শিরোনাম
◈ ‘কাকে দিয়ে হাদিকে খুন করিয়েছেন সব জানি, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হবে’ ◈ ‌নেইমার‌কে স‌ঙ্গে নি‌য়েই বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরা‌স্ট্রে উড়াল দি‌লো ব্রা‌জিল দল ◈ চীন সফরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ◈ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ: বাংলাদেশের আবেদনে সাড়া দিল ইউএনসিডিপি ◈ গণসমর্থন হারিয়ে যেভাবে চলছে আওয়ামী লীগ ◈ আইসি‌সি র‌্যাং‌কিং‌য়ে বাংলা‌দে‌শের নারী ব‌্যাটার ও বোলার‌দের উন্ন‌তি  ◈ নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সূচিতে প‌রিবর্তন আন‌লো আ‌ইসি‌সি ◈ মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, চাপ কমাতে পুনর্গঠন পরিকল্পনা ◈ শাকিব খান সিনেমার প্রতি উদাসীন: মির্জা আব্দুল খালেক ◈ ‘ডলার ধর্ষণ করেছে, তাকে ধরেন, আমি জবাই করছি’— আদালতে নেওয়ার পথে সোহেলের দাবি

প্রকাশিত : ০২ জুন, ২০২৬, ০৭:২১ বিকাল
আপডেট : ০২ জুন, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

স্মার্ট চট্টগ্রাম গড়তে চসিকের ৬ মেগা প্রকল্প

এম আর আমিন, চট্টগ্রাম : দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট সিটিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ছয়টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে নগরীর দীর্ঘদিনের যানজট, জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং নাগরিক সেবার সীমাবদ্ধতা দূর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং সেবার দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই একটি শহর প্রকৃত অর্থে স্মার্ট সিটিতে পরিণত হয়। সে বিবেচনায় চট্টগ্রামে নেওয়া উদ্যোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

চসিকের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল রক্ষণাবেক্ষণ ও নতুন খাল খনন, প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি ক্রয়, সড়ক উন্নয়ন, স্মার্ট সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন, এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং খেলার মাঠ, পার্ক ও সৌন্দর্যবর্ধন—এই ছয়টি প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে। প্রকল্পগুলো খুব শিগগিরই অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম আধুনিক নগর উন্নয়নের একটি রোল মডেলে পরিণত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা।

ইতোমধ্যে নগরীর ৩৬টি খালের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া নগরীতে নতুন করে ২১টি খাল খনন, প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক কাজের জন্য ২ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। খাল দখল ও ভাঙন রোধের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এসব কাজ বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের ড্রেনেজ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক মেরামত ও সংস্কারেরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত প্রাইমারি রোডগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে যান চলাচলকে আরও নিরাপদ ও গতিশীল করার উদ্যোগ রয়েছে। এ খাতে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে।

এদিকে ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কে এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা (AI-Based Traffic System) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহনের চাপ বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে, যা যানজট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং যানজটে আটকে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার প্রবণতাও কমবে।

এ ছাড়া ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরজুড়ে স্মার্ট সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাতের নগর ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ, পার্ক, প্রবীণদের জন্য পৃথক ওয়াকওয়ে এবং নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনে ২৯৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েও কাজ করছেন প্রকৌশলীরা।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু শাদাত মো. তৈয়ব বলেন, “দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নাগরিক ভোগান্তি কমানো এবং একটি আধুনিক স্মার্ট সিটি গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। আমরা তাঁর নেতৃত্বে এসব উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছি।

তিনি বলেন, “মেয়র সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মূল লক্ষ্য হচ্ছে নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন। পরিকল্পিত ও প্রযুক্তিনির্ভর নগর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভবিষ্যতের চট্টগ্রামকে একটি টেকসই, নিরাপদ ও আধুনিক মহানগর হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্পগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রাম দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট সিটিগুলোর অন্যতম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এর ফলে নগরবাসীর জীবনমান উন্নত হবে, যানজট ও জলাবদ্ধতা কমবে এবং বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

পৃথিবীতে কিছু শহর আছে নগরবিদগণ সেগুলোকে ‘গ্লোবাল সিটি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। নিউইয়র্ক, লন্ডন, টোকিও, হংকং, সিঙ্গাপুর ইত্যাদি যার উদাহরণ। বাংলায় এই শহরগুলোকে বিশ্বনগরী বলা সঙ্গত। বিশ্বব্যাপী প্রভাব-প্রতিপত্তি ওসব শহরের। এই প্রভাব প্রধানত অর্থনৈতিক।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়