শিরোনাম
◈ তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর পর আত্মগোপনে দিশা, যেভাবে হলেন গ্রেপ্তার ◈ পোশাকের বাইরে রফতানিতে চমক দেখাচ্ছে বাংলাদেশের 'চুল' ◈ সোমবার থেকে ঢাকাসহ ১৩ সিটিতে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু ◈ শ্রমিক বিক্ষোভে বন্ধ ৩১৮ কারখানা, কাজে নেই ৭ লাখ শ্রমিক ◈ ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে, চাকরিতে নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলেই দেশের সাফল্য সম্ভব: রাষ্ট্রপতি ◈ ৭১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকার সম্প্রসারণ প্রকল্প বাদ, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ◈ ৪০০ ছক্কার বিশ্বরেকর্ড, ভারত ধরাছোঁয়ার বাইরে ◈ গার্মেন্টস শ্রমিকদের বর্তমান বেতন কত, ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবির যৌক্তিকতা কতটা, কতটা সক্ষম মালিকপক্ষ? ◈ শ্রমিক অসন্তোষে জরুরি তৎপরতা, মন্ত্রীদের বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী; আমিরাত সফর বাতিল শ্রমমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৪৭ রাত
আপডেট : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:০৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চুয়েটে ফের আন্দোলন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল আলম বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সভায় অংশ নিতে ঢাকায় যাওয়ায় তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রুটিন উপাচার্যের এ দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করে এক দিনের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে এক ই-মেইল বার্তায় রুটিন দায়িত্বের বিষয়টি জানানো হয়।

ওই ই-মেইল বার্তায় উপাচার্য উল্লেখ করেন, ২ নভেম্বর ইউজিসির একটি সরকারি সভায় অংশ নিতে তিনি ঢাকায় অবস্থান করবেন। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বিধিবদ্ধ বিধান অনুযায়ী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেনকে তার নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি উপাচার্যের রুটিন প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব পালনের অনুরোধ ও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ১ নভেম্বর বিকাল থেকে এ দায়িত্ব কার্যকর হয়েছে। ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় উপাচার্য কর্মস্থলে ফিরে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন এ দায়িত্ব পালন করবেন।

Advertisement

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন ‘এটি একটি রেগুলার ইস্যু’ বলে কল কেটে দেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, দাপ্তরিক কাজে আমি ঢাকা গমন করছি। আমার অনুপস্থিতিতে তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে রুটিন উপাচার্যের দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করে রোববার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও অচলাবস্থার পর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশের কথা বিবেচনা করে তারা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরেছিলেন। তবে তাদের সুস্পষ্ট শর্ত ছিল, নবনিযুক্ত উপাচার্যকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হয়নি এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রমে তার কোনো হস্তক্ষেপ থাকতে পারবে না।

বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, তাদের পূর্বঘোষিত অবস্থান উপেক্ষা করে অন্য একজনকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার মতো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপাচার্য নিজে উপস্থিত না থেকে অন্যের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার এ অপচেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করছেন। এর প্রতিবাদে ২ নভেম্বর এক দিনের জন্য চুয়েটে সর্বাত্মক একাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করেন তারা।

উক্ত শাটডাউনের আওতায় সব ক্লাস, পরীক্ষা এবং রুটিন দায়িত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত যেকোনো প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। 

এতে আরও বলা হয়, এ ধরনের হঠকারী পদক্ষেপ ক্যাম্পাসের বিদ্যমান পরিস্থিতিকে পুনরায় অস্থিতিশীল করার ঝুঁকি তৈরি করছে। নতুন করে অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নিতে হবে। শর্তের ব্যত্যয় ঘটলে কিংবা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

এর আগে, বিদ্যমান অচলাবস্থার নিরসন ও আন্দোলনের সব অংশীদারের দাবি দ্রুত আদায়ের লক্ষ্যে এদিন দুপুর ৩টায় কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় শিক্ষার্থীরা জানান, বর্তমান উপাচার্য ড. শরিফুল আলম কিংবা অন্য কোনো বিকল্প নিয়োগ তারা মেনে নেবেন না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচির জন্যও প্রস্তুত বলে জানান তারা।

পাশাপাশি ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শনের অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। এর প্রতিবাদে বিকাল সোয়া ৪টায় বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।

যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলক্বার নাঈন মিহাদ বলেন, গত ২৮ অক্টোবর ইউজিসি থেকে আগত কমিটির কাছে আমরা আমাদের ক্যাম্পাসের প্রকৃত তথ্য তুলে ধরি। তবে সেই মিটিংয়ে কমিটির পক্ষ থেকে আমাদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হয়। বিশেষ করে বুয়েটের ভিসি আমাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, তোমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তাছাড়া বাকি সদস্যরাও বলেন, তোমাদের ওপর যদি আবার বাসে বা অন্য কোথাও হামলা হয় তাহলে এর দায়ভার কি স্যাররা নেবে? স্যাররা কি তোমাদের সুরক্ষা দিতে পারবে? এই ধরনের কথা বলে আমাদের ভীতি এবং পরোক্ষভাবে হুমকি প্রদর্শনের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

উল্লেখ্য, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা। পরে কর্মবিরতি দিয়ে আন্দোলনে অংশ নেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। ৩৬ দিন পর গত বুধবার আংশিকভাবে শুরু হয় ক্লাস কার্যক্রম। তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হলেও এখনো তালাবদ্ধ রয়েছে প্রশাসনিক ভবন।

সূত্র : যুগান্তর