হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর শহরের ফুটপাত দখল নিয়ে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে ব্যবস্থা নিল পুলিশ প্রশাসন।
মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ ও যানজট নিরসনে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর “ফরিদপুরে ফুটপাত দখলে পথচারীদের দুর্ভোগ, ব্যাহত স্বাভাবিক চলাচল” শিরোনামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে বিস্তর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রকাশিত প্রতিবেদনে শহরের জনতা ব্যাংক মোড়, হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজার এলাকা, থানা মোড় ও গোয়ালচামট সড়কসংলগ্ন এলাকায় ফুটপাত দখলের কারণে পথচারীদের চরম দুর্ভোগের চিত্র উঠে আসে। ফুটপাত দখল করে দোকানপাট, চা-স্টল, ফলের দোকান ও অবৈধ রিকশা পার্কিংয়ের ফলে মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়কে চলাচল করতে হচ্ছিল—এমন অভিযোগে সরব হয় সাধারণ মানুষ।
সংবাদ প্রকাশের পর মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমীর হোসেনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে কোতোয়ালী থানা ও পুলিশ লাইন্সের সদস্যরা অংশ নেন। এসময় অবৈধভাবে বসানো ভাসমান দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয় এবং ফুটপাত ও সড়কের ওপর অটোরিকশা ও রিকশা পার্কিং বন্ধ করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজমীর হোসেন বলেন, “ফুটপাত উচ্ছেদ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং যানজট নিরসনই আমাদের মূল লক্ষ্য। অবৈধভাবে ফুটপাত দখল ও অটোরিকশা পার্কিংয়ের কারণে শহরের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “এই অভিযান চলমান থাকবে। কেউ যদি পুনরায় ফুটপাত দখলের চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযানের সময় অনেক পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেন। তারা জানান, দীর্ঘদিন পর ফুটপাত দিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সচেতন মহলের আশঙ্কা, নিয়মিত তদারকি না থাকলে কিছুদিন পর আবারও দখলদারিত্ব ফিরে আসতে পারে।
সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, শুধু উচ্ছেদ নয়—স্থায়ী সমাধানের জন্য নিয়মিত মনিটরিং, সমন্বিত উদ্যোগ এবং দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। তা না হলে বারবার অভিযান চালিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।