চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযান শুরুর আগেই তা ফাঁস হয়ে গেছে। গোপন সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে অভিযানের তথ্য আগেই তথ্য জেনে যায় অপরাধীরা। অভিযান শুরুর আগেই তারা ভেঙে ফেলে সড়ক যোগাযোগের কালভার্ট। প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে সড়কেও। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি যাতে নির্বিঘ্নে দুর্গম এই এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে; সেজন্য এই অপচেষ্টা চালায় অপরাধীরা। তবে বিকল্প উপায় বের করে যৌথ বাহিনীর গাড়ি প্রবেশ করেছে এলাকাটিতে। অপরাধীদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখতে ড্রোনের সাহায্য নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম থেকে আটক করা হয়েছে ১০ জনকে।
জানতে চাইলে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান বেলা ১১টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, ছিন্নমূল ও আলীনগর জঙ্গল সলিমপুরেরই অংশ। ছিন্নমূলের পরেই আলীনগর। ছিন্নমূল যাওয়ার পর আলীনগর ঢোকার আগে রাস্তায় একটি ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। যত বাহিনী আছে, তারা এটি সরিয়ে সামনে এগোয়। কিছু দূর পরে, সম্ভবত রাতের আঁধারে, একটি কালভার্ট ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরে কালভার্টের ওই অংশ ইট–বালি দিয়ে ভরাট করে যৌথ বাহিনীর গাড়ি আলীনগরে প্রবেশ করেছে।
অভিযান শুরুর আগে তারা তথ্য কীভাবে পেল- এমন প্রশ্নের জবাবে নাজমুল হাসান বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুর এলাকা যারা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের সিএনজি অটোরিকশার চালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সোর্স রয়েছে। কোনোভাবে হয়তো তারা আগে জেনে গেছে।’
অস্ত্র ও আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমাদের অভিযান চলছে। এটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কত অস্ত্র উদ্ধার, কিংবা গ্রেপ্তারের সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। এখানে আমাদের যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প করার পরিকল্পনা রয়েছে; যাতে সামনে নির্বিঘ্নে অভিযান পরিচালনা করা যায়।’
তবে পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সিসিটিভির কন্ট্রোল রুম থেকে ১০ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ডগ স্কোয়াড, ড্রোনসহ সব প্রস্তুতি নিয়েই তারা এবার অভিযান চালাচ্ছেন বলে জানান। তবে আটক ও উদ্ধারের পুরো তথ্য তারা পরে জানাবেন।
জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে গত জানুয়ারি মাসে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করে র্যাব। এতে মোহাম্মদ ইয়াসিন ছাড়াও ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া আসামি করা হয় অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ জনকে।
সেই মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘র্যাব সদস্যরা আসামি ধরতে গেলে তাদের ওপর সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াসিনের নির্দেশে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। ছিনিয়ে নেওয়া হয় র্যাবের আটক করা এক আসামিকে। চার র্যাব সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যায় আসামিরা। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।’
এ ঘটনার পর জঙ্গল সলিমপুরে সমন্বিত অভিযান চালানোর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় তখন অভিযান চালানো হয়নি। তবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সেই ঘটনায় জড়িত অন্তত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উৎস: সমকাল।
্