শিরোনাম
◈ রমজানে স্কুল খোলা রাখা 'বৈষম্যমূলক': পুরো মাস ছুটির দাবিতে হাইকোর্টে রিট ◈ কলাবাগানে ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনি: দুই যুবক ঢামেকে ভর্তি ◈ ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করলে ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ◈ শোডাউন-ড্রোন-পোস্টার নিষিদ্ধ: এবার ভোটের মাঠে কড়াকড়ি ◈ কোন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ করলেন সিলেটের সাবেক উপদেষ্টা? (ভিডিও) ◈ ধানের শীষে ভোট চেয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন তারেক রহমান (ভিডিও) ◈ আজ থেকে শুরু নির্বাচনি প্রচারণা: কী করা যাবে, কী যাবে না ◈ হেয়ারকাট সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো বাংলাদেশ ব্যাংক, পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য সুখবর ◈ এক হত্যার বলি তিন পরিবার: ঝালকাঠিতে ১১ জন গুমের নেপথ্যকথা ◈ আইসিসি বোর্ড সভায় ভোটাভুটিতে মাত্র একটি ভোট পেয়েছে বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:২৬ রাত
আপডেট : ২২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:২৮ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আজ থেকে শুরু নির্বাচনি প্রচারণা: কী করা যাবে, কী যাবে না

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একইদিন অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। এরই প্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে নির্বাচনি প্রচারণা। নির্বাচনি প্রচারণা চলাকালে প্রার্থীরা কী কী করতে পারবেন এবং কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের আচরণ বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে ইসির পক্ষ থেকে।

আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে প্রথমবারের মতো এবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে পোস্টার। একইসঙ্গে প্রচারণার ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন বক্তব্য, বিদ্বেষমূলক প্রচার বা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

জনসভা ও সমাবেশ: সভা-সমাবেশ আয়োজন করার আগে এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে জানাতে হবে। অন্তত ২৪ ঘন্টা আগে জনসভার দিন-তারিখ এবং সময়-স্থান জানাতে হবে লিখিতভাবে।

জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সড়ক, মহাসড়কে কিংবা জনপথে জনসভা বা পথসভা করলে কার্যকরী ব্যবস্থা নিবে ইসি। নিষিদ্ধ করা হয়েছে প্রার্থীর পক্ষে বিদেশে কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সভা- সমাবেশ আয়োজনের সুযোগ।

পোস্টার-ফেস্টুন নিষিদ্ধ, সীমিত বিলবোর্ড: নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রচারে পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়েছে; প্রচার সামগ্রীতে পলিথিন, রেকসিন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একজন প্রার্থী তার আসনে সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবে-যার দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট ও প্রস্থ ৯ ফুটের বেশি নয়।

নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহৃতব্য ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন থাকছে সাদা-কালো রঙে সীমাবদ্ধ। ব্যানারের ক্ষেত্রে আয়তনে অনধিক ১০ (দশ) ফুট × ৪ (চার) ফুট, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল আয়তনে অনধিক এ-ফোর সাইজের (৮.২৭ ইঞ্চি × ১১.৬৯ ইঞ্চি) এবং ফেস্টুন আয়তনে অনধিক ১৮ ইঞ্চি × ২৪ ইঞ্চিতে বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

নিজের ছবি এবং দলীয় প্রধানের ছবি  : ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে প্রতীক ও নিজের ছবি ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ছাপাতে পারবে না। প্রার্থীর ছবি হতে হবে শুধুমাত্র পোর্টেট আকারে। প্রচারণায় ব্যবহার করা সাধারণ ছবি (প্রোট্রেট) এর আয়তন হতে হবে "৬০ (ষাট) সেন্টিমিটার × ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) সেন্টিমিটার"।

এইদিকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা শুধুমাত্র দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। কোনও প্রার্থীর নির্বাচনি প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা উচ্চতা ৩ (তিন) মিটারের বেশি হতে পারবে না। মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও মুদ্রণের তারিখবিহীন কোন ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহার করা যাবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার: প্রার্থীরা, তাদের নির্বাচনি এজেন্ট বা প্রতিনিধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাতে পারবেন, তবে প্রচার শুরুর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থী, দল বা সংশ্লিষ্ট পেজের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইলসহ সনাক্তকরণ তথ্য জমা দিতে হবে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। ঘৃণাত্মক, মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রচার করা যাবে না,  প্রতিপক্ষ, নারী, সংখ্যালঘু বা কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক, উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না, ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করা যাবে না,  সব প্রচার কনটেন্ট প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই করতে হবে,  মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, অশ্লীল বা মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি বা শেয়ার করা যাবে না, গুজব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে এবার নতুন ধারা যুক্ত করে নির্বাচনি অপরাধ হিসেবে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে বলে ইসির আচরণবিধিতে জানানো হয়।

আরও যা যা নিষিদ্ধ

১. নির্বাচনি প্রচারণায় কোনও বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেল কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক বাহন সহকারে কোনও মিছিল, জনসভা কিংবা কোনরূপ শোডাউন করা যাবে না।

২.  প্রচারে যানবাহন সহকারে কিংবা যানবাহন ব্যতীত কোনও ধরনের মশাল মিছিলও করা যাবে না।

৩. রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কেউ হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহার করতে পারবেন না।

৪. ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, প্রতীক উল্লেখ করা যাবে না

৫.প্রচারে তোরণ নির্মাণ কিংবা আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ

আচরণবিধি লঙ্ঘনের সাজা: সংশোধিত নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে এবারের নতুন সংশোধনীতে। কোনও প্রার্থী বা দল বিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডই দেওয়া হতে পারে। দলের ক্ষেত্রেও ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রার্থিতাও বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়