উজান থেকে আসা ঢলে রংপুর, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও দুধকুমারসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এতে অসময়ে বন্যার আশঙ্কা দেখছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। নদীপাড়ের বাসিন্দারা বলছেন, অসময়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে চরম দূর্ভোগ ও সমস্যায় পড়তে হবে তাদের।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ২৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। সকাল ৯টায় কুড়িগ্রামের চিলমারী পয়েন্টে এই নদের পানি ২০ দশমিক ০৫ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় পানি প্রবাহের উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯ দশমিক ৮০ মিটার। চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানির বিপৎসীমা ২৩ দশমিক ২৫ মিটার।
দুধকুমার নদের পানি কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার বেড়ে ২৭ দশমিক ১১ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় পানি প্রবাহের উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৭ দশমিক ০৭ মিটার। এ পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানির বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৬০ মিটার।
এদিকে ধরলা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার কমে কুড়িগ্রামের ব্রিজ পয়েন্টে ২২ দশমিক ৭৫ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। গতকাল সকাল ৯টায় পানি প্রবাহের উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছিল ২২ দশমিক ৮৫ মিটার। ব্রিজ পয়েন্টে ধরলা নদীর পানির বিপৎসীমা ২৬ দশমিক ০৫ মিটার।
আর তিস্তা নদীর পানি ৪ সেন্টিমিটার বেড়ে রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে ২৮ দশমিক ৩১ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার পানি প্রবাহের উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৮ দশমিক ২৭ মিটার। কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ মিটার।
শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তিস্তাপাড়ে ৩২ মিলিমিটার, ব্রহ্মপুত্রপাড়ে ৬৫ মিলিমিটার, দুধকুমারপাড়ে ৪ মিলিমিটার এবং ধরলাপাড়ে ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ধরলা নদীপাড়ের সারডোব এলাকার কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, আর উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসছে, তাতে ঈদের আগেই বন্যা হতে পারে।
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদপাড়ের পাত্রখাতা এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ছে। পানি এলাকায় ঢুকে পড়ছে। ঈদের আগে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি বলেন, চর এলাকা থেকে এখনো সব ফসল ঘরে তোলা যায়নি। অসময়ে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিলে চরের কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, গেল কয়েকদিন ধরে অনবরত বৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া উজান থেকে আসছে পাহাড়ি ঢলের পানি। এ কারনে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এখনো সবগুলো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে যেকোন সময় পানি বিপৎসীমা অত্রিকম করতে পারে। এতে অসময়ে নদীপাড়ে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা সতর্ক আছি। ভাঙনপ্রবন এলাকাগুলোর খবর রাখছি।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তাপাড়ের গড্ডিমারী এলাকার কৃষক সিরাজ উদ্দিন বলেন, তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। শুক্রবার সকালে নদীপাড়ের অনেক আবাদি জমি ডুবে গেছে। এখনো ঘরের ভেতর পানি প্রবেশ করেনি। দুই-তিন দিনের মধ্যে তিস্তাপাড়ে বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা এখনো ধান, ভুট্টা রোদে শুকাতে পারিনি। জমি থেকে ফসল এনে স্তূপ করে রেখেছি। এখনই বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হব।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, তিস্তা নদীর পানি দ্রুতই বাড়ছে। অনবরত বৃষ্টি আর উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসা অব্যাহত থাকলে আগামি দুই-তিন দিনের মধ্যে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। আর এতে তিস্তাপাড়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। উৎস: ডেইলি স্টার।