তপু সরকার হারুন, জেলা প্রতিনিধি শেরপুরঃ শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে নলকূপ খনন করতে গিয়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। উপজেলার রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের গাছগড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদের বাড়িতে পানির বদলে পাইপের ভেতর দিয়ে গ্যাস বের হচ্ছে। সেই গ্যাসে গত প্রায় দুই সাপ্তাহ যাবদ চলছে রান্নাবান্না - বাড়ির লোকজনসহ প্রতিবেশীরা।
হঠাৎ নলকূপের ভেতর থেকে গ্যাস বের হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই এলাকা ঘিরে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। জ্বালানি খাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অবহিত করেছে। গত কদিন ধরে ওই বাড়িতে গ্যাস দেখতে মানুষের ভিড় জমছে।
সূত্র জানায়, গত সোমবার সকালে মিস্ত্রিরা টিউবওয়েলের বোরিং করে ৫৫ ফুট গভীর থেকেই পাইপের মুখ দিয়ে অনবরত গ্যাস আসতে থাকে। পরে পরীক্ষামূলকভাবে আরেক স্থানে ৪০ ফুট গভীরে খনন করতেই একইভাবে গ্যাস বের হয়।
গত কদিন ধরেই লোকজন গ্যাস বাড়ির চুলায় ব্যবহার করছিলেন। তবে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে এখন সেখানে রান্নার চুলা বন্ধ করে এলাকা ঘিরে দেওয়া হয়েছে।
বাড়ির মালিক নূর মোহাম্মদ বলেন, গ্যাস খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কতটা মজুত আছে বা চাপ কেমন এগুলো আমাদের জানা নেই। কখন যে কী হয় এই ভয়ে আছি। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে করায় নিশ্চিন্ত বোধ করছি।
ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয়রা বলেন, গ্যাস জাতীয় সম্পদ। পাশের জেলা জামালপুরেও সম্প্রতি গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। এখানেও বড় কোনো সম্ভাবনা থাকতে পারে। গত শনিবার (২৫ অক্টোবর) থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রতিনিধি দল আসা-যাওয়া করছে।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) তিতাস গ্যাসের টিম যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করে জানান, এখানে গ্যাসের উপস্থিতি রয়েছে। তিতাস গ্যাসের শেরপুর জেলার ম্যানেজার বদরুদ্দোজা বলেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় আমরা গ্যাসের অস্তিত্ব পেয়েছি। তবে চাপ কম এবং এটি স্বল্পস্তরের। আমাদের পরীক্ষার ফলাফল বাপেক্সকে দেওয়া হয়েছে।
তারা নমুনা নিয়ে ল্যাবে পরীক্ষা করছে। পরে বিস্তারিত জানা যাবে এখানে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলনের মতো মজুত আছে কি না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার ববি , বলেন ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকা ঘিরে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাপেক্স এবং তিতাস মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। তিতাস প্রাথমিকভাবে গ্যাস থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে চূড়ান্ত মূল্যায়নের আগে বাপেক্সের
রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।