শিরোনাম
◈ আজ থেকে ৭২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ হলো মোটরসাইকেল চলাচল ◈ নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থান ◈ সাময়িকভাবে স্থগিত মালয়েশিয়ার ই-ভিসা কার্যক্রম ◈ ৪ কিমি গতির ঢাকা শহর! যানজট কমাতে এআই ও জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পথে বাংলাদেশ ◈ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জোট সমীকরণ: কে কার সঙ্গে, কে কোথায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে? ◈ ভোটের দিন প্রার্থী, পোলিং এজেন্ট ও ভোটারদের যেসব বিধিনিষেধ মানতে হবে ◈ আমরা এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবো: ডয়চে ভেলেকে তারেক রহমান (ভিডিও) ◈ টি-‌টো‌য়ে‌ন্টি বিশ্বকা‌পে আরব আমিরাতের বিরু‌দ্ধে দাপু‌টে জয় নিউ জিল্যান্ডের ◈ নির্বাচনে টানা ছুটি: সরকারি চাকরি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—কার কত দিন? ◈ বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে আওয়ামী লীগ নিয়ে ভারতের দোটানা!

প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৬:১৮ সকাল
আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:২৫ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

৪ কিমি গতির ঢাকা শহর! যানজট কমাতে এআই ও জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পথে বাংলাদেশ

ঢাকা মহানগরীতে যানজটের মূল কারণগুলোর অন্যতম হলো ত্রুটিপূর্ণ ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা। এর প্রতিকারে বিদ্যমান সিগন্যাল ব্যবস্থার পরিবর্তে স্মার্ট ও স্বয়ংশাসন যুগের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইনোভেশন টিম ‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা’ মডেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। ইনোভেশন টিমের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব তৌহিদুল ইসলাম। সদস্যসচিব আইসিটি সিস্টেম অ্যানালিস্ট নূর মোহাম্মদ, বিকল্প সদস্যসচিব মো. আইয়ুব হোসেন।
সদস্য উপসচিব নাসরিন সুলতানা, উপসচিব মুহাম্মদ হাসনাত মোর্শেদ ভুইয়া, উপসচিব মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল জাবেদ, উপসচিব কাজী আরিফুর রহমান। সূত্র: বিডি প্রতিদিন 

ইনোভেশন টিম তাদের উপস্থাপনায় জানায়, একটি শহরের গতি থেমে গেলে একটি জাতির অগ্রগতি থমকে দাঁড়ায়। ঢাকা নগরীর যানজট আমাদের সময়, সম্পদ ও স্বপ্নকে প্রতিদিন গ্রাস করছে। এটি কেবল রাস্তায় আটকে থাকা মানুষের কষ্ট নয়, এটি আমাদের রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের গলা টিপে ধরা বাস্তবতা।
এই নগরীর যানজট একটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত দুর্যোগের নাম হয়ে উঠেছে। উন্নয়নশীল একটি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের রাজধানীতে এমন স্থবিরতা খুবই উদ্বেগজনক। যানজট কেবলমাত্র একটি ট্রাফিক সমস্যা নয়, বরং এটি নগর ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। যানজটের ধাক্কায় ঢাকা শহর আজ প্রাণহীন ইট-কাঠের শহরে পরিণত হচ্ছে।

স্বপ্নের ঢাকা আজ দুঃস্বপ্নের শহর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইনোভেশন টিমের মূল্যায়নপত্রে বলা হয়, ১৮৬০-এর পূর্ব থেকে যাত্রা শুরু করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বর্তমান বিশ্বে ৭টি ধাপ অতিক্রম করে অষ্টম ধাপে অর্থাৎ স্মার্ট ও স্বায়ত্তশাসিত যুগে প্রবেশ করেছে, যা শুরু হয়েছে ২০২০ সাল থেকে।
ধাপগুলো হচ্ছে : ১. প্রি-ট্রাফিক সিগন্যাল যুগ (১৮৬০ সালের আগে) ২. ম্যানুয়াল সিগন্যাল যুগ (১৮৬০-১৯১০) ৩. নির্ধারিত সময় সিগন্যাল যুগ (১৯১০-১৯৫০) ৪. বৈদ্যুতিক যান্ত্রিক যুগ (১৯৫০-১৯৭০) ৫. সেন্সরভিত্তিক যুগ (১৯৭০-১৯৯০) ৬. কম্পিউটারে নিয়ন্ত্রণ যুগ (১৯৯০-২০১০) ৭. বুদ্ধিমত্তা পরিবহন যুগ (২০১০-২০২০) ৮. স্মার্ট ও স্বায়ত্তশাসিত যুগ (২০২০-চলতি)। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে বিশ্ব অষ্টম ধাপে তথা স্মার্ট ও স্বায়ত্তশাসিত যুগে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সময়ে সময়ে ট্রাফিক লাইট, ক্যামেরাসহ বিভিন্ন ধরনের আধুনিক সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা সত্ত্বেও বাস্তবে বাংলাদেশ ম্যানুয়াল সিগন্যাল যুগেই অবস্থান করছে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকায় যানজটের কারণে যানবাহনের গড় গতি ঘণ্টায় ৪ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। ঢাকা মহানগরীতে বসবাসরত মানুষের দৈনিক প্রায় ৯০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। প্রতি বছর উৎপাদনশীলতা হ্রাস, জ্বালানি অপচয় এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ব্যয়ের ফলে অর্থনীতিতে আনুমানিক ৭৫০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়, যা পরোক্ষভাবে দেশের জিডিপি বছরে প্রায় ৭ থেকে ১১ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিচ্ছে। জানা গেছে, এই মডেলের আওতায় দুই পর্যায়ের সমন্বিতভাবে নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বাস্তবায়ন করা হবে।

১। প্রথম পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে (ক) জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা (খ) অভ্যন্তরীণ সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিভিত্তিক (এআই) ট্রাফিক লাইট ও সিগন্যাল ব্যবস্থাপনা ২। দ্বিