শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৪ এপ্রিল, ২০২৪, ০৩:৫০ দুপুর
আপডেট : ০৪ এপ্রিল, ২০২৪, ০৩:৫০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কম দামেও বিক্রি হচ্ছে না তরমুজ, লোকসানে চাষিরা

মনিরুজ্জামান, বোরহানউদ্দিন (ভোলা): [২] মৌসুমের শুরুতে ভোলায় তরমুজের দাম ছিল ক্রেতার নাগালের বাইরে। অতিরিক্ত দাম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনদের তরমুজ বর্জনের আহবান, ডায়রিয়ার ভয়ে ভোক্তাগন নেতিবাচক ধারণা পোষণ করছেন। এমন অবস্থায় দাম কমিয়েও আশানুরূপ তরমুজ বিক্রি করতে পারছেন উৎপাদনকারী চাষীগন। এতে লোকসানের মুখে পড়েছে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার অনেক চাষী। এমন বক্তব্য সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের।

[৩] বোরহানউদ্দিনের তেঁতুলিয়া নদীতে জেগে ওঠা চর সামসুদ্দিন, ১০ নম্বর, চর পাতা, দেউলা ও সাচড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের তরমুজ চাষীরা জানায়, আবহওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। প্রথম দিকে দাম ভালো ছিল। এখন পানির দামেও তরমুজ বিক্রির করতে পারছেন না তারা। এতে অনেকেই লোকসানের মুখে পড়েছেন।

[৪] চর সামসুদ্দিনের চাষী জাহাঙ্গীর আলম জানান, মৌসুমের শুরুর দিকে যারা তরমুজ বিক্রি করছেন তারা ভালো দাম পেয়েছেন। এখন অনেক কম দামে তরমুজ বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে খেত থেকে ১৫-২০ কেজি ওজনের তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ দরে। যা গত বছর পাইকারী দর বিক্রি হয়েছে ৪শ টাকায়। ১০-১৫ কেজি ওজনের গুলো বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০  টাকা দরে এবং এর নিচের গুলো বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়।

[৫] একই চরের চাষী সোহেল জানান, তিনি ৬০ একর জমিতে সুপার ড্রাগন ও বিট ফ্যামিলি জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। ফলন অনেক ভালো হয়েছে। তবে কম দামে কিক্রি করতে হচ্ছে। এতে খরচ ওঠা নিয়ে সঙ্কায় আছেন। রুবেল, শাকিল, মুসা বিশ্বাস, রিয়াজ মীর সহ  অনেক চাষী জানান, ফলন ভালো হলেও গরম কম ও রমজান থাকায় বাজারে তরমুজের চাহিদা অনেক কম। তাই পানির দামে তরমুজ বিক্রি করতে হচ্ছে। গত বছর যে তরমুজ ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে তা এখন ২০০-৩০০ টাকায়ও কিনছেন না ক্রেতারা। তাই লোকসানের মুখে চাষীরা।

[৬] এদিকে বোরহানউদ্দিন পৌর বাজার, কুঞ্জের হাট, দরুন বাজার ও মজম বাজার সহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বড় আকারের তরমুজ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০০-৩০০ টাকায়। যা গত বছর বিক্রি হয়েছে ৭০০-৮০০ টাকায়। মাঝারি আকার ১৫০-২০০ টাকা ও ছোট আকারের তরমজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-১৫০ টাকায়। 

[৭] ক্রেতা মাহাবুব মাষ্টার, কবির হোসেন সহ অনেকে মনে করেন, গত কয়েক বছর ধরে অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারণে তরমুজের দাম অস্বাভাবিকভাবে ছিল। ক্রেতারা প্রতিবাদ স্বরুপ এ বছর তরমুজ কেনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে।

[৮] বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোবিন্দ মন্ডল জানান, এবছর উপজেলায় মোট ৮২০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষাবাদ হয়েছে। যা থেকে ৪৫ হাজার মে: টন ফলন উৎপাদন হবে বলে আশা করছি। প্রতি বছর থেকে এবছর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। বাজারে তরমুজের দাম কম থাকার কারন জানতে চাইলে তিনি জানান, রমজান মাস এগিয়ে আসা, আবহাওয়াগত কারনে গরম কম থাকা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে তরমুজ বয়কটের পোস্ট করায় তরমুজের চাহিদা কিছুটা কম। সম্পাদনা: এ আর শাকিল

প্রতিনিধি/এআরএস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়