শিরোনাম
◈ গ্যাসে স্টেশনে লিকেজ: কক্সবাজারে বিস্ফোরণে আহত ১৫, এলাকায় সতর্কতা (ভিডিও) ◈ সৌদি থেকে নারী ফিরলেন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে, অন্যজন মানসিক ভারসাম্যহীন ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের সি‌রি‌জের প্রথম টেস্ট ১৩ আগস্ট ◈ রাষ্ট্রপতিকে সংসদের প্রথম অধিবেশনে অভিসংশন করতে হবে, এরপর গণহত্যার দায়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে: নাহিদ ইসলাম ◈ পাসপোর্টের 'দালাল' নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তে সমালোচনা কেন ◈ দেশের রিজার্ভে বড় সুখবর, ছাড়াল ৩৫ বিলিয়ন ডলার ◈ ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটিতে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী যারা ◈ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এবার পাঁচ কর্মকর্তা বদলি ◈ দেশে আবারও মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত ◈ আলমারি ভর্তি রুপি মিলল সরকারি কর্মকর্তার বাড়িতে

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০১:০৯ দুপুর
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০২:০৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সরকারি দামে মিলছে না সার, দিশাহারা কৃষক!

সরকারি হিসাবে সারের সংকট নেই। দামও নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। তবু দিশাহারা কৃষক। সিন্ডিকেট করে সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করায় চাপে পড়েছেন কৃষকরা।

ফলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে খাদ্যনিরাপত্তায়। কৃষকরা বলছেন, কৃষিপণ্য উৎপাদনের মৌসুমে ডিলাররা সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন। নজরদারির অভাবে বেপরোয়া ডিলার-খুচরা বিক্রেতাচক্র সারা দেশে সারের দামে অরাজকতা তৈরি করেছে। সূত্র : সমকাল 

বিএডিসি বলছে, গুদামে সার রাখার জায়গা পর্যন্ত নেই। অথচ মাঠ পর্যায়ে চিত্র ভিন্ন। সরকার নির্ধারিত এক বস্তা ইউরিয়া সারের দাম ১ হাজার ২৫০ টাকা হলেও কৃষককে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ টাকা। ডিএপি সারের ক্ষেত্রেও চিত্র একই। বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে, যা শুধু উৎপাদন খরচই বাড়িয়ে দিচ্ছে না; খাদ্য নিরাপত্তাকেও শঙ্কায় ফেলছে।
 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের বড় অংশ আসে বোরো মৌসুমে। এই সময়ে সারের বাজারে অনিয়ম চলতে থাকলে উৎপাদন খরচ বাড়বে, এতে ফলনে ধাক্কা লাগবে। শেষ পর্যন্ত বাজারে চালের দামে প্রভাব পড়তে পারে। তাই বরাদ্দ ও মজুতের হিসাব নয়; মাঠ পর্যায়ে কার্যকর তদারক জরুরি।

কাগজে মজুদ, বাজারে অস্থিরতা
এখন বোরো মৌসুম।

দেশের প্রায় ৫০ লাখ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়। এই মৌসুমে সোয়া ২ কোটি টন চাল উৎপাদিত হয়, যা সারা বছরের চাল সরবরাহের প্রধান ভরসা। বোরো সম্পূর্ণভাবে বীজ, সার ও সেচনির্ভর। উপকরণের দাম বাড়লে 
উৎপাদন খরচ সরাসরি বেড়ে যায়। শুধু ধান নয়। এই সময় আলু, পেঁয়াজ, সরিষা, বিভিন্ন সবজি উৎপাদনও চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকে। ফলে সারের বাজারে অস্থিরতা মানে পুরো খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা।

গত আমন মৌসুমেও দেড় কোটি টনের বেশি চাল উৎপাদন হয়েছে, যা প্রক্ষেপণ অনুযায়ী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টন। ফলন ভালো হলেও কৃষকের বাড়তি দামে সার কিনতে হয়েছিল। কিছু অভিযানে ডিলারদের জরিমানা করা হলেও বাজারদর কমেনি।

