মনিরুল ইসলাম: ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান শুনানি শেষে ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার একই আদালত পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে তা মঞ্জুর করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য বুধবার দিন ধার্য ছিল। ওই দিন বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। অন্যদিকে পরীমনির আইনজীবী অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আদালতে হাজির হতে না পারার বিষয়ে সময়ের আবেদন করেন। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরীমনির জামিন বাতিল এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বোট ক্লাবের সেই রাতের ঘটনা
মামলার নথিতে বাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমনি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। তারা ক্লাবের দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করার পর ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ১টা ১৫ মিনিটে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমনি তাদের ডাক দেন এবং কিছুক্ষণ বসার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নাসির উদ্দিন এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাকে গালমন্দ করেন বলে অভিযোগ করেন বাদী। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমনি তার দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন। পাশাপাশি হাতে থাকা মোবাইল ফোনও ছুড়ে মারেন। এতে তার মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
বাদীর আরও অভিযোগ, পরীমনি ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর করেন, হত্যার হুমকি দেন এবং বোট ক্লাবে ভাঙচুর চালান। এ ঘটনায় পরীমনি সাভার থানায় নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন বলেও নাসির উদ্দিনের করা মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
তদন্তে পরীমনিসহ দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
পরবর্তী সময়ে আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমনি ও জিমকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। ২০২৪ সালের ২৫ জুন তারা ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি আদালত এ মামলায় পরীমনিসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ওই দিনও পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার অন্য আসামি যারা
২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
এ মামলার অন্য দুই আসামি হলেন পরীমনির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।
মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার আদালতে আত্মসমর্পণের পর পরীমনির জামিন মঞ্জুর হওয়ায় মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম আবারও আলোচনায় এসেছে।