দাম বাড়লেও চলতি বছর সারাদেশে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। এ পেঁয়াজের প্রায় পুরোটাই দেশে উৎপাদিত। এতে তেমন আমদানি না হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়েছে। আবার ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরাও উপকৃত হয়েছেন। ফলে নতুন মৌসুমে আরও বেশি পেঁয়াজ আবাদের পরিকল্পনা নিয়েছেন কৃষকরা।
পুরো বছরজুড়ে সরবরাহে ঘাটতি না পড়ার মূলে ছিল পেঁয়াজ সংরক্ষণে প্রযুক্তির ব্যবহার। আগে চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন করেও পচে যাওয়ার কারণে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতো। এবার পেঁয়াজের পচন রোধ করতে পারায় সেই ঘাটতি হয়নি। পেঁয়াজ সংরক্ষণে কৃষকপর্যায়ে ‘এয়ার ফ্লো প্রযুক্তি’ ব্যবহারের মাধ্যমে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে বাজিমাত করেছে সরকারের কৃষি বিভাগ।
এয়ার ফ্লো প্রযুক্তি কী?
পেঁয়াজ সংরক্ষণের ‘এয়ার ফ্লো প্রযুক্তি’ হলো একটি আধুনিক পদ্ধতি। এ প্রযুক্তিতে পেঁয়াজের স্তূপ বা গাদার ভেতর ফ্লো মেশিনের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে নিয়ন্ত্রিত বাতাস প্রবাহিত করা হয়। এতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা কম থাকে এবং পেঁয়াজ বেশি দিন ভালো থাকে।
এ প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য পেঁয়াজ সরাসরি মেঝেতে না রেখে মাচার ওপর গাদা করে রাখা হয়, যাতে নিচে বাতাস চলাচল করতে পারে। পেঁয়াজের স্টোর রুম বা ঘরের নিচে বা পাশে একটি ব্লোয়ার লাগানো হয়। যেটি পেঁয়াজের গাদার মধ্যে জোরে বাতাস ঢুকিয়ে দেয়। মূলত ব্লোয়ারটিই হলো এয়ার ফ্লো মেশিন। মেশিনটি চালু থাকলে ব্লোয়ার থেকে বাতাস চারদিকে ঘুরে। এতে পেঁয়াজ শুকনো রাখে, তাপমাত্রা কমায়, আর্দ্রতা বের করে ছত্রাক, পচা, গলা ও নরম হওয়া কমায়। ইতোমধ্যে এয়ার ফ্লো মেশিন ব্যবহার করে অনেক কৃষক ছয় থেকে আট মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ ভালো রাখতে পেরেছেন বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।
ফরিদপুরে ১০ টনের একটি এয়ার ফ্লো মেশিনের পাশে প্রায় ২৫০ মণ পেঁয়াজ রাখা যায়, যার দাম ১৫ হাজার টাকা। ১২ টনের মেশিনের দাম (৩০০ মণ পেঁয়াজ রাখা যায়) ১৭ হাজার ও ১৪ টন (৪০০ মণ পেঁয়াজ রাখা যায়) সাইজের মেশিনের দাম ২০ হাজার টাকা।
‘দেশে যত পেঁয়াজ উৎপাদন হয়, তার ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ নানান কারণে নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে সংরক্ষণের অভাবে পচে যায়।’ -সাবেক ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার
নষ্ট হতো ৩০-৩৫ শতাংশ পেঁয়াজ
কৃষি বিভাগ বলছে, আগের বছরগুলোতে উৎপাদিত পেঁয়াজের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পচে যেতো। এতে বেশি উৎপাদন করেও চাহিদায় ঘাটতি তৈরি হতো। এয়ার ফ্লো প্রযুক্তি ব্যবহারে সে পচন কমে পাঁচ শতাংশের নিচে নেমেছে। ফলে আগের বছরগুলোতে যেখানে পাঁচ থেকে সাত লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হতো, সেখানে গত এক বছরে পেঁয়াজ আমদানি প্রায় শূন্যের কোটায় নেমেছে। এতে সামনের বছরগুলোতে উৎপাদন আরও বেড়ে দামও ভোক্তার সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের।
<