শিরোনাম
◈ পুলিশ তো আমার হাতে নেই, তবে মুরগি আছে: সংসদে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর মন্তব্যে হাসির রোল ◈ ভূ‌মিক‌ম্পে ভেনেজুয়েলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩৭ বিলিয়ন ডলার ◈ ভারত-চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে কৌশলগত ভারসাম্য গড়ছে বাংলাদেশ: জন ড্যানিলোভিচ ◈ টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রেললাইন, এক হাজার যাত্রী নিয়ে আটকা পর্যটক এক্সপ্রেস ◈ সাঙ্গু-মাতামুহুরীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি, বান্দরবানে ২২০ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত ◈ ভারি বৃষ্টিতে শাহ আমানতে অবতরণ করতে পারেনি তিন ফ্লাইট ◈ বাংলাদেশের গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাজ্যের ◈ চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৭ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ১৯ ◈ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রকৃত অপরাধীদেরই বিচার নিশ্চিত করবে সরকার: আইনমন্ত্রী ◈ কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধস, নিহত বেড়ে ১১

প্রকাশিত : ০৭ জুলাই, ২০২৬, ০৭:৫২ বিকাল
আপডেট : ০৭ জুলাই, ২০২৬, ০৮:৩৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দেশীয় মাছ কমছে, সংকুচিত হচ্ছে জেলেদের জীবন-জীবিকা

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার নদ-নদী, খাল-বিল ও উন্মুক্ত জলাশয় থেকে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা
বলছেন, কার্যকর উদ্যোগ না নিলে অনেক দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। এতে নদীকেন্দ্রিক
খাদ্যঐতিহ্যের পাশাপাশি জেলেদের জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, এক দশক আগেও পদ্মা নদীর শাখা, চর রূপপুর খাল, পাকশীর সংযোগ খাল, লক্ষ্মীকুণ্ডা খাল, সাঁড়া ইউনিয়নের সেচ খাল এবং বিলকেদার, রূপপুর, লক্ষ্মীকুণ্ডা, দাশুড়িয়া ও মুলাডুলির বিলে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। মাছ ধরেই অনেক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করত। এখন উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ কমে যাওয়ায় অনেক জেলে পেশা বদলাতে বাধ্য হয়েছেন।

উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঈশ্বরদী উপজেলায় ১টি নদী, ২৩টি সরকারি পুকুর এবং ২ হাজার ৪৫৩টি বেসরকারি পুকুর রয়েছে। এখানে নিবন্ধিত মৎস্যজীবীর সংখ্যা ১ হাজার ৬৯৩ এবং মাছ চাষি ১ হাজার ৫১৭ জন। উপজেলায় বছরে মাছের চাহিদা ৫ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ৫ হাজার ৭৪৫ মেট্রিক টন। মাছের এই বাড়তি উৎপাদনের মধ্যেও উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের মিঠাপানির প্রায় ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে এই উপজেলায় শতাধিক প্রজাতি এখন চরম অস্তিত্বসংকটে পড়েছে। এর মধ্যে টেংরা, পুঁটি, বাইম, বোয়াল, গজার, আইড়, মাগুর, শোল, টাকি, চাঁদা, খলিসা ও গুলশাসহ বেশ কয়েকটি সুপরিচিত দেশি মাছের প্রজাতি উল্লেখযোগ্য।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, নদী-নালা ও খাল-বিল দখল এবং ভরাট,
নিষিদ্ধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার, প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস, অতিরিক্ত মাছ আহরণ,
ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ ধরা, কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার এবং জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় দেশীয় মাছ দ্রুত কমছে। বিল দখল হয়ে যাওয়ার কারণেও অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে।

মুলাডুলি ইউনিয়নের হাজারীপাড়া গ্রামের হোসেন আকন্দ (৭৯) বলেন, ‘ছোটবেলায় বিলে জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ উঠত। বর্ষায় ঘরের ভেতরেও মাছ চলে আসত। এখন খাল-বিলে মাছের দেখাই মেলে না।’

পাকশী ইউনিয়নের গাইড বাঁধ এলাকার জেলে ইউসুপ মিয়া বলেন, আগে মাছ বিক্রি করেই সংসার চলত। এখন আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। দেশি ছোট মাছের দাম কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে তা কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ঈশ্বরদী মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জিয়াউর রহমান জানান, আগে বাজারে দেশীয় মাছের সরবরাহে কোনো সংকট ছিল না। এখন মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় দামও বেড়েছে। সরকারি সাঁড়া মাড়োয়ারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. আয়নুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ছোটবেলায় ছোট মাছের অভাব ছিল না। এখন সেই মাছই পাওয়া দুষ্কর। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো এসব মাছ শুধু ছবিতেই দেখবে।’

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মী শিরীন বলেন, জলাশয় ভরাট, নদীতে পানির সংকট, অতিরিক্ত মাছ
আহরণ এবং কীটনাশকের ব্যবহারের কারণে দেশীয় মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে। পরিস্থিতি
মোকাবিলায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ নিয়ন্ত্রণ, জলাশয়
সংরক্ষণ ও পুনঃখনন, পোনা মাছ অবমুক্তকরণ, অভয়াশ্রম স্থাপন এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ
আদালত পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়