সরকারি হিসাবে সারের সংকট নেই। গুদামে রয়েছে পর্যাপ্ত মজুদ। তবে মাঠ পর্যায়ে কৃষকের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। কেজি হিসাবে ইউরিয়ার দাম সরকার নির্ধারিত ২৭ টাকা। তবে কৃষকের ২ থেকে ৫ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। টিএসপির নির্ধারিত ২৭ টাকার বিপরীতে ৩ থেকে ১৩ টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়া হচ্ছে। ২১ টাকার ডিএপি বিক্রি হচ্ছে ৭ থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে। ২০ টাকার এমওপি কিনতে হচ্ছে ৩ থেকে ৮ টাকা বেশি দিয়ে।

কৃষকের অভিযোগ, পরিবহন ঠিকাদার ও ডিলারের একটি চক্র অবৈধভাবে সার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। সরকারি গুদামে সার থাকলেও খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে বাড়তি দাম আদায় করা হচ্ছে। একই ব্যক্তি বা তার স্বজনের নামে একাধিক ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। 
সার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে সরকার ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ-সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০০৯’ সংশোধন করেছে। সংশোধিত নীতিমালার মাধ্যমে বিতরণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার কথা বলা হচ্ছে। তবে নতুন নীতিমালা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার আগেই পুরনো চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) ব্যানারে একটি অংশ নীতিমালার বিরোধিতা করছে এবং তা ধীরে বাস্তবায়নের দাবি তুলছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারের হিসাবে সাড়ে ৫ লাখ টন ইউরিয়া, ৩ লাখ ২১ হাজার টন টিএসপি, ৫ লাখ ৩৩ হাজার টন ডিএপি এবং ৩ লাখ ৩১ হাজার টন এমওপি সারের মজুদ রয়েছে। উপজেলা পর্যায়েও চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে বরাদ্দ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিছু সারের ক্ষেত্রে গত বছরের চেয়ে পরিমাণ কমেছে। চলতি ফেব্রুয়ারিতে টিএসপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭৫ হাজার ৫০০ টন, যেখানে গত বছর ছিল ৮০ হাজার ৮০০ টনের বেশি। ডিএপি বরাদ্দ ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩০০ টন, গত বছর ছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার টনের বেশি। এমওপির বরাদ্দ বেড়ে হয়েছে ৬৭ হাজার ৮০০ টন। যদিও এই পার্থক্য খুব বড় নয়, ভরা মৌসুমে সামান্য ঘাটতিও বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ভরা মৌসুম শুরু হয়েছিল। তখন একই অভিযোগ উঠেছিল– সরকার সারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। এখন সরকার গঠন করেছে বিএনপি। কৃষি মন্ত্রণালয়ে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। জেলা পর্যায়েও নির্বাচিত প্রতিনিধি আছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমন্বিত নজরদারি থাকলে এখনো বাড়তি দামে সার বিক্রি বন্ধ সম্ভব।

