শিরোনাম
◈ সৌদি থেকে নারী ফিরলেন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে, অন্যজন মানসিক ভারসাম্যহীন ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের সি‌রি‌জের প্রথম টেস্ট ১৩ আগস্ট ◈ রাষ্ট্রপতিকে সংসদের প্রথম অধিবেশনে অভিসংশন করতে হবে, এরপর গণহত্যার দায়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে: নাহিদ ইসলাম ◈ পাসপোর্টের 'দালাল' নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তে সমালোচনা কেন ◈ দেশের রিজার্ভে বড় সুখবর, ছাড়াল ৩৫ বিলিয়ন ডলার ◈ ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটিতে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী যারা ◈ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এবার পাঁচ কর্মকর্তা বদলি ◈ দেশে আবারও মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত ◈ আলমারি ভর্তি রুপি মিলল সরকারি কর্মকর্তার বাড়িতে ◈ আহসান এইচ মনসুরকে সরানো নিয়ে যা বললেন অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৮ রাত
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আট মাসের বেতনহীনতা : বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ৬৬ আউটসোর্সিং কর্মীর মানবেতর জীবন

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির : দীর্ঘ আট মাস ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল–এ কর্মরত ৬৬ জন আউটসোর্সিং কর্মী। পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও অর্থকষ্টে দিন কাটছে তাদের। বেতন আদায়ে টালবাহানা এবং ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা মহিতুর রহমানের বিরুদ্ধে। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বেতন বন্ধ জুন থেকে, বাড়ছে দুর্ভোগ

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এখানে মোট ৯৪ জন আউটসোর্সিং কর্মী কর্মরত। তাদের মধ্যে ৬৬ জন পুরোনো নিয়োগপ্রাপ্ত এবং ২৮ জন নতুন। অভিযোগ অনুযায়ী, পুরোনো ৬৬ জন কর্মীর ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে বেতন বন্ধ রয়েছে। মাসিক ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হারে গত আট মাসে প্রত্যেক কর্মীর পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা।

দীর্ঘ সময় বেতন না পাওয়ায় পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন, কেউ কেউ বাড়িভাড়া ও সন্তানের শিক্ষাব্যয় পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন।

আউটসোর্সিং কর্মী আকলিমা বেগম বলেন, “আট মাস ধরে বেতন নেই। বাসাভাড়া, বাজার—সবকিছু বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ধার করে কোনোভাবে টিকে আছি। বেতনের কথা বললেই শুধু আশ্বাস।”

আরেক কর্মী বর্না বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। কাজ করে যদি টাকা না পাই, তাহলে চলবো কীভাবে? আগে বেতন দিলে ৫০০-১০০০ টাকা করে কেটে নেওয়া হতো।”

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

কর্মীদের অভিযোগ, বেতন দ্রুত ছাড় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা মহিতুর রহমান বিভিন্ন সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, পূর্বে বেতন দেওয়ার সময় জনপ্রতি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

আউটসোর্সিং কর্মীদের সাধারণ সম্পাদক আলামিন বলেন, “দ্রুত বেতন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো সমাধান হয়নি। খুব খারাপ অবস্থায় দিন পার করছি। দ্রুত ৬৬ জনের বেতন পরিশোধ করতে হবে।”

কর্মীদের আরও অভিযোগ, বেতনের বিষয়ে জানতে চাইলে কখনও চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার হুমকি, কখনও নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়।

পরিদর্শনে এমপি, তদন্তের নির্দেশ

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) হাসপাতাল পরিদর্শনে যান বাগেরহাট-২ (বাগেরহাট সদর ও কচুয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক (রাহাদ)। এ সময় ভুক্তভোগী কর্মীরা তার কাছে সরাসরি অভিযোগ তুলে ধরেন।

সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, “আউটসোর্সিং কর্মীদের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা মহিতুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। নিয়ম অনুযায়ীই সব কাজ করা হচ্ছে।”

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। যদি কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অনিশ্চয়তার শেষ কোথায়?: একদিকে নিয়মিত দায়িত্ব পালন, অন্যদিকে মাসের পর মাস বেতনহীনতা—এই দ্বৈত সংকটে পড়েছেন ৬৬ জন কর্মী ও তাদের পরিবার। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হয়েও তারা আজ বঞ্চিত মৌলিক অধিকার থেকে।

দ্রুত বেতন পরিশোধ ও অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত—এ দুই দাবিই এখন তাদের একমাত্র ভরসা। তদন্তে সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়