শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ০৫:৪১ বিকাল
আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ০৫:৪৩ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বৌদ্ধ বিহারের জমিতে পাবলিক টয়লেট স্থাপন, নিন্দায় ৪৪ নাগরিক 

সঞ্চয় বিশ্বাস: [২] কুয়াকাটা শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারের সত্ত্ব দখলীয় ভূমিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে কুয়াকাটা পৌরসভা কর্তৃক পাবলিক টয়লেট নির্মান কাজের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের ৪৪ জন নাগরিক। তারা একই সাথে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত করে বৌদ্ধ বিহারের জমির পরিবর্তে অন্য স্থানে পাবলিক টয়লেট স্থানান্তর করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

[৩] বিবৃতিতে তারা বলেছেন, আমরা গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগের সাথে জেনেছি যে, কুয়াকাটার কেরানীপাড়া সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার- এর স্বত্ত্ব দখলীয় ২.৪৪ একর ভূমিতে যা তৎকালীযন খেপুপাড়া কোলোনাইজেশন অফিসার বিগত ১৭/১২/১৯৪৬ ইং তারিখে সম্পাদিত ও ০৭/১১/১৯৪৭ তারিখে রেজিষ্ট্রিকৃত ০৯ নং চুক্তিপত্র দলিলের মাধ্যমে বৌদ্ধ বিহার নির্মানের জন্য কেরানীপাড়র মগগন- এর পক্ষে পাড়া মাদবর নোলাউ মগ বরাবরে এ জমির দখল বুঝিয়ে দেয় এবং এ দলিল মূলে শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার কর্তৃপক্ষ এর মালিকানা লাভ করে। 

[৪] তবে বৌদ্ধ বিহারের দখলীয় রাখাইন মার্কেট সংলগ্ন ভূমিতে কুয়াকাটা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পাবলিক টয়লেট নির্মানের সেই জায়গাটিকেই বেছে নেয়। এর আগে এখানে কোন স্থাপনা নির্মান না করার জন্য বৌদ্ধ বিহার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উচ্চ আদালতে রীট আবেদন করলে উচ্চ আদালত এখানে স্থগিতাদেশ দেন। এই আদেশের কপি প্রদর্শন করে তারা আপত্তি জানালে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ করে। 

[৫] কিন্তু শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দ্রুত গতিতে সবার অগোচরে অনেক শ্রমিক দ্বারা পাবলিক টয়লেটের ছাদ ঢালাই এর কাজ শেষ করে ফেলে। তবে এই ব্যাপারে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কখনই বৌদ্ধ বিহার কর্তৃপক্ষের সাথে কোন আলোচনা করারও প্রয়োজন মনে করেনি। 

[৬] সংখ্যালঘু রাখাইন সম্প্রদায় জনগণ বলেন, এমন অসাংবিধানিক নিপীড়নমূলক ও সাম্প্রদায়িক মনোভাব সম্পন্ন কাজ কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না। এলাকার উন্নয়ন কাজ হবে, তা খুবই ভাল কথা, তাই বলে বৌদ্ধ বিহারের মতো পবিত্র স্থানে পাবলিক টয়লেট স্থাপন কখনই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা এ ঘটনার জন্য তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানাচ্ছি। 

[৭] পাশাপাশি আমরা মনে করি এ ঘটনার দায় স্থানীয় প্রশাসন কখনও এড়াতে পাারেনা। আমরা জানতে পেরেছি যে, দেরিতে হলেও পটুয়াখালি জেলা প্রশাসক ইতোমধ্যে এ কাজ বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছেন এবং পাশাপাশি কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্মান কাজ বন্ধের ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। আমরা তাদের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। 

[৮] পাশাপাশি কেন বৌদ্ধ বিহারের দেয়াল ভেঙ্গে এবং উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ অমান্য করে পাবলিক টয়লেট স্থাপন করার চেষ্টা করা হলো তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে এ ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

[৯] বিবৃতিতে সুলতানা কামাল, খুশী কবির, অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, রাশেদা কে. চৌধুরী, অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, পারভীন হাসান, শিরিন হক, ইফতেখারুজ্জামান, আইনজীবী ফস্টিনা পেরেরা, অ্যাডভোকেট সালমা আলী, শারমিন মুরশিদ, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, রোবায়েত ফেরদৌস, আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, কাজল দেবনাথ, তবারক হোসেইন, অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজিম উদ্দিন খান, শহিদুল আলম, মনিন্দ্র কুমার নাথ, শামসুল হুদা, তাসনীম সিরাজ মাহবুব, অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম, রাহনুমা আহমেদ, রেজাউল করিম লেনিন, অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, অধ্যাপক বীনা ডি কস্টা, স্বপন আদনান, সাংবাদিক সাঈদা গুলরুখ, সঞ্জীব দ্রং, সায়মা খাতুন, অধ্যাপক সায়মা লুৎফা, জাকির হোসেন, মো. নুর খান, ব্যারিস্টার আশরাফ আলী, অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী, ব্যারিস্টার শুভ্র চক্রবর্তী, ব্যারিস্টার শাহাদাত আলম, দীপায়ন খীসা, জোবাইদা নাসরীন কণা, পল্লব চাকমা, হানা শামস আহমেদ ও মুক্তাশ্রী চাকমা সই করেছেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়