জেলায় জেলায় কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত দামে কৃষকের হাঁসফাঁস
১১ জেলায় সমকাল প্রতিনিধিরা অনুসন্ধান চালিয়ে দেখেছেন, সব জেলায় সারের একই পরিস্থিতি। সরকারি হিসাবে কোথাও বলা হচ্ছে, পর্যাপ্ত মজুদ। আবার কোথাও ডিলার সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকটের ফাঁদে পড়ে কৃষককে বাড়তি দামে সার কিনতে হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি বিভাগ বলছে, বোরো মৌসুমে সারের ঘাটতি নেই। জেলার মোট আবাদি জমি ৯৪ হাজার ২০ হেক্টর। চার উপজেলায় বিসিআইসি অনুমোদিত ৫০ এবং বিএডিসির ৯৩ জন ডিলার রয়েছেন। তবু অভিযোগ উঠেছে, হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার সারের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। একই ব্যক্তি বিসিআইসি ও বিএডিসির ডিলারশিপ পেয়েছেন– এমন অভিযোগও রয়েছে। ইউনিয়নের বাসিন্দা না হয়েও ডিলারশিপ পাওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের মেসার্স হাবিবুর রহমান, মেসার্স আনসার আলী, গড়াইটুপি ইউনিয়নের মেসার্স আনোয়ার ট্রেডার্স, বেগমপুর ইউনিয়নের মেসার্স আকবার আলী ও তিতুদহ ইউনিয়নের মেসার্স হুদাবুর রহমান; দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের মেসার্স জগবন্ধু বসু, মেসার্স শম্ভু গোপাল বসু। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের ডিঙ্গেদহর আনসার আলী, আকবার আলী ও আনোয়ার হোসেন তিন ভাই। তাদের মধ্যে অন্য ইউনিয়নে ডিলারশিপ নিয়ে ব্যবসা করছেন আনোয়ার হোসেন ও তাঁর ভাই আকবার আলী। আকবার আলীর নামেই রয়েছে বিসিআইসি ও বিএডিসির ডিলারশিপ।  

তবে জেলা সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো আকবার আলী বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী ডিলারশিপ পেয়েছি, সে অনুযায়ী ব্যবসা করছি। কৃষকের দাবি, মৌসুমের শুরুতেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। 

গাইবান্ধা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাত উপজেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশ ও ডিএপির প্রায় পুরো চাহিদাই মজুত রয়েছে। সরকারি নির্ধারিত দাম– ইউরিয়া ২৭ টাকা, টিএসপি ২৭ টাকা, পটাশ ২০ টাকা ও ডিএপি ২১ টাকা কেজি। তবে খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৫ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ করছেন কৃষকরা। রসিদ চাইলে সার না দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের মাঠবাজার গ্রামের কৃষক সাগির মিয়া বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার বোরো চাষে খরচ বেড়েছে। বিশেষ করে প্রতিকেজি সার ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। পাশাপাশি গত বছরের চেয়ে এবার কীটনাশকের দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে বোরো রোপণে উৎপাদন খরচ আগের চেয়ে বেড়েছে।

দিনাজপুরে ফেব্রুয়ারিতে সারের বরাদ্দ কম পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি চাহিদার চেয়ে কম এসেছে; এমন তথ্য কৃষি দপ্তরই দিয়েছে। ফলে বাজারে ‘সংকটের অজুহাত’ দেখিয়ে বাড়তি দাম আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এক বিঘা জমিতে বোরো আবাদে খরচ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা; লাভ ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার বেশি নয়। সেখানে সারের দাম বাড়লে লাভ প্রায় শূন্যে নেমে আসে। দিনাজপুর সদর উপজেলার শেখপুরা ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম ৭২ শতক জমিতে বোরো আবাদ করছেন। তিনি বলেন, আমার জমির জন্য টিএসপি সার কিনতে গিয়েছি, পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারে যে দাম তার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। 

একই উপজেলার দক্ষিণনগর এলাকার কৃষক বেনুরাম সরকার জানান, অনেক কৃষকই সার পাচ্ছেন না। অতিরিক্ত দাম দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। সারের কিছুটা সংকট রয়েছে। 

রাজশাহীতে বাগমারা, তানোর, বাঘা ও চারঘাটের কৃষকরা বলছেন, সরকারি দামে সার পাওয়া যায় না; বেশি দিলে মিলছে। এক বস্তা টিএসপি ১ হাজার ৫০ টাকার বদলে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রির অভিযোগ আছে। বাগমারায় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তির বাড়ি থেকে শত শত বস্তা সার উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। তবে জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, মাঠে ৬ হাজার টন সার সরবরাহ আছে; সংকট নেই। তানোরের কৃষক রুবেল হোসেন বলেন, সরকারি দামে সার পাওয়া যায় না। বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাও পর্যাপ্ত পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারি দামের চেয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে।

