না নিলে কখনো অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না: মঈন খান ◈ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সচিবালয়ে ব্যানার ◈ চার দেশের বাংলাদেশ মিশনের প্রেস সচিবকে দেশে ফিরে আসার নির্দেশ

প্রকাশিত : ০৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৩০ রাত
আপডেট : ১২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভেনেজুয়েলায় মুসলমানদের ইতিহাস ও আধুনিক অবস্থান

আজকের পত্রিকা: দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর উপকূলে ক্যারিবীয় সাগরের তীরে অবস্থিত রাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা। ভেনেজুয়েলার ভূ-প্রকৃতি উত্তরে আন্দিস পর্বতমালার সুউচ্চ পর্বতচূড়াগুলো থেকে দক্ষিণের ক্রান্তীয় অরণ্য পর্যন্ত বিস্তৃত। এর মধ্যভাগে আছে তৃণময় সমভূমি ও রুক্ষ উচ্চভূমি এবং উপকূলজুড়ে রয়েছে নয়নাভিরাম বেলাভূমি। ভেনেজুয়েলার রাজধানী ও বৃহত্তম শহরের নাম কারাকাস।

ভেনেজুয়েলা ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি স্পেনীয় উপনিবেশ ছিল। ১৯ শতকের শুরুতে দক্ষিণ আমেরিকার যেসব স্পেনীয় উপনিবেশ প্রথম স্বাধীনতা ঘোষণা করে, তাদের মধ্যে ভেনেজুয়েলা ছিল অন্যতম। পূর্বে এটি ভেনেজুয়েলা প্রজাতন্ত্র নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৯ সালে এর নাম সরকারিভাবে বদলে ভেনেজুয়েলা বলিভারীয় প্রজাতন্ত্র রাখা হয়।

নামটি ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতায় অবদান রাখা সামরিক নেতা সিমন বলিভারের নামে রাখা। স্বাধীনতা লাভের পর ভেনেজুয়েলা অন্তর্সংঘাত ও স্বৈরশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে পার হয়েছে। ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর শক্তিশালী প্রভাব আছে। ১৯৫০-এর দশকের শেষ থেকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার দেশটি শাসন করে আসছে।

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদন ২০২১’-এর তথ্য মতে, ভেনেজুয়েলার মোট জনসংখ্যা ২৯ মিলিয়ন, তার মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা এক থেকে দেড় লাখ। যেখানে একসময় এ অঞ্চলে মুসলিমের সংখ্যা ছিল একেবারেই কম। কিন্তু ধীরে ধীরে এ দেশের মুসলমানরা দেশটির সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। এখন সেখানে মসজিদ, ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং হালাল বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। ভেনেজুয়েলায় প্রথম মুসলমানদের আগমন ঘটে ঔপনিবেশিক যুগে, উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আনা দাস আফ্রিকানদের মাধ্যমে।

ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তাদের তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর কঠোর দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়। ফলে তারা গোপনে ইসলামচর্চা চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

ভেনেজুয়েলায় আধুনিক মুসলিম সমাজের ভিত্তি গড়ে ওঠে উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিশ শতকের শুরুর দিকে, যখন উসমানীয় শাসনের অধীনে লেভান্ত অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। দারিদ্র্য, অস্থিরতা ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে লেবানন, সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের অভিবাসীরা ভেনেজুয়েলায় আসতে শুরু করে। যদিও প্রাথমিক অভিবাসীদের অনেকেই ছিলেন খ্রিস্টান, তবু সুন্নি, শিয়া ও দ্রুজ মুসলমানদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ তাদের সঙ্গে বসতি স্থাপন করে।

মুসলিম অভিবাসীরা প্রথমে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে প্রবেশ করে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী হিসেবে, যাদের স্থানীয়ভাবে কোতেরো বলা হতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব ব্যবসায়ী স্থায়ী দোকান মালিকে পরিণত হন, বিশেষত কারাকাসে, যেখানে ‘লা তুরকেরিয়া’ নামে পরিচিত বাণিজ্যিক এলাকা গড়ে ওঠে। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা তাদের ব্যবসাকে আলাদা পরিচিতি দেয় এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি ত্বরান্বিত করে।

বিশ শতকের মধ্যভাগে ভেনেজুয়েলার তেলভিত্তিক অর্থনৈতিক বিস্তার মধ্যপ্রাচ্য থেকে দ্বিতীয় দফায় মুসলমানদের ভেনেজুয়েলায় আসতে আকৃষ্ট করে। তারা তখন খুচরা ব্যবসার বাইরে শিল্প, সেবা ও পেশাজীবী খাতে অগ্রসর হন। ১৯৭০-এর দশকের শেষ নাগাদ দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের আরব-ভেনেজুয়েলানদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষা প্রায় সর্বজনীন হয়ে ওঠে। এর ফলে চিকিৎসা, প্রকৌশল, উচ্চশিক্ষা ও সরকারি প্রশাসনে তাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি গড়ে ওঠে।

ভেনেজুয়েলায় ইসলামের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রতীক হলো কারাকাসে অবস্থিত শেখ ইব্রাহিম বিন আবদুল আজিজ আল ইব্রাহিম মসজিদ। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে সম্পন্ন হওয়া এই উসমানীয় ধাঁচের স্থাপনায় লাতিন আমেরিকার সর্বোচ্চ মিনার রয়েছে এবং এটি ধর্মীয়, শিক্ষামূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। ইবাদতের পাশাপাশি এখানে গ্রন্থাগার, সম্মেলন, ক্রীড়া কার্যক্রম ও সামাজিক সেবাও পরিচালিত হয়, যা রাজধানীতে ইসলামের প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতিকে আরো সুদৃঢ় করেছে।

ইসলামী পরিচয় টিকিয়ে রাখতে কারাকাস ও মার্গারিটা দ্বীপের ইসলামী স্কুলগুলোতে জাতীয় পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধ ও আরবি ভাষা শিক্ষা দেওয়া হয়। এ ছাড়া এই অঞ্চলে হালাল বাজারের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান, তুরস্কসহ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সঙ্গে ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হওয়ায় মুসলিম সম্প্রদায়ের দৃশ্যমানতা বেড়েছে। রমজানের মতো ইসলামী অনুষ্ঠানের সরকারি স্বীকৃতি ইসলামকে জাতীয় জীবনের একটি বৈধ ও সম্মানিত অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তথ্যসূত্র : হাওজাহ নিউজ এজেন্সি ডটকম ও ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদন ২০২১’

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়