আইরিন হক, বেনাপোল (যশোর): বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গতকাল সোমবার ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ৪৩০ ট্রাক পণ্যের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য হয়েছে। একই দিনে দুই দেশের মধ্যে মোট ১,৯৭৬ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করেছেন।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এদিন বাণিজ্য খাতে প্রায় ১৩ কোটি টাকা এবং ভ্রমণ খাতে ১৬ লাখ টাকার মতো রাজস্ব আহরিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকালে বন্দর পরিচালক শামীম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, মঙ্গলবার বাংলাদেশি ১০০ টাকায় পাওয়া গেছে ৭২.৭০ রুপি এবং ভারতীয় ১০০ টাকায় বাংলাদেশি টাকা মিলেছে ১৩৬.৫০ টাকা। প্রতি মার্কিন ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ১২৪.৫০ টাকা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৫.৫০ টাকা।
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা থেকে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরু হয়। ভারত থেকে ৩৫৭ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে, যার মধ্যে ছিল শিল্পকারখানার কাঁচামাল, তৈরি পোশাক, কেমিক্যাল, শিশু খাদ্য, যন্ত্রপাতি, অক্সিজেন, ফল, চাল, পেঁয়াজ ও মাছসহ নানা পণ্য।
অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয়েছে ৭৩ ট্রাক পণ্য—এর মধ্যে ছিল বসুন্ধরা টিস্যু, মেলামাইন সামগ্রী, কেমিক্যাল, মাছ ও ওয়ালটন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সভাপতি মতিয়ার রহমান জানান, গত ৫ আগস্টের পর থেকে দুই দেশের বাণিজ্যে একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় আমদানি-রপ্তানি ও পাসপোর্টধারী যাতায়াত প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। প্রায় এক বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে কোনো বাণিজ্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের বিড়ম্বনা সৃষ্টি করেছে। বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরাতে তিনি সরকারের উদ্যোগ কামনা করেন।
ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর সাড়ে ৬টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে মোট ১,৯৭৬ জন যাত্রী যাতায়াত করেছেন। এর মধ্যে বেনাপোল দিয়ে ভারতে গেছেন ১,২৯৮ জন এবং ভারত থেকে ফিরেছেন ৬৭৮ জন। ৫ আগস্টের পর ভিসা জটিলতার কারণে পাসপোর্টধারী যাতায়াতও কমে গেছে।
বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান জানান, ২০ অক্টোবর ভারত থেকে রেলপথে ১০০টি ট্রাক্টর আমদানি হয়। এরপর থেকে রেলপথে কোনো পণ্য আমদানি হয়নি। এছাড়া গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে ঢাকা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলও বন্ধ রয়েছে।