নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ উপকূলে নদীবাহিত পলি জমে নতুন নতুন ভূখণ্ডের সৃষ্টি হচ্ছে। স্যাটেলাইট চিত্র ও বিশেষজ্ঞদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৯৮৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে, বিশেষ করে নোয়াখালী উপকূল ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ৮০০ বর্গকিলোমিটার নতুন ভূমি জেগে উঠেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাগরের তলদেশে আরও প্রায় ১,০০০ বর্গকিলোমিটার ডুবোচর দৃশ্যমান রয়েছে, যা ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে জেগে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয় থেকে উৎপন্ন গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পলি বঙ্গোপসাগরে নিয়ে আসে। এই পলি মেঘনা মোহনা হয়ে দক্ষিণ উপকূলে জমা হওয়ায় নতুন চর ও ভূমির সৃষ্টি হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে 'ক্রস ড্যাম'সহ উপকূল ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন জেগে ওঠা ভূমির কার্যকর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এসব এলাকার প্রশাসনিক তদারকি ও উন্নয়ন পরিকল্পনাও সময়োপযোগীভাবে গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সামুদ্রিক নজরদারি জোরদার
সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নৌবাহিনীর ডর্নিয়ার ২২৮ মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট আধুনিক অ্যাভিওনিক্স ও সামুদ্রিক নজরদারি রাডার দিয়ে উন্নত করা হয়েছে, যা সমুদ্রে নৌযান পর্যবেক্ষণে সহায়তা করবে।
এছাড়া কোস্টগার্ডের জন্য আধুনিক নজরদারি হেলিকপ্টার এবং দীর্ঘ সময় আকাশে উড়তে সক্ষম ড্রোন যুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে বঙ্গোপসাগরে নজরদারি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে। সূত্র: এনটিভি