শিরোনাম
◈ শার্শায় পুত্রবধুকে ধর্ষনে শশুর গ্রেফতার ◈ সীমান্তে বিএসএফের খুঁটি বসানোর চেষ্টা ব্যর্থ করে দিলো বিজিবি ◈ দুই দিনে জমা ৩৩ মনোনয়নপত্র, এবার যাচাই-বাছাই, বি‌সি‌বির নির্বাচন ৭ জুন ◈ সারাদেশের ভূমি মালিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয় ◈ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘোষণা হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি: আল-আরাবিয়া ◈ দানবাক্সের টাকা চুরির অভিযোগ, ভাইরাল সেই সিদ্দিককে হাতেনাতে ধরল জনগণ (ভিডিও) ◈ দে‌শে বছর বছর গরু কোরবানি কেন কমছে? (ভিডিও) ◈ সচিব পদমর্যাদায় মহাপরিচালক হলেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম মুফতি মুহিববুল্লা হিল বাকী ◈ 'বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী' যেভাবে ফেরত পাঠাতে চায় শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ◈ প্রধানমন্ত্রী কাল ময়মনসিংহ যাচ্ছেন, উদ্বোধন করবেন নজরুল জন্মজয়ন্তীর জাতীয় অনুষ্ঠান ও খাল পুনঃখনন কার্যক্রম

প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৬, ০৬:৪৫ বিকাল
আপডেট : ২২ মে, ২০২৬, ০৯:০৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আগুন-হাতুড়ির টুং-টাং শব্দে মুখরিত জীবননগরের কামারপাড়া

জামাল হোসেন খোকন, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা): পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের কামারপাড়াগুলোতে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের জন্য দা, বটি, ছুরি, চাপাতি ও ডাঁসাসহ দেশীয় অস্ত্র তৈরি এবং পুরাতন যন্ত্রপাতি ঘষামাজার কাজে এখন দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পের শ্রমিকরা। 

লোহাকে কয়লার আগুনে পুড়িয়ে লাল টকটকে করে ঠেঙিয়ে-ঠেঙিয়ে অস্ত্র তৈরির টুং-টাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে কামারপাড়া।

জীবননগর উপজেলার সীমান্ত, হাসাদাহ, বাঁকা, আন্দুলবাড়ীয়া ও উথলী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। ঈদকে সামনে রেখে স্থানীয় কামারদের দোকানে ভিড় করছেন ক্রেতারা। কেউ নতুন দা-বটি তৈরি করাচ্ছেন, আবার কেউ পুরাতন অস্ত্র শান দিয়ে প্রস্তুত করছেন কোরবানির জন্য।

উপজেলার উথলী গ্রামের বাসিন্দা শ্রী অনীল কুমার কর্মকার দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। বাবার হাত ধরে শুরু করা এই পেশায় এখন তাকে সহযোগিতা করছেন তার ছেলে শ্রী অমল কুমার কর্মকার।

অনীল কুমার কর্মকার জানান, সারা বছর কাজ থাকলেও কোরবানির ঈদ এলেই কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। দা, বটি, ছুরি ও ডাঁসা তৈরির পাশাপাশি পুরাতন অস্ত্র ঘষামাজার কাজেও ব্যস্ত থাকতে হয়। তিনি বলেন, “প্রচণ্ড গরমের মধ্যে আগুনের পাশে বসে কাজ করতে হয়। তার ওপর বিদ্যুতের লোডশেডিং থাকায় কাজ করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। আগে নেওয়া অর্ডারের কাজ শেষ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই নতুন অর্ডার নেওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছি।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে লোহার দাম অনেক বেড়ে গেছে। এ কারণে এক কেজি ওজনের একটি দা বা বটি তৈরি করতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা খরচ পড়ছে। এছাড়া ছুরির আকারভেদে দাম নির্ধারণ করা হয়। পুরাতন অস্ত্র ঘষামাজা করতে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

একই এলাকার কামার আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, “সারাবছর তেমন কাজ থাকে না। কিন্তু কোরবানির ঈদ আসলেই কাজের প্রচণ্ড চাপ পড়ে যায়। দিন-রাত কাজ করেও শেষ করতে পারছি না। নতুন নতুন অর্ডার আসছেই। তবে ঈদের পর আবার ব্যস্ততা কমে যাবে।”

ঈদকে কেন্দ্র করে কামার শিল্পে এমন ব্যস্ততা সৃষ্টি হওয়ায় খুশি স্থানীয় কারিগররা। বছরের এই সময়টাতেই তারা সবচেয়ে বেশি আয় করতে পারেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়