ঈদ মানেই আনন্দ আর উৎসব। ঈদের হুল্লোড়ে অনেক সময় মন না চাইলেও একসাথে বেশি পরিমাণে খেতে হয়। উৎসব বা পার্বণে আমাদের খাওয়াদাওয়া যেন আরও বেড়ে যায়। উচ্চ মাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ গরু বা খাসির মাংসের নানা রেসিপি অনেকের বাড়িতেই তৈরি হয়।
হঠাৎ অতিরিক্ত খাওয়ায় পেটে কাজ করে অস্বস্তি, দেখা দেয় হজমজনিত সমস্যার– পেট ফাঁপা, বুক জ্বালাপোড়া, ঢেকুর, অম্বল, এমনকি বমি বমি ভাবও।
তবে কিছু সহজ উপায় অবলম্বন করে এই অস্বস্তি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। আসুন জেনে নিই, ঘরোয়া কিছু উপায় মেনে কী করলে এর প্রতিকার মিলবে—
কুসুম গরম জল : অতিরিক্ত খেয়ে ফেললে খাওয়ার ৩০-৩৫ মিনিট পর কুসুম গরম পানি পান করুন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুসুম গরম পানি খাবার দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে। পেটের গ্যাস বা অস্বস্তি কমাতে এটি কার্যকর।
পর্যাপ্ত পানি: খাবার থেকে সৃষ্টি হওয়া বর্জ্য শরীর থেকে বের করতে পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন হয়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পানি হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখে এবং শরীর সুস্থ রাখে। এক্ষেত্রে, ডাবের পানি ও পানিপূর্ণ ফলও খাবারের তালিকায় রাখুন।
জিরা পানি: পানিতে ১ চা চামচ জিরা ফুটিয়ে ছেঁকে সেই পানি পান করা যেতে পারে। এটি পেট ফাঁপা ও গ্যাস কমাতে কার্যকর।
শশা: মাংস, সেমাই-সিন্নি ইত্যাদি মুখরোচক খাওয়ার পর যতো বেশি সম্ভব শশা খাওয়া উচিত। শশা হজমে সহায়তা করে এবং খাবার চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করে। পেঁপে বা আপেলের মতো আঁশযুক্ত খাবার খেতে পারেন। এতে হজম প্রক্রিয়া ঠিক থাকে।
আদা: রিচ ফুডের পর আদা চিবিয়ে খেলে উপকার পেতে পারেন। এছাড়া, আদার সঙ্গে মধু মিশিয়েও খাওয়া যেতে পারে।
টক দই বা ঘোল: টক দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে। ঘোলও পেট ঠান্ডা রাখতে সহায়ক।
হালকা হাঁটাহাঁটি: ভারি খাবার খাওয়ার পরপরই বিছানায় শুয়ে পড়া বা ঘুমিয়ে পড়া উচিত নয়। এতে শরীর ক্যালোরি বার্ন করার সুযোগ হারায় এবং অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। তার চেয়ে বরং কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন। এতে হজম যেমন দ্রুত হবে, তেমনি রক্তে শর্করার পরিমাণও কমবে। শরীরও কিছুটা চাঙা বোধ হবে।
নো সফট ড্রিংকস: অনেকে অতিরিক্ত খাওয়া শেষ করেই চুমুক দেন কোল্ড ড্রিংকসের বোতল বা গ্লাসে। এটি করা যাবে না। কার্বোনেটেড পানীয়ের মাধ্যমে আপনি গ্যাস গিলে ফেলেন, যা আপনার পাচনতন্ত্রকে আরও পূর্ণ করে দেয়। এতে আরও বেশি হাঁসফাঁস লাগতে শুরু করে।
তথ্যসূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া।
(ডিসক্লেইমার: প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।)