শিরোনাম
◈ বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাস: তাজউদ্দীন থেকে আমির খসরু, কে কত দিলেন? ◈ অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল বাংলাদেশের অর্থনীতি, নতুন রেকর্ড জিডিপিতে ◈ পানি সংকটে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বন্ধ ৩ ইউনিট ◈ ব্রাজিলকে হালকাভাবে নিলে ভুগতে হবে, বিশ্বকাপে নামার আগে মিডফিল্ডার ব্রুনোর হুম‌কি ◈ পা‌কিস্তা‌নের সা‌বেক ক্রিকেটার বা‌সিত আ‌লি বল‌লেন, বাংলাদেশ এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা দল ◈ প্রশ্ন ছাড়াই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ, আসছে নতুন বিধান ◈ প্রতিকূলতা জয় করে দৃশ্যমান বামনী ক্লোজার বাঁধ, উপকৃত হবেন ৯ লাখ মানুষ ◈ জুলাই থেকেই আংশিক বাস্তবায়ন হতে পারে নতুন পে-স্কেল, বাজেটে নেই আলাদা বরাদ্দ ◈ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে ইতিহাস গড়া বাজেট, লক্ষ্য প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা ◈ ৪৮ দলের মহারণ, আজ পর্দা উঠছে বিশ্বকাপের

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:০৮ রাত
আপডেট : ০৬ জুন, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মৃত্যুফাঁদে ক্লাসরুম: কুমিল্লায় পাঠ চলাকালে ফ্যানসহ ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ল

শাহাজাদা এমরান, স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা : পাঠ চলছিল স্বাভাবিকভাবেই। হঠাৎ বিকট শব্দ—এরপরই বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ল শ্রেণিকক্ষের ভেতরে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায় শিক্ষার্থীরা। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই দায় কার?

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৭১নং গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মুহূর্তেই শ্রেণিকক্ষে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। শিক্ষকরা দ্রুত শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ের ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৬৮ সালে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ভবনটি এখন সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নতুন ভবনের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিভাবক জুয়েল রানা বলেন, “হঠাৎ করেই ফ্যানসহ ছাদের পলেস্তারা ভেঙে পড়ে। ভাগ্য ভালো, ওই বেঞ্চে তখন কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। আমরা দৌড়ে এসে সন্তানদের নিয়ে যাই। এভাবে আর কতদিন ঝুঁকি নিয়ে পড়াশোনা চলবে?” বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ আক্তার জানান, “প্রথম ক্লাস শেষ হওয়ার পরই ঘটনাটি ঘটে। অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। গত সপ্তাহেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙে ফেলার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারে লিখিত আবেদন করেছি। এর আগেও স্থানীয়ভাবে একাধিকবার নতুন ভবনের দাবি জানানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এভাবে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস নেওয়া সম্ভব নয়।”

এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, “ভবনটিকে আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ক্লাস চালু রাখতে হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রস্তাব তালিকায় এক নম্বরে রাখা হয়েছে।”

স্থানীয়দের প্রশ্ন—দুর্ঘটনা ঘটার পরই কেন নড়ে বসে কর্তৃপক্ষ? কোনো প্রাণহানি ঘটলে দায় নিত কে? ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল, অবহেলা আর বিলম্ব মিলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেক জায়গায় পরিণত হয়েছে সম্ভাব্য মৃত্যুফাঁদে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়