আজিজুল হক, বেনাপোল (যশোর): ভোট শেষে আজ সকাল থেকে আবারো শুরু হয়েছে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি,রফতানি বাণিজ্য। এর আগে গতকাল শুরু হয় পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত।
জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তা জনিত কারন দেখিয়ে সরকারের এক নির্দেশনায় ১১ ফ্রেব্রুয়ারী থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারী ৩ দিন আমদানি, রফতানি এবং ১২ ফেব্রুয়ারী ভোটের দিন বন্ধ রাখা হয়েছিল পাসপোর্টধারী যাতায়াত। এদিকে সরকারি ছুটি শেষে আমদানি,রফতানি ও পাসপোর্টধারী যাতায়াত শুরু হওয়ায় আবারো বন্দর ও ইমিগ্রেশন কার্যক্রমে ফিরেছে কর্ম ব্যস্ততা। টানা তিন দিন বন্দরের কার্যক্রম স্থাগীত রাখায় পণ্য জট তৈরী হয়েছিল বন্দরে।
এছাড়া পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত বন্ধ রাখায় চিকিৎসা,ব্যবসা ও অনান্য জরুরী কাজে ভ্রমন করতে পারেনি পাসপোর্টধারীরা।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি শাখাওয়াত হোসেন জানান, ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তা জনিত কারনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এক নির্দেশনায় ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পাসপোর্টধারী যাতায়াত করতে পারেনি। ১৩ ফ্রেব্রুয়ারী থেকে আবারো ইমিগ্রেশন কার্যক্রম চালু হয়েছে। গতকাল বেনাপোল বন্দর দিয়ে যাতায়াত করেছে ৫৪৫ জন পাসপোর্টধারী। এসব যাত্রীদের মধ্যে ভারতে গেছে ১৮৬ জন। ভারতে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশি ছিল ১৬০ জন এবং ভারতীয় ছিল ৩৬ জন। অন্য দিকে এদিন ভারত থেকে ফিরেছে ৩৫৯ জন। এদের মধ্যে বাংলাদেশি ছিল ৩২৯ জন, ভারতীয় ২৫ ছিল এবং অনান্য দলের ছিল ৫ জন।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৭ সাল থেকে এ পথে পাসপোর্টযাত্রীরা যাতায়াত শুরু করে। ১৯৭২ সালে স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত কখনও চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার বন্ধ হয়নি। এমনকি করোনার সময়ও দু’দেশের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী পারাপার বন্ধ হয়নি। তবে এবার সীমান্তবর্তী উপজেলাতে যথেষ্ট নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকায় ভোটের দিন এবার ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি শাখাওয়াত হোসেন জানান, ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তা জনিত কারনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এক নির্দেশনায় ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পাসপোর্টধারী যাতায়াত করতে পারেনি। বৃহস্পতিবার থেকে আবারো পাসপোর্টধারী যাতায়াত শুরু হয়েছে।
বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন জানান, ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত পণ্য খালাস নিতে পারে এবং পাসপোর্টধারীরা তাদের কার্যক্রম সারতে পারে সংশিষ্ট কর্মকর্তা,কর্মচারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ভারতের সাথে দেশের ১৪টি বন্দর দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত ও আমদানি,রফতানি বাণিজ্য হয়ে থাকে। চিকিৎসা,ব্যবসা ও উচ্চ শিক্ষা গ্রহনে বছরে ২০ থেকে ২২ লাখ পাসপোর্টধারী কেবল বেনাপোল বন্দর দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। ভ্রমন খাতে বছরে বেনাপোল বন্দর থেকে বাংলাদেশ সরকারের আয় ১৫০ কোটি ও ভারত সরকারের আয় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা।