তপু সরকার হারুন, জেলা প্রতিনিধি শেরপুরঃ শেরপুরে নেশা গ্রস্থ ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাইয়ের খুনের ঘটনা ঘটেছে । ২৮ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের কুসুমহাটি কান্দাশেরী এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। নিহত একাব্বর মিয়া (২৮) ওই এলাকার মৃত হায়দার আলীর দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে। আর ছোটভাই ফারুক মিয়া একই বাবার তৃতীয় স্ত্রী মুসেদার ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত একাব্বর মিয়া (২৮) ছোট ভাই ফারুক মিয়া একই বাবার সন্তান হলেও দুই ভাই একে অপরের সৎভাই ছিলো। স্থানীয় এলাকাবাসী ও জানায় তারা দুই ভাই মাদকাসক্ত ছিলো। তারা দু'জনই কাঠ মিস্ত্রীর কাজ করতো এবং একই সাথে দুই ভাই মিলে নেশা করতো অভিযোগ উঠে। এদিকে এলাকাবাসী বলেন নিহত একাব্বর মিয়া ও ছোট ভাই ফারুক মিয়া মৃত হায়দার আলীর দুই স্ত্রীর দুই ছেলে। তারা দুই ভাই একই বাড়ীতে বসবাস করতো। যে খানে দুই ভাই এক সাথে চলাফেরা এবং তাদের দৈনন্দিন জীবন ও ছিলো মিলে মিশে কাজ করা এবং নেশা ও করতো এক সাথে । সেখানে একে অপরের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান ছিলো। গত কিছুদিন যাবৎ তাদের বসত বাড়ি জায়গা নিয়ে তাদের মধ্য একটি স্নায়ু যুদ্ধ চলছিলো ।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই ছোট ভাই ফারুক মিয়ার -স্ত্রীর সাথে বাড়ীভিটা জমি নিয়ে নিহত বড় ভাই একাব্বর মিয়া ঝগড়া চলতে থাকে । হঠাৎ নেশাগ্রস্থ ফারুক বাড়ীতে এসে দেখে স্ত্রী মাকসুদা বেগম এর সাথে বড় ভাই একাব্বর ঝগড়া চলছে এবং স্ত্রী মাকসুদা বেগম স্বামী ফারুক কে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা শ্লীলতাহানি বিষয়ে অপবাদ করে।
পরক্ষনেই ফারুক তার বড় ভাই একাব্বরকে ঘরের ভেতরেই ধারালো রামদা দিয়ে কয়েকটি কোপ দেয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় একাব্বরকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। ময়মনসিংহ মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে ফারুকের স্ত্রী মাকসুদা বেগম এর সাথে কথা হলে তিনি জানান – ভাসুর একাব্বর সাথে পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ফারুক নেশাগ্রস্ত হয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
শেরপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. প্রমা জানান, মঙ্গলবার একাব্বরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। তার হাত, গাল ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর কোপের ক্ষত ছিল এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে জরুরি চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে রেফার করা হয়।
এদিকে একাব্বরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার বলেন, এটি মূলত পারিবারিক দ্বন্দ্বে ভাইয়ের হাতে ভাই খুনের ঘটনা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। তবে এখনও কেউ আটক হয়নি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।