শিরোনাম
◈ এক বছরে নতুন করে দরিদ্র বেড়েছে প্রায় ২১ লাখ বাংলাদেশি, চাকরি হারাচ্ছেন নারীরা ◈ সরকারি কলেজের বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের বদলি-পদায়ন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত, জারি নতুন নির্দেশনা ◈ প্রতিটি শিশুর প্রতিভা বিকাশে খেলাধুলা ও সৃজনশীলতার সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে জোর করে পদত্যাগে স্বাক্ষরের অভিযোগ ◈ ভিসা আবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য না দিলে অযোগ্য হতে পারেন: মার্কিন দূতাবাস ◈ ভারতীয় ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে নতুন নির্দেশনা, জেনে নিন বুকিংয়ের নিয়ম ◈ খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ মেট্রোরেল লাইনে কুকুর ঢুকে বন্ধ ট্রেন চলাচল, পরে স্বাভাবিক ◈ ২০২৭ সাল থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ৪ নতুন বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী ◈ হঠাৎ দিল্লি গেছেন দীনেশ ত্রিবেদী

প্রকাশিত : ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:৩৭ বিকাল
আপডেট : ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:৩৭ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরের সেই ৩০ শিক্ষার্থীর স্কুল ত্যাগ, সংবাদ সম্মেলনে কারণ জানালেন অভিভাবকেরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৩০শিক্ষার্থীর ছাড়পত্র (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিভাবকেরা। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধ, হুমকি ও বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ না থাকার অভিযোগ তুলে সন্তানদের অন্যত্র ভর্তি করানোর কথা জানিয়েছেন তারা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভাষাণচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর বাজারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে অভিভাবকরা উপস্থিত থেকে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অভিভাবক মুন্নাফ শেখ।

সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবকেরা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. সামাদের মেয়েকে সমর্থন না করায় তারা ক্ষুব্ধ হন। এরপর সাবেক প্রধান শিক্ষক ও তাঁর ছেলেরা বিভিন্ন সময় অভিভাবকদের হুমকি দিয়ে আসছেন। এতে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তারা বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র নিয়ে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে অভিভাবক মুন্নাফ শেখ বলেন, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. সামাদের মেয়েকে পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে সমর্থন না করায় তিনি ও তাঁর ছেলে বিভিন্ন সময় আমাদের হুমকি দিয়ে আসছেন। তাই বাচ্চাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছি।

Advertisement

আরেক অভিভাবক মো. আকল শেখ বলেন, তাঁর ছেলে ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্তানের পড়াশোনা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি ছাড়পত্র নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছেন।

অভিভাবক মাকসুদা বেগমও বিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করানোর জন্যই অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অভিভাবকেরা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান শিক্ষকতার পাশাপাশি পশু চিকিৎসা, বিবাহ নিবন্ধন ও স্থানীয় মাতুব্বরির সঙ্গে যুক্ত থাকেন। ফলে বিদ্যালয়ে পাঠদানের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রয়োজনীয় মনোযোগ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

তবে অভিভাবকদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. সামাদ। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা হুমকি দেওয়ার অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সত্য নয়। তিনি বলেন, আমি অবসর গ্রহণে পর বিদ্যালয়েই যাই না। একটি মহল তাদের স্বার্থে অভিভাবকদের ব্যবহার করছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান জানান, আমি টুকটাক পশু চিকিৎসার সাথে জড়িত। তবে স্কুল বাদ দিয়ে না। স্কুল টাইমে আমি ক্লাসেই থাকি, তবে বিশেষ প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যাই।   

অভিভাবকেরা বলেন, সন্তানদের নিরাপত্তা ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনার কথা চিন্তা করেই আমরা তাদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছি। আমরা চাই, আমাদের সন্তানসহ বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন কোনো ধরনের ভয় বা আতঙ্ক ছাড়াই নিরাপদে বিদ্যালয়ে যেতে পারে এবং স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।