যশোরের কৃষকরা জানাচ্ছেন, ইউরিয়া ও ডিএপি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু বিসিআইসি ডিলার বরাদ্দের সার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে পছন্দের খুচরা বিক্রেতার কাছে ছাড়ছেন। ডিলারদের দাবি, কমিশন কম। পরিবহন ও ক্ষয়ক্ষতির খরচ তুলতে বাড়তি দাম নেওয়া হয়।

মণিরামপুরের রোহিতার কৃষক নাজমুল বলেন, মৌসুমের সময় বেশি দামে সার কিনতে হয়। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিকল্পিত সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। সরকারি ডিলারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সার পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ গ্রামের খুচরা দোকানে বেশি দামে মিলছে সেই সার। 

খুলনার কয়রায় মৌসুমের মাঝামাঝি এসে ইউরিয়া ও ডিএপিতে কেজিপ্রতি ৩ থেকে ১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। মাত্র কয়েক কিলোমিটার ব্যবধানে দামের তারতম্যও চোখে পড়ছে। কয়রার হরিকাটি গ্রামের কৃষক সুশান্ত মণ্ডল জানান, এলাকার হাতিয়ারডাঙ্গা বাজার থেকে চিকন দানার ইউরিয়া সার কিনেছেন ৩৬ টাকা কেজি দরে। একই সার ৪ কিলোমিটার দূরের আমাদি বাজার থেকে ৩৩ টাকায় কিনেছেন তিনি। মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরত্বে দামের তারতম্য দেখে অবাক এই কৃষক।

নওগাঁর মান্দা, মহাদেবপুর, নিয়ামতপুর, পোরশা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকায় সার বিক্রি হচ্ছে খুচরায়। চাহিদা বাড়ার সুযোগে কিছু বিক্রেতা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কৃষকরা। খুচরা দোকানে ৫০ কেজির ‘বাংলা ডিএপি’ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকায়। বেসরকারিভাবে আমদানি করা ‘ডিকে’ ব্র্যান্ডের ডিএপি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। অথচ সরকার নির্ধারিত কৃষক পর্যায়ের দাম অনুযায়ী ডিএপি বিক্রির কথা ১ হাজার ৫০ টাকা। এমওপি ১ হাজার টাকার বদলে ১ হাজার ১২০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকায় এবং টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকার বদলে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কৃষকের ভাষ্য, নির্ধারিত ডিলারদের কাছে সার মজুত থাকলেও অনেক সময় প্রান্তিক চাষিকে দেওয়া হয় না। ‘সরবরাহ শেষ’– এমন অজুহাতে তাদের পরে আসতে বলা হয়। ফলে গ্রামের খুচরা দোকান থেকেই বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

বগুড়ায় টিএসপি বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকায়। শিবগঞ্জের রায়নগর এলাকার কৃষক আফজাল হোসেন জানান, তিনি মহাস্থান এলাকায় মেসার্স তোহা এন্টারপ্রাইজ নামে সার ডিলারের প্রতিষ্ঠানে সোমবার টিএসপি কিনতে গেলে তাঁর কাছ থেকে ২৫০ টাকা বেশি নেওয়া হয়।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, উৎপাদন খরচ বাড়তে থাকলে কৃষক ধীরে ধীরে ধান চাষ থেকে সরে যাবেন। এরই মধ্যে অনেক কৃষক ভুট্টার মতো বিকল্প ফসলে ঝুঁকছেন। কারণ সেখানে বাজারদর তুলনামূলক স্থিতিশীল। ধানের ক্ষেত্রে দাম অনিশ্চিত, তবে উপকরণের খরচ বাড়ছেই। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

সারের বাড়তি দাম বিষয়ে কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বেশি দামে সার বিক্রির প্রমাণ মিললে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কঠোর থাকবে। কৃষিকে বাঁচাতে হলে কৃষকের স্বার্থ আগে রক্ষা করতে হবে। ভালো ফলনের জন্য সার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়