শিরোনাম
◈ ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থী-তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, পরিচ্ছন্নতায় জোর দিতে নির্দেশনা ◈ বাংলাদেশে টমেটো ও আলুর সংগ্রহ-পরবর্তী বিভিন্ন পর্যায়ে নষ্ট এক-তৃতীয়াংশ ধানে ১০.২৪% ◈ ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম ম‌্যাচ সন্ধ‌্যায়, মু‌খোমু‌খি বাংলা‌দেশ ও জিম্বাবু‌য়ে ◈ মেসি-পরবর্তী যুগে আর্জেন্টিনার প্রথম দুই প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত ◈ আগামী ২৪ ঘণ্টায় যেসব বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে ◈ উত্তরায় কিশোর গ্যাংয়ের দাপট, মাদক সিন্ডিকেট ও দখলদারি নিয়ন্ত্রণে ‘দে লাড়া’ গ্রুপ (পিচ্চি সানি) ◈ ইমরান খান, ক্যালিস, ও সোবার্সের তালিকায় সাকিব আল হাসান ◈ ভারত কোটি টাকা আয় করবে, আর বঞ্চিত হ‌বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ? ◈ হুতির হামলা আম‌লে নি‌চ্ছে না  সৌ‌দি আরব, যথাসময়ে এশিয়ান কাপ ফুটবল আয়োজনের ঘোষণা ◈ উপসাগরীয় অবকাঠামোয় ইরানের নিখুঁত হামলা, চাপে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধপরিকল্পনা

প্রকাশিত : ০৮ জুলাই, ২০২৬, ০৯:৪৮ সকাল
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিদেশি বিনিয়োগে উগান্ডা-ঘানারও পেছনে বাংলাদেশ : আঙ্কটাড

দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং আধা ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি জিডিপি থাকা সত্ত্বেও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে উগান্ডা ও ঘানার মতো আফ্রিকার ছোট অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাড-এর 'ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬'-এ এই হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে।

সোমবার (৭ জুলাই) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে মাত্র ১৮০ কোটি (১.৮ বিলিয়ন) ডলার। বিপরীতে আফ্রিকার দেশ উগান্ডা ৩৪০ কোটি ডলার এবং ঘানা ও ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) প্রত্যেকে ১৯০ কোটি ডলার করে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকার এই তিন দেশ জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংক্রান্ত বড় বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ পেয়ে লাভবান হলেও বাংলাদেশ তার ম্যানুফ্যাকচারিং ও সেবা খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ টানতে হিমশিম খাচ্ছে।

Advertisement

প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকলেও তলানিতে অবদান

বিনিয়োগের পরিমাণে পিছিয়ে থাকলেও ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এফডিআই প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের ১২৩ কোটি ডলারের তুলনায় ২০২৫ সালে বিনিয়োগ বেড়েছে ৪৫ শতাংশ। তবে এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য পর্যাপ্ত নয়। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশের মোট স্থাবর মূলধন গঠনের (জিএফসিএফ) মাত্র ১.৪ শতাংশ আসছে বিদেশি বিনিয়োগ থেকে। এর অর্থ হলো, দেশের বিনিয়োগের বিশাল অংশ এখনো অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর নির্ভরশীল।

অন্যদিকে, নতুন বা 'স্ক্র্যাচ থেকে' শুরু হওয়া গ্রিনফিল্ড প্রকল্পের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০২৪ সালে যেখানে গ্রিনফিল্ড প্রকল্পের মূল্য ছিল ১৭৩ কোটি ডলার, ২০২৫ সালে তা ২২.৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৩৩ কোটি ডলারে। এটি নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর বিদেশে বিনিয়োগের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। ২০২৪ সালের ১ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার থেকে ৭২.৬ শতাংশ বেড়ে ২০২৫ সালে এটি দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫০ লক্ষ ডলারে। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট এফডিআই স্টকের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯.৬ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৯.৯ শতাংশ বেশি। আঙ্কটাড-এর এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের মিল পাওয়া গেছে।

কেন এগিয়ে যাচ্ছে আফ্রিকা?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘানা, উগান্ডা এবং কঙ্গোর এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে বড় ধরনের নীতি সংস্কার।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর ঘানার প্রেসিডেন্ট জন মাহামা খরচ কমাতে এবং অভ্যন্তরীণ বাজার চাঙ্গা করতে বেশ কিছু কর বাতিল করেন। পাশাপাশি স্বর্ণ কেনার জন্য সরকারি সংস্থা গঠন করে দেশের রিজার্ভ শক্তিশালী করেন। ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি ২১ শতাংশ থেকে কমে ৩.৪ শতাংশে নেমেছে এবং রিজার্ভ ১১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ঘানা 'ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন অথরিটি (জিআইপিএ) অ্যাক্ট ২০২৬' পাস করে বিদেশি বিনিয়োগের ন্যূনতম মূলধনের শর্ত তুলে দিয়েছে এবং ডিজিটাল ও শিল্পায়ন প্রক্রিয়া সহজতর করেছে।

উগান্ডাও তাদের বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষকে 'ওয়ান স্টপ সেন্টারে' রূপান্তর করেছে এবং শিল্প পার্কগুলোতে বিশেষ সুবিধা প্রদান করছে। অন্যদিকে ডিআর কঙ্গো অবকাঠামো, বিদ্যুৎ খাতের উদারীকরণ এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার মাধ্যমে কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ টানছে।

বিশ্ব বিনিয়োগ পরিস্থিতি

উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে এশিয়া অঞ্চল বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০২৫ সালে এই অঞ্চলে মোট ৬৪৪ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই এসেছে। তবে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এখন ডিজিটাল অবকাঠামো, সেমিকন্ডাক্টর এবং উন্নত ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের দিকে বেশি ঝুঁকছে।

বিশ্বজুড়ে এফডিআই ৬ শতাংশ বেড়ে ১.৬ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত দুই বছরের পতন স্থগিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে আঙ্কটাড সতর্ক করেছে যে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, আঞ্চলিক সংঘাত এবং উচ্চ অর্থায়নের কারণে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি অনিশ্চিত হতে পারে।

বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র (২৭৭ বিলিয়ন ডলার)। এরপর শীর্ষ তালিকায় রয়েছে যথাক্রমে সিঙ্গাপুর (১৫১ বিলিয়ন ডলার), হংকং (১১৭ বিলিয়ন ডলার), চীন (১০৫ বিলিয়ন ডলার) এবং ব্রাজিল (৭৭ বিলিয়ন ডলার)।