প্রাণনাশের হুমকি ও হামলার আশঙ্কায় বলিউডের একাধিক তারকার নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ভারতের কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। শাহরুখ খান ও সালমান খান পেয়েছেন ওয়াই-প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা। কঙ্গনা রানাউটের নিরাপত্তাও একই শ্রেণির। অন্যদিকে, অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমার ও অনুপম খের রয়েছেন এক্স ক্যাটাগরির নিরাপত্তাব্যবস্থায়। তারকাদের নিরাপত্তার ধরন নির্ধারণ করা হয় তাদের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে।
সম্প্রতি মুম্বাইয়ের জুহুতে অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর তার বাসভবনের বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। একইভাবে, নির্মাতা রোহিত শেঠির বাসভবনের কাছে গুলির ঘটনার পর ওই এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট হুমকির তথ্য পাওয়ার পর আমির খানের বাসভবনেও সাময়িকভাবে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলিউড তারকাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী-
সালমান ও শাহরুখ
লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কাছ থেকে হুমকি পাওয়ার পর ২০২২ সালের নভেম্বরে সালমান খানের নিরাপত্তা ওয়াই-প্লাস ক্যাটাগরিতে উন্নীত করে মহারাষ্ট্র সরকার। তার নিরাপত্তায় প্রায় ১১ থেকে ১২ জন মুম্বাই পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তাদের মধ্যে চারজন সশস্ত্র কমান্ডো রয়েছেন, যারা তার সঙ্গে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেন। এ ছাড়া উন্নত অস্ত্র পরিচালনায় প্রশিক্ষিত একজন পুলিশ সদস্যও তার নিরাপত্তাব্যবস্থায় রয়েছেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাজনীতিক বাবা সিদ্দিকি হত্যাকাণ্ডের পর সালমানের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে শাহরুখ খানের নিরাপত্তাও ওয়াই-প্লাস ক্যাটাগরিতে উন্নীত করা হয়। ‘পাঠান’ সিনেমার ‘বেশরম রং’ গান নিয়ে বিতর্কের পর প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ায় তিনি মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শাহরুখ নিজের নিরাপত্তার খরচ বহন করেন বলেও জানানো হয়েছে।
কঙ্গনা রানাউত
২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাউতকে ওয়াই-প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। মুম্বাইকে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করার পর মহারাষ্ট্র সরকার ও শিবসেনার নেতাদের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে উত্তেজনা ও হুমকির প্রেক্ষাপটে তার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল।
অমিতাভ, অক্ষয় ও অনুপম
বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন এক্স ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান। এ ব্যবস্থায় পালাক্রমে দায়িত্ব পালনকারী দুজন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন, যাদের একজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা। অভিনেতা অক্ষয় কুমারও এক্স ক্যাটাগরির নিরাপত্তার আওতায় রয়েছেন। সংবাদমাধ্যম মিড-ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ নিরাপত্তার ব্যয় সংশ্লিষ্ট তারকারাই বহন করেন। এদিকে অভিনেতা অনুপম খেরকে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ সিনেমা মুক্তির পর হুমকি পাওয়ার ঘটনায় ঝুঁকি মূল্যায়ন করে এক্স ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়।
আমির খান
আমির খানের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী স্থানীয় পুলিশের সহায়তা অথবা ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করা হয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা কিছু অযাচাইকৃত হুমকির ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও ক্লিপের পর মুম্বাইয়ের বান্দ্রার পালি হিলে তার বাসভবনের বাইরে সাময়িকভাবে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল।
বিবেক অগ্নিহোত্রী
দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ সিনেমা মুক্তির পর হুমকির আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় ২০২২ সালের মার্চে নির্মাতা বিবেক অগ্নিহোত্রীকে ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেয় কেন্দ্রীয় সরকার।
টাইগার শ্রফ ও রোহিত শেঠি
মুম্বাইয়ের জুহুতে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর তার বাসভবনের বাইরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একইভাবে, রোহিত শেঠির জুহুর বাসভবনের কাছে গুলির ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ও অপরাধ দমন শাখার সদস্যরা এলাকায় টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করেছেন।
এ দুই তারকার ক্ষেত্রে বাড়তি পুলিশি উপস্থিতি ও নজরদারির কথা জানানো হলেও তাদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা ক্যাটাগরির উল্লেখ করা হয়নি।
কিভাবে নির্ধারিত হয় নিরাপত্তা
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বলিউডের আরও অনেক তারকা মুম্বাই পুলিশের সাধারণ নিরাপত্তা সহায়তা পেয়ে থাকেন। তবে কার জন্য কতটা নিরাপত্তা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঝুঁকি মূল্যায়ন কমিটি।
এই কমিটি নিয়মিত তারকাদের নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা করে। পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপত্তা বাড়ানো, কমানো কিংবা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে কোনো তারকা একবার নিরাপত্তা পেলেই তা স্থায়ীভাবে একই মাত্রায় বহাল থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
সূত্র : যুগান্তর