শিরোনাম
◈ ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থী-তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, পরিচ্ছন্নতায় জোর দিতে নির্দেশনা ◈ বাংলাদেশে টমেটো ও আলুর সংগ্রহ-পরবর্তী বিভিন্ন পর্যায়ে নষ্ট এক-তৃতীয়াংশ ধানে ১০.২৪% ◈ ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম ম‌্যাচ সন্ধ‌্যায়, মু‌খোমু‌খি বাংলা‌দেশ ও জিম্বাবু‌য়ে ◈ মেসি-পরবর্তী যুগে আর্জেন্টিনার প্রথম দুই প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত ◈ আগামী ২৪ ঘণ্টায় যেসব বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে ◈ উত্তরায় কিশোর গ্যাংয়ের দাপট, মাদক সিন্ডিকেট ও দখলদারি নিয়ন্ত্রণে ‘দে লাড়া’ গ্রুপ (পিচ্চি সানি) ◈ ইমরান খান, ক্যালিস, ও সোবার্সের তালিকায় সাকিব আল হাসান ◈ ভারত কোটি টাকা আয় করবে, আর বঞ্চিত হ‌বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ? ◈ হুতির হামলা আম‌লে নি‌চ্ছে না  সৌ‌দি আরব, যথাসময়ে এশিয়ান কাপ ফুটবল আয়োজনের ঘোষণা ◈ উপসাগরীয় অবকাঠামোয় ইরানের নিখুঁত হামলা, চাপে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধপরিকল্পনা

প্রকাশিত : ০৬ জুলাই, ২০২৬, ০৬:১১ বিকাল
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চট্টগ্রাম বন্দরে নিখোঁজ কাস্টমসের লক করা ২৫০ ঝুঁকিপূর্ণ কনটেইনার, বারবার তাগিদেও মিলছে না হদিস

দেশের অন্যতম কঠোর কার্গো ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমস অপরাধের সন্দেহে চিহ্নিত অন্তত ২৫০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ আমদানি কনটেইনারের কোনো ভৌত অবস্থান বা হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর পর্যালোচনা করা সরকারি চিঠিপত্র থেকে জানা গেছে, চোরাচালান, পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা কিংবা শুল্ক ফাঁকির সন্দেহে—কাস্টমসের সফটওয়্যার অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে লক বা অবরুদ্ধ করে রাখা—২৫০টি কনটেইনারের প্রকৃত অবস্থান শনাক্ত করতে, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস গত ৯ মাসে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে (সিপিএ) বারবার তাগিদ দিয়েছে।

কাস্টমসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট (এআইআর) শাখা থেকে চলতি বছরের এপ্রিলে পাঠানো সর্বশেষ তাগাদাটির আগে একই তথ্য চেয়ে অন্তত তিনটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ এখনো পর্যন্ত সেসব কনটেইনারের অবস্থান জানাতে পারেনি।

এদিকে হদিস না মেলা কনটেইনারগুলোর তালিকায় ২০২১ সালের ৮৩টি; ২০২২ সালের ৬১টি; ২০২৩ সালের ৪০টি এবং ২০২৪ সালের ৬৬টি কনটেইনার রয়েছে। কাস্টমসের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, তদন্ত কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরীক্ষা না করা পর্যন্ত এই চালানগুলো খালাস করার কোনো সুযোগ নেই।

Advertisement

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কনটেইনারগুলোর অবস্থানই খুঁজে না পাওয়ায় কোনো ধরনের পরিদর্শন বা তদন্ত প্রক্রিয়া চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

"আমরা এই কনটেইনারগুলোর অবস্থান জানতে চেয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষকে তিন থেকে চারবার চিঠি দিয়েছি। আমাদের শেষ রিমাইন্ডার গত এপ্রিলে পাঠানো হলেও– আমরা এখনো কোনো তথ্য পাইনি," এআইআর শাখার ডেপুটি কমিশনার তারেক মাহমুদ টিবিএস-কে বলেন।

তিনি আরও বলেন, "আমরা বলতে পারছি না যে সবগুলো কনটেইনারই নিখোঁজ রয়েছে, তবে আমরা বন্দরের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না। তাই জোরালো একটা আশঙ্কা রয়েছে যে, এর মধ্যে অনেক কনটেইনারই আসলে গায়েব হয়ে গেছে।"

এদিকে কনটেইনারগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানতে না পারায়—কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আমদানিকৃত পণ্য যাচাই করতে পারছে না, তদন্ত শেষ করতে পারছে না এবং শুল্ক জালিয়াতির সন্দেহে থাকা আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপও নিতে পারছে না।

আলাদা চুরির ঘটনায় উদ্বেগ আরও গভীর

লক করা কনটেইনারগুলোর হদিস না মেলার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন এক বছরের মধ্যে বন্দর থেকে ফ্যাব্রিক-বোঝাই অন্তত তিনটি লোডেড কনটেইনার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার তদন্ত চলছে।

এর মধ্যে একটি ঘটনা ঘটেছে ব্যবসায়ী সেলিম রেজার সাথে, যিনি শাহ আমানত ট্রেডিংয়ের মালিক। তিনি কাস্টমসের একটি ইলেকট্রনিক নিলামের (ই-অকশন) মাধ্যমে ২৭ টন আমদানিকৃত ইনডিগো ফ্যাব্রিকের একটি কনটেইনার কিনেছিলেন। এই পণ্যের জন্য তিনি ৮৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন এবং ভ্যাট, অগ্রিম আয়কর ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক চার্জ মিলিয়ে তার মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৬ লাখ টাকা।

নিলামে অংশ নেওয়ার আগে কনটেইনারটি নিজে দেখে যাচাই করার পর, গত ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি পণ্য খালাস নিতে বন্দরে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন যে কনটেইনারটি উধাও হয়ে গেছে।

এর চার মাস পর, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে যে বন্দরের অভ্যন্তরে কোথাও ওই কনটেইনারটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ২০২৫ সালের ২ জুলাই এক চিঠিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি যৌথ তদন্ত কমিটি কনটেইনারটির হদিস বের করতে ব্যর্থ হয়েছে, যারে ফলে নিলামে ক্রয়কারীর কাছে সেটি হস্তান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে, পণ্যবোঝাই আরও দুটি কনটেইনার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ আলাদা দুটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, জাল সিল, ভুয়া স্বাক্ষর এবং জালিয়াতি করা গেট পাসের নথিপত্র ব্যবহার করে বন্দর থেকে একটি কনটেইনার বের করে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে নগরীর হালিশহর এলাকা থেকে খালà