শিরোনাম
◈ সৌদি আরবে মক্কার মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ◈ বিদেশে ইউনূস-আখতার-বাঁধনসহ বাংলাদেশিদের হেনস্তা, প্রশ্নের মুখে দূতাবাসের ভূমিকা ◈ চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ, ৩০ বাংলাদেশির ২০ জনের মৃত্যু ◈ ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা রুটে নতুন ট্রেন, ভারত থেকে আসছে ২০০ কোচ; প্রথম চালানে এল ১৮টি, থাকছে বেবি কেয়ার রুম ও প্রার্থনাকক্ষ ◈ ভিউ-লাইক আর টাকার লোভে অন্যকে অপমান, বিবেক কোথায় আমাদের? এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত: মেহজাবীন চৌধুরী ◈ পশু জবাই নিয়ে বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তি, দুঃখ প্রকাশ জবি প্রশাসনের ◈ হালান্ডের রেকর্ডের রাতেও ইতিহাদে পিএসজির জয় ◈ এক পদে দুই বেতন, ফিফা সভাপ‌তি ইনফান্তিনোকে ঘিরে নতুন বিতর্ক ◈ নারীদের প্রতি বৈষম্যের প্রতিবাদে আফগান লিগ ছাড়লেন তিন ইংলিশ ক্রিকেটার ◈ ধরা পড়ে কিশোররা, আড়ালে থেকে যায় ‘বড়ভাইয়েরা’: অপরাধ থামবে কীভাবে ?

প্রকাশিত : ২৬ জুন, ২০২৬, ০৮:৫০ রাত
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা: জানাজায় অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায়

জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও ৩ মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ঘাতককেও পিটিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। ফলে পাঁচ প্রাণহানির এই ঘটনায় হত্যার রহস্য হয়ে উঠেছে জটিল। এখনো জানা যায়নি কোনো কারণ। এদিকে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জেলা ব্যাপী বিরাজ করছে আতঙ্ক আর ক্ষোভ। দেশব্যাপী চলছে আলোচনা আর সমোচলনা। কি কারণে এই হত্যা এখন সবার এই একটাই প্রশ্ন। তবে পুলিশ বলছে হত্যাকান্ডের কারণ অনুসন্ধান চলছে। তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যানে।

জানা যায়, ৭ বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হয়ে মারা যায় নিহত শাহিনুর বেগম স্বামী কামাল। ৩ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার পৌর শহরের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন শাহিনুর। স্বামীহারা এ মায়ের দীর্ঘ সংগ্রাম, সন্তানদের নিয়ে গড়া স্বপ্ন—সবকিছু মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় বৃহস্পতিবার সকালে ঘাতকের এক হামলায়। মা ও তিন মেয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন একই ভবনের সাবেক এক ভাড়াটিয়া অন্তর মজুমদার। চিৎকার শুনে ভবন ঘীরে ফেলে উত্তেজিত জনতা। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহ তাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।

নিহতরা হলেন মা শাহিনুর বেগম (৩৮), বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেঝো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলায়। তারা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ঘটনাস্থলে ভাড়া থাকেন। ঘাতক অন্তর মজুমদার নোয়াখালীর সূবর্নচরের কার্তিক মজুমদারের ছেলে বলে জানা যায়। অন্তর কয়েক মাস আগে একই বিল্ডিংএ বাসা ভাড়া থাকতেন এবং তিনি ফল বিক্রেতা ছিলেন। নিহতের ঘটনায় বেঁচে থাকা পরিবারের একমাত্র সন্তান সিফাত এ ঘটনায় এখন পুরোই বাকরুদ্ধ।

কাঁদতে কাঁদতে কখনো মেঝেতে লুটিয়ে পড়ছে, কখনো জ্ঞান হারাচ্ছে সে। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে শোক আহত সে। তাকে শান্ত দিচ্ছেন তার কর্মস্থলের মালিকসহ অন্যান্যরা।

Advertisement

এদিকে শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে নিহত একই পরিবারের চার জন ও গণপিটুনিতে নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত শেষ করা হয়। গণপিটুনির শিকার নিহত অন্তর মজুমদারের মরদেহ নিতে এ পর্যন্ত তার কোনো স্বজন বা পরিচিত ব্যক্তি  আসেননি বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। তার লাশ সদর হাসপাতালের হিমঘরে রাখা রয়েছে। নিহত মা ও মেয়েদের লাশ রায়পুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে নিহত একই পরিবারে চার জনের লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।  নিহতদের লাশ গ্রহণে কুমিল্লা থেকে শাহিনুর বেগমর শ্বশুর ও দেবর এসেছেন।

এদিকে নিহত মা ও তিন মেয়ের জানাজা বিকেল সাড়ে ৫টায় রায়পুর শহরের ধানহাটা এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদসহ প্রায় ২ হাজার মানুষ অংশ নেন। পরে তাদের মরদেহ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।

এদিকে নৃশংস এই হত্যা কান্ডের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ বলছে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি দ্রুত তদন্তকরে ঘটনার রহস্য উন্মোচিত করার মাধ্যমে প্রকৃতি অপরাধীকে শনাক্ত করা হউক।

নিহত শাহিনুর বেগমের ছেলে সিফাত জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কর্মস্থলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়। সকাল ৯টার দিকেও তার সঙ্গে মুঠোফোনে মায়ের কথা হয়েছে। নাশতা করেছি কি না সেটি জানতে চেয়েছিলেন মা শাহিনুর বেগম। মা শুধু জিজ্ঞেস করছিল নাশতা খাইছি কি না। আমি বলছি—খাইছি। এরপর আর কোনো কথা হয়নি। পরে খবর পেয়ে বাড়ি এসে দেখি সব শেষ। সন্দেহ ব্যক্তির সাথে তাদের কোন পূর্ব বিরোধের কথা বলতে পারেনি সে।

সিফাতের কর্মস্থলের মালিক রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ খবর পেয়ে আমরা দোকান থেকে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। ঘরের ভেতরে ঢুকে যে দৃশ্য দেখেছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। মেঝেজুড়ে রক্ত। মা ও তিন মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এমন ভয়াবহ দৃশ্য জীবনে কখনো দেখিনি। তিনি বলেন, সিফাত আমার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। ছেলেটা খুবই ভদ্র ও পরিশ্রমী। সামান্য বেতনে চাকরি করে সে পরিবারের হাল ধরার চেষ্টা করছিল। সে এক দিনেই তার মা ও তিন বোনকে হারিয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে। আমরা এ ঘটনার সাথে কি শুধুই অন্তত জড়িত না তার সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে চাই।

লাশ নিতে আসা নিহত শাহিনুর বেগমের দেবর সদর হাসপাতালের সামনে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, তার ভাবি ও ভাতিজীরা খুব ভালো মানুষ ছিলেন, কেন তাদের খুন করা হলো। তারা তো কারো কোন ক্ষতি করেনি।

নিহত শাহিনুর বেগমের শ্বশুর দাদন মিয়ে বলেন, সর্বশেষ কোরবান ঈদের পর তার সাথে তাদের কথা হয়। এর পরে আর যোগাযোগ হয়নি। এখন এই ঘটনা ঘটলো।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. অরুপ পাল বলেন, সুরতাল রিপোর্ট আসার পর সকলের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তাদের শরীরের বিভিন্ন জগায় আগাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন মিয়া বলেন, এ ঘটনায় নিহত শাহিনু্‌ুর বেগমের ছেলে সিফাত বাদী হয়ে রায়পুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দারের করেছে। মামলাটি তদন্ত অধীন রয়েছে।