শিরোনাম
◈ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ভুয়া ভোটার সন্দেহে আটক ৩ শিক্ষার্থী ◈ পুলিশের দায়িত্ব কেবল চাকরির পরিচয় নয় বরং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যার মামলায় হানিফের মৃত্যুদণ্ড, ৩ আওয়ামী লীগ নেতার আমৃত্যু কারাদণ্ড ◈ সরকারি এলপিজির দাম ৭৭৭ টাকা, কোথায় যায় কারা পায়: ধরাছোঁয়ার বাইরে সাধারণ মানুষ ◈ ভুয়া এনআইডিতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিচ্ছেন রোহিঙ্গারা, পুলিশ ভেরিফিকেশন ফেরানোর চিন্তা ◈ বাকি টাকা মাগরিবের আগে পাঠান, না হলে বোটে আগুন জ্বালিয়ে দেব: যুবদল নেতার সঙ্গে মৎস্য কর্মকর্তার অডিও ভাইরাল ◈ গাজীপুরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাসায় হামলা, আহত দম্পতির অভিযোগ মামলা নেয়নি পুলিশ ◈ ৯৯৯-এ কল পেয়ে সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার, পকেটে আইফোন, হাতে ঘড়ি—যেভাবে শনাক্ত হলো ◈ হায়দরাবা‌দে টেনিসের জমিতে মসজিদ গড়ছেন সানিয়া মির্জা, বিতর্ক তুঙ্গে! ◈ হাসিনার পালানোর ভিডিও ধারণ নিয়ে আলোচনায় আসা সাবেক লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত : ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫২ দুপুর
আপডেট : ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সরকারি এলপিজির দাম ৭৭৭ টাকা, কোথায় যায় কারা পায়: ধরাছোঁয়ার বাইরে সাধারণ মানুষ

বাস্তবে অবশ্য ঢাকায় বেসরকারি এলপি গ্যাসের ১২ কেজি সিলিন্ডার কিনতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছে সম্প্রতি। সুলভ মূল্যের সরকারি এলপি গ্যাস সব সময় সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে।

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা কারণে বেসরকারি এলপি গ্যাসের সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য সরকার যেখানে ১ হাজার ৯১৩ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে, সেখানে সরকারের নিজের কোম্পানি ‘এলপি গ্যাস লিমিটেড’-এর পণ্যটির নির্ধারিত দাম মাত্র ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে একই পণ্যের দামে বিশাল পার্থক্যের কারণে চুরি, কালোবাজারিসহ নানা ধরনের অপরাধের জন্ম হচ্ছে। আর সরকারি কম দামের সুফল পাচ্ছে সমাজের সীমিত অংশ। তবে এখন পর্যন্ত সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা গ্যাসের পরিমাণ বেশ কম।

সরকারি পাইপলাইনের গ্যাসের অভাব এবং নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়ে চলায় দেশে বছর বছর বোতলীকৃত জ্বালানি এলপিজির চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে দেশে এলপিজির মাসিক চাহিদা ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ টনে ওঠানামা করছে। সেই হিসাবে দৈনিক চাহিদা ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টনের মধ্যে। আর সরকারি প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস লিমিটেডের বার্ষিক সক্ষমতা ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টন। অর্থাৎ সরকারি এলপিজি দিয়ে বার্ষিক চাহিদার মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ বা সারা দেশের ৩ থেকে ৫ দিনের চাহিদা পূরণ করা যায়।

Advertisement

সরকারি এলপিজির বড় একটি অংশ বিভিন্ন সরকারি বাহিনীকে সরবরাহ করা হয়। বাকি অংশ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার তালিকাভুক্ত ডিলারদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।

পদ্মা অয়েল কোম্পানির বিপণন বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, বাহিনীর বাইরের সিলিন্ডারগুলো রেশনিংয়ের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ডিলারদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। একজন ডিলার সর্বনিম্ন ৫টি থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ সিলিন্ডার পেয়ে থাকেন।

গত ৫ আগস্টের বিতরণ তথ্য তুলে ধরে পদ্মা অয়েল কোম্পানির ওই কর্মকর্তা বলেন, এদিন ডিলারদের কাছে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৯০০, কক্সবাজার অঞ্চলে ১ হাজার ৫০০, ফেনী অঞ্চলে ৮০০, কুমিল্লা অঞ্চলে ৩৫০ এবং নোয়াখালী অঞ্চলে ৩৪০টি সিলিন্ডার বিতরণ করা হয়েছিল। সেপ্টেম্বর মাসে ডিলারদের মাধ্যমে সাড়ে ১২ কেজির ৪০ হাজার সিলিন্ডার বিক্রি করে কোম্পানিটি।

