মনিরুল ইসলাম : দীর্ঘ অপেক্ষা, নানা প্রতিবন্ধকতা ও ব্যাপক প্রস্তুতির পর অবশেষে প্রকাশ করা হলো জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত নতুন সিনেমা ‘জানোয়ার’-এর প্রথম অফিসিয়াল পোস্টার। ব্যতিক্রমী গল্প, দেশি রাস্তার কুকুরের উপস্থিতি, নতুন মুখের অভিনয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ভিএফএক্স প্রযুক্তির ব্যবহারে সিনেমাটি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল।
সিনেমাটি পরিচালনা করছেন তরুণ নির্মাতা জাহিদ জুয়েল। এর গল্পের মূল ভাবনা শাহ আলম সরকারের। কাহিনি ও সংলাপ লিখেছেন শাহ আলম সরকার ও আবদুল আজিজ। প্রযোজনায় রয়েছে জাজ মাল্টিমিডিয়া।
সিনেমাটির গল্পের পরিকল্পনা হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগে। ২০২১ সালে শুটিং শুরুর প্রস্তুতিও নিয়েছিল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ দেশি রাস্তার কুকুরকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় বড় ধরনের জটিলতা। নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমার প্রায় ৭০ শতাংশ দৃশ্যেই দেশি কুকুরের উপস্থিতি রয়েছে। তাদের আচরণ, উপস্থিতি এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বিশ্বাসযোগ্যভাবে পর্দায় তুলে ধরাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
এ জন্য প্রশিক্ষিত দেশি কুকুরের সন্ধান শুরু হয়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও প্রত্যাশিত কুকুর পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে জাজ মাল্টিমিডিয়ার পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেওয়া হয়, কেউ ১০টি প্রশিক্ষিত দেশি কুকুরের ব্যবস্থা করতে পারলে তাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। এ ঘোষণায় সাড়া মিললেও সিনেমার চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুত কুকুর পাওয়া সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যায় সিনেমাটির কাজ।
তবে দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর নতুন করে আশার আলো দেখেন প্রযোজকরা। গত কোরবানির ঈদের সময় তরুণ নির্মাতা জাহিদ জুয়েলের সঙ্গে পরিচয় ও তাঁর কাজ দেখে ‘জানোয়ার’ নির্মাণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়। গল্প শোনার পর পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেন জুয়েল। এরপর আবার শুরু হয় সিনেমাটির পরিকল্পনা ও প্রি-প্রোডাকশনের কাজ।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠিত নায়ক-নায়িকা নিয়ে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও পরিচালক গল্পের চরিত্রগুলোর সঙ্গে মানানসই নতুন মুখ বেছে নেওয়ার পক্ষে মত দেন। পরিচালকের সেই ভাবনায় আস্থা রেখে নতুন শিল্পী নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় জাজ। শুরু হয় নায়ক-নায়িকা খোঁজার কাজ। প্রায় চার মাস অনুসন্ধানের পর গল্পের উপযোগী নায়ক ও নায়িকা নির্বাচন করা হয়।
‘জানোয়ার’ সিনেমার গল্পের সময়কাল ১৯৬৫ থেকে ১৯৯০ সাল। ফলে ওই সময়ের পরিবেশ, স্থাপনা, লোকেশন ও আবহ পর্দায় বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তোলাও ছিল নির্মাণের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ১৯৬৫ সালের সদরঘাটের জেটিকে কেন্দ্র করে রয়েছে সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পুরোনো সময়ের পরিবেশ নির্মাণ এবং গল্পের প্রয়োজনীয় দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতে এআই ও ভিএফএক্স প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়েছে। শিল্পীদের অভিনয়ের দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে গ্রিন স্ক্রিনে। তবে চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন বাস্তব শিল্পীরাই, তাঁদের কণ্ঠেই হয়েছে ডাবিং। প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে অভিনয়ের সঙ্গে গল্পের সময়কাল, পরিবেশ ও দৃশ্যপটের সমন্বয় ঘটাতে।
সিনেমাটিতে চারজন নবাগত নায়ক-নায়িকার পাশাপাশি অভিনয় করছেন পরিচিত ও অভিজ্ঞ শিল্পীরা। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫০ জন শিল্পী যুক্ত রয়েছেন ‘জানোয়ার’-এর সঙ্গে।
এর অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় রয়েছেন নবাগত সাজ, নবাগত আবন্তিকা, অবন্তী, নুসরাত, আলিশা, নাদের চৌধুরী, শিবা সানু, জয়, নাজমুল, শুভ্র মেরাজ, রাকা পপি ও শাহ আলম সরকারসহ আরও অনেকে।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিনেমাটির প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে গল্পের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে। চরিত্র নির্বাচন থেকে শুরু করে লোকেশন নির্মাণ, প্রযুক্তির ব্যবহার—সব ক্ষেত্রেই লক্ষ্য ছিল দর্শকের সামনে ‘জানোয়ার’-এর জগৎকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা।
প্রথম অফিসিয়াল পোস্টার প্রকাশের মধ্য দিয়ে সিনেমাটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচারণাও শুরু হলো। শিগগিরই ‘জানোয়ার’-এর নবাগত নায়ক-নায়িকাদের পরিচয় দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।