কল্যাণ বড়ুয়া, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের বাঁশখালীর অধিকাংশ নিস্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে ও ক্ষতি হয়েছে ফসলী জমি আর ফসল। বিগত কয়দিনের প্রবল বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের পানিতে ইতিমধ্যে বাঁশখালীর ছনুয়া, পুইছড়ি, শেখেরখীল, চাম্বল, শীলকুপ, সরলের কাহারঘোনা মিনজীরিতলা, পৌরসভা জলদী, বৈলছড়ি, কাথরিয়া, বাহারছড়া, সাধনপুর, কালীপুর, পুকুরিয়া, খানখানাবাদ এলাকা।
দুর্যোগে সাধারন মানুষের নিরাপত্তা পাহাড় ধস সহ ডে কোন বিপদ মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মিটিং করেছে। তাতে বাঁশখালীর সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সহ প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যেকোন ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসুচী (সিপিপির) ১৪শত ২০জন স্বেচ্ছাসেবকেরা উপকুলীয় এলাকায় প্রচারনা এবং পাশাপাশি উন্নয়ন সংস্থা ইপসার প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকগন পাহাড় ধস ও পাহাড়ি ঢল থেকে রক্ষা পেতে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বাঁশখালীর সর্বদক্ষিনের ছনুয়া ইউনিয়নের সয়গঠক আনোয়ার আজিম সাইফী বলেন,আমাদের উপকূলীয় পাবলিক লাইব্রেরিও পানিবন্দী। টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এই ইউনিয়নের অধিকাংশ জনপদের বাড়িঘর পানিতে ডুবে যাবে। আল্লাহ সহায় হোন।
এছাড়া ছনুয়া ইউনিয়নের ২, ৩, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে প্রায় এক হাজার পরিবার জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে বসতঘর, মাছের প্রজেক্ট ও সড়ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্লুইসগেটে মাছ ধরার জাল বসিয়ে রাখায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না। এতে মধুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
পুইছড়ি এলাকার স্থানীয় নাজিম উদ্দিন জানান, পাহাড়ি ঢলে পুঁইছড়ির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মদিনাতুল উলুম মাদরাসা সংলগ্ন সড়ক পানির নিচে থাকায় শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বাহারছড়া ইউনিয়নের অধিকাংশ নিস্ম এলাকা পানিবন্দী পাশাপশি দক্ষিণ রত্নপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দিঘিরপাড়া এলাকার একমাত্র চলাচলের সড়কটি কাদা ও জলাবদ্ধতায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।স্থানীয় মারুফ তালুকদার বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কাদায় ভরে যায়। এতে শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের চলাচলে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।’
শেখেরখীল ইউনিয়নের নাপোড়া শেখেরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হিন্দুপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। কয়েকশ বসতঘর প্লাবিত হয়েছে। সরকার বাজারের উত্তর পাশের নোয়াপাড়া, মোহাব্বত আলী পাড়া, কাচারীপাড়াসহ কয়েকটি গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মৌলভীর দোকান থেকে সরকার বাজার পর্যন্ত সড়কও পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
অতিরিক্ত বৃষ্টি ও ঝুকির কারণে সকল ধরনের পরীক্ষা স্থগিত ও দুইদিন বাঁশখালী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (বঙ্গবন্ধু স্কুল)বন্ধ ঘোষনা করেছে প্রধান শিক্ষক মোঃ ওমর ফারুক।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আউশ ধানের বীজতলা, সবজি ক্ষেত ও নিম্নাঞ্চলের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে। কৃষকদের ক্ষতি কমাতে মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘বৃষ্টি ও জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া যে কোন দুর্যোগ মোবাবেলায় সিপিপি সহ উন্নয়ন সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকেরা মাঠে প্রচারনা চালাচ্ছে বলে তিনি জানান।