বিপণনে নেই নিয়ম-শৃঙ্খলার ছাপ

রাষ্ট্রীয় বিতরণ কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার সিলিন্ডার বিতরণের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত ডিলারদের মধ্যে বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই। অগ্রাধিকার নির্ধারণেও নেই কোনো নীতিমালা।

যেমন গত ৫ আগস্ট সিলেটের একজন ডিলার এক দিনে ১ হাজার ৪০০ সিলিন্ডার পেয়েছিলেন। একই দিন সেখানকার অন্যান্য ডিলারের মধ্যে কেউ মাত্র ১০টি আবার কেউ বা ১৫টি করে পেয়েছেন। ডিলারভেদে বরাদ্দের এমন পার্থক্যের সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি পদ্মা অয়েলের বিপণন বিভাগের কর্মকর্তারা।

এদিনই খুলনা অঞ্চলের জন্য মোট বরাদ্দ ছিল মাত্র ৫০০ সিলিন্ডার। তালিকাভুক্ত ডিলাররা সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ২৫টি করে সিলিন্ডার পেয়েছেন।কালোবাজারি হচ্ছে, অভিযোগ কোম্পানির বাজারে সুলভ মূল্যে ছাড়া সরকারি এলপিজি কালোবাজারির শিকার হচ্ছে বলে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে অভিযোগ করে চিঠি দিয়েছে এলপি গ্যাস লিমিটেড। এই সমস্যার সমাধানে পণ্যটির দাম বাড়িয়ে বেসরকারি এলপিজির কাছাকাছি নেওয়ার প্রস্তাব করেছে তারা। এ ক্ষেত্রে উৎপাদন মূল্য হিসাব না করে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এতে প্রকৃত নিম্ন আয়ের মানুষের সুলভে গ্যাস পাওয়ার সুযোগ সামান্য যা আছে, তা-ও শূন্যের কোঠায় নেমে যেতে পারে।

বিইআরসির কাছে করা আবেদনে এলপি গ্যাস কোম্পানি বলেছে, বেসরকারি সিলিন্ডারের তুলনায় বিপিসির সিলিন্ডারের দাম অনেক কম হওয়ায় সরকারি গ্যাস বেসরকারি সিলিন্ডারে ভরে (প্রক্রিয়াটি ক্রস ফিলিং নামে পরিচিত) নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি করা হয়। এতে প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকেরা কম দামে সরকারি এলপি গ্যাস পাচ্ছে না। এই বাস্তবতায় এলপি গ্যাস কোম্পানির প্রস্তাব, যেহেতু একমাত্র সরকারি শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) প্রোপেন এবং বিউটেন ৩৫: ৬৫ অনুপাতে মিশিয়ে এলপি গ্যাস তৈরি করা হয়, তাই বেসরকারি খাতের মতো সরকারি এলপিজির ক্ষেত্রেও দুটি উপাদানের সৌদি সিপি মূল্যের ভিত্তিতেই দাম নির্ধারণ করা উচিত।

প্রসঙ্গত, সৌদি সিপি (কনট্র্যাক্ট প্রাইস) হচ্ছে প্রতি মাসে সৌদি আরামকো কোম্পানির প্রতিমাসে ঘোষণা করা এলপিজি ক্রয়-বিক্রয়ের আনুষ্ঠানিক বৈশ্বিক মূল্যসূচক।

এলপি গ্যাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. আমীর মাসুদ বলেন, তাঁদের উৎপাদন সক্ষমতা অনেক কম হওয়ায় গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। তিনি জানান, ইআরএল থেকে ১৬ হাজার টন ও কৈলাশটিলার জালালাবাদ গ্যাসফিল্ড থেকে প্রায় ৫ হাজার টন গ্যাস পাওয়া যায়। সংস্কারের পর ইআরএলের সক্ষমতা দ্বিগুণ হলে এলপিজির সরবরাহ সক্ষমতাও আরেকটু বাড়বে।

এলপি গ্যাস লিমিটেডের এমডির মতে, এলপিজির বাজারে বিপিসি বা কোনো সরকারি জ্বালানি কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে নেওয়া পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে।

দুই ডিলারের অভিজ্ঞতা

সরকারি বিতরণ কোম্পানি যমুনার তালিকাভুক্ত ডিলার হিসাবে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ব্যবসা করেন নাজির আহমেদ মোল্লা। তিনি বলেন, প্রতিমাসে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৭০টি সরকারি এলপিজি সিলিন্ডার তাঁর ভাগে আসে। তবে অনেক পুরোনো বলে সিলিন্ডারের মান বেশ খারাপ থাকে। কিছু সিলিন্ডারে লিকেজ থাকায় গ্যাস বের হয়ে যায়। তাই বাসাবাড়ির গ্রাহকেরা নেন না। এগুলো মূলত হোটেল-রেà