সিলেট ব্যুরো : চোরাচালানের কয়লার চালান আনতে গিয়ে ভারতীয় ব্যাটালিয়ন পুলিশের হাতে অস্ত্র মামলার আসামি সহ বাংলাদেশী পেশাদার ছয় চোরাকারবারি আটক হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন সুনামগঞ্জ বিজিবি’র তাহিরপুরের ট্যাকেরঘাট বিওপির ওপারে ভারতের মেঘালয় ষ্টেইটের শিলং জেলার বড়ছড়া ব্যাটালিয়ন পুলিশের হাতে ওই চোরাকারবারিরা আটক হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন, তাহিরপুরের ট্যাকেরঘাট সীমান্তের সীমান্ত গ্রাম বুরুঙ্গাছড়ার মৃত সুরুজ আলীর ছেলে মুক্তার মিয়া, একই গ্রামের নুরজামালের ছেলে নাঈম, সফর উদ্দিনের ছেলে জামাল উদ্দিন, মুত জব্বারের ছেলে আরমান, সীমান্ত গ্রাম রজনীলাইনের কাইয়ুমের ছেলে আলমগীর, বড়ছড়ার আলতুর ছেলে (সুনামগঞ্জ আদালতে বিচারাধীন অস্ত্র মামলার আসামি) দুলাল মিয়া।
মঙ্গলবার রাতে ২৮- বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন বাংলাদেশ (বিজিবি) সুনামগঞ্জ অধিনায়ক লে.কর্নেল এ কে এম জাকারিয়ার কাদির জানান, ভারতীয় বিএসএফ কিংবা ট্যাকেরঘাট বিওপির বিজিবির দায়িত্বশীলরা ভারতে বাংলাদেশি কয়লা চোরাকারবারিদের আটকের বিষয়টি আমাকে জানায়নি।
অপরদিকে ,মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ট্যাকেরঘাট বড়ছড়া সীমান্ত গ্রামের আলতু মিয়ার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন , শুনেছি আমার ছেলে (অস্ত্র মামলার আসামি) দুলাল সহ ৬ জন ভারতীয় ব্যাটালিয়ন পুলিশের হাতে আটকের পর তাদেরকে বেধরকভাবে মারধর করা হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাত পেরিয়ে গেলেও তার ছেলে সহ ওই ছয় জনই ভারতীয় ব্যাটালিয়ন পুলিশের হাতেই আটক রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন আলতু মিয়া ।
এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে ট্যাকেরঘাট, বড়ছড়া, বুরুঙ্গাছড়া সীমান্ত গ্রামের নানা শ্রেশি পেশার মানুষজন ‘দি কান্ট্রি টুডেকে, জানান, প্রতি দিবারাত্রীর ন্যায় মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের মেইন পিলার ১১৯৯ শুন্য রেখা অতিক্রম করে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি পেশাদার কয়লা চোরাকারবারি চক্রের সদস্যরা প্রায় ১ থেকে দেড় কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে মেঘালয় ষ্টেইটের বড়ছড়ার ৪ নং ঘাট এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ করে শুল্ক ফাঁকি ভারতীয়দের খননকৃত কোয়ারি/ডাম্পিং করা ডিপো থেকে কয়লার চালান আনতে যায়।
ওই সময় শিংল ব্যাটালিয়নের বড়ছড়া থানার বড়ছড়া ব্যাটালিয়ন পুলিশ ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা ধাওয়া করে অস্ত্র মামলার আসামি দুলাল সহ ৬ জনকে আটক করলেও সাথে থাকা অন্যরা কৌশলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।