শিরোনাম
◈ বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ◈ এশিয়ান গেমস ক্রিকে‌টে বাংলা‌দেশসহ ১০ দল চূড়ান্ত, অ‌ক্টোব‌রে খেলা হ‌বে জাপা‌নে  ◈ গ‌্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিমের হুম‌কি‌তে আ‌মি প্রস্রাব ক‌রে দেই, আইপিএলের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শোনালেন ললিত মো‌দি ◈ আগস্টে ইউপি নির্বাচনের তফসিল, আচরণবিধিতে আসছে বড় পরিবর্তন ◈ হামে ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ৬১০, ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল আরও ৫ শিশুর ◈ পাহাড়ি অঞ্চলে সফল আর্লি ওয়ার্নিং মডেল: আগাম সতর্কবার্তায় কমছে প্রাণহানি, ভূমিধস মোকাবিলায় নতুন আশার আলো ◈ মার্কিন ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ‘পাবলিক’ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ◈ মিথ্যা কাহিনি ও জাল কাগজে অ্যাসাইলাম, হাজারো আবেদন বাতিলের হুঁশিয়ারি ◈ ট্রাম্পের অকথ্য ভাষায় গালাগাল প্রসঙ্গে নেতানিয়াহুে এবার যা বললেন ◈ মধ্যপ্রাচ্যের যে ১৪ দেশে নতুন সতর্কতা জারি করল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৫৫ দুপুর
আপডেট : ০১ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হিমালয়ের বরফের নিচে রহস্যময়ভাবে লুকিয়ে আছে আমেরিকার পরমাণু ডিভাইস!

রুশ-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধের উত্তাল সেই সময়ে, ১৯৬৫ সালে চীন যখন পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালিয়েছে, ঠিক তখনই ভারতের নন্দা দেবীর চূড়ায় এক গোপন ও মারাত্মক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা- সিআইএ। চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নজরদারি করতে পর্বতের উপরে একটি পারমাণবিক শক্তি চালিত অ্যান্টেনা স্থাপন করাই ছিল এই অভিযানের লক্ষ্য। 

কিন্তু তুষারঝড়ে ব্যর্থ হয় সেই দুঃসাহসিক অভিযান এবং প্রায় তিন দশক ধরে একটি ভয়ঙ্কর গোপন রহস্য হিমালয়ের বরফের নিচে চাপা পড়ে আছে, নিখোঁজ একটি প্লুটোনিয়ামযুক্ত পারমাণবিক জেনারেটর। 

আমেরিকান বিমান বাহিনীর প্রধান জেনারেল কার্টিস লেমে এক ককটেল পার্টিতে এভারেস্ট আরোহী ব্যারি বিশপের কাছ থেকে জানতে পারেন, হিমালয়ের চূড়া থেকে তিব্বত ও চীনের গভীরে স্পষ্ট নজর রাখা সম্ভব। এরপরেই সিআইএ বিশপকে ছদ্মবেশী একটি গোপন অভিযানের আয়োজন করতে বলে। 

'সিকিম বৈজ্ঞানিক অভিযান' নামে এই ছদ্মবেশী দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিশপ। ভারতও নীরবে এই অভিযানে যোগ দেয়, কারণ ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর চীনকে নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগ ছিল। তবে, এই অভিযানে ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দেয়া ক্যাপ্টেন এম এস কোহলি প্রথম থেকেই সন্দিহান ছিলেন।

কোহলি পরে বলেন, এটা ছিল অর্থহীন অভিযান। সিআইএ প্রথমে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘায় ডিভাইসটি স্থাপনের পরামর্শ দিলে কোহলি বলেছিলেন, যারা সিআইএকে পরামর্শ দিচ্ছে, তারা নির্বোধ। শেষ পর্যন্ত তারা অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার নন্দা দেবীকে বেছে নেন।

১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বরে অভিযান শুরু হয়। আরোহণকারীদের হেলিকপ্টারে করে উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়, ফলে তাদের সঠিকভাবে আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার সুযোগ ছিল না। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তবে ওই সময় প্লুটোনিয়াম উষ্ণতা জুগিয়েছিল। তেজস্ক্রিয় জ্বালানিটি তাপ নির্গত করত, যার ফলে শেরপারা এটিকে বহন করার জন্য নিজেদের মধ্যে কাড়াকাড়ি করত।

কোহলি স্মরণ করে বলেন, তখন আমরা বিপদের মাত্রা সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। ১৬ অক্টোবর চূড়ার কাছাকাছি পৌঁছানোর পর মারাত্মক তুষারঝড় শুরু হয়। ভারতীয় আরোহী সোনম ওয়াংয়াল বলেন, আমরা ৯৯ শতাংশ মৃত ছিলাম। আমাদের খালি পেট, পানি নেই, খাবার নেই, আর আমরা পুরোপুরি ক্লান্ত।

নিচের অ্যাডভান্স বেস ক্যাম্প থেকে ক্যাপ্টেন কোহলি বেতার মারফত নির্দেশ দেন,  ক্যাম্প ফোর, এটা অ্যাডভান্স বেস। তোমরা কি শুনতে পাচ্ছ? ... জলদি ফিরে এসো... এক মিনিটও নষ্ট করো না। সরঞ্জাম সুরক্ষিত করো। নিচে নামিও না।

বাধ্য হয়ে, আরোহীরা ক্যাম্প ফোরের কাছে একটি বরফের খাঁজে সব সরঞ্জাম, যার মধ্যে নাগাসাকির বোমায় ব্যবহৃত প্লুটোনিয়ামের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ধারণকারী ১৩ কেজি ওজনের পারমাণবিক জেনারেটর ছিল, সেটি লুকিয়ে রেখে দ্রুত প্রাণ বাঁচাতে নিচে নেমে আসেন।

পরের বছর দলটি ডিভাইসটি উদ্ধারের জন্য ফিরে আসে। কিন্তু সেটি উধাও, পুরো সরঞ্জামসহ বরফের খাঁজ, বরফ ও পাথর একটি তুষারধসে সম্পূর্ণভাবে ভেসে গিয়েছিল। কোহলির স্মরণ করেন, সিআইএ কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, ওহ মাই গড, এটা খুব খুব গুরুতর হবে। এগুলো প্লুটোনিয়াম ক্যাপসুল!

পরবর্তী সময়ে রেডিয়েশন ডিটেক্টর এবং ইনফ্রারেড সেন্সর ব্যবহার করে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হলেও ডিভাইসটির কোনো চিহ্ন মেলেনি। আরোহী জিম ম্যাককার্থি বলেছিলেন, সেই অভিশাপ দেওয়া জিনিসটা খুব গরম ছিল। এটা নিজের চারপাশের বরফ গলিয়ে ধীরে ধীরে আরও নিচে ডুবে যেতে পারে। 

এই অভিযান ব্যর্থ হয় এবং এর গোপনীয়তা ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত বজায় ছিল। এরপর হাওয়ার্ড কোন নামের এক তরুণ সাংবাদিক এই গল্পটি প্রকাশ করেন আউটসাইড ম্যাগাজিনে। ঘটনাক্রমে বিশাল কেলেঙ্কারি শুরু হয়। ভারতে বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান তোলে, সিআইএ আমাদের পানিতে বিষ মেশাচ্ছে।

আড়ালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোরার্জি দেশাই দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য কাজ শুরু করেন। ব্যক্তিগত চিঠিতে কার্টার সমস্যা মোকাবেলায় দেশাইয়ের ভূমিকার প্রশংসা করে এটিকে একটি দুর্ভাগ্যজনক বিষয় বলে উল্লেখ করেন। তবে প্রকাশ্যে উভয় দেশই নীরব থাকে।

এই প্লুটোনিয়াম এখনও গঙ্গায় গিয়ে মেশার আশঙ্কা তৈরি করে। ৯২ বছর বয়সী জিম ম্যাককার্থি এখনও ক্ষোভে কাঁপতে কাঁপতে বলেন, আপনি গঙ্গার পানিতে প্লুটোনিয়াম ফেলে যেতে পারেন না! আপনারা জানেন কি, কত মানুষ গঙ্গার ওপর নির্ভরশীল?

ক্যাপ্টেন কোহলি মৃত্যুর আগে আফসোস করে বলেছিলেন, সিআইএ আমাদের অন্ধকারে রেখেছিল। তাদের পরিকল্পনা ছিল নির্বোধের মতো, তাদের কাজ ছিল নির্বোধের মতো, যিনি তাদের পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি নির্বোধ। আর আমরা তাতে জড়িয়ে পড়েছিলাম। তিনি চুপিসারে যোগ করেন, পুরো বিষয়টি আমার জীবনের একটি দুঃখজনক অধ্যায়। এজন্য নিজেকে কখনই ক্ষমা করতে পারবো না।

সূত্র: একাত্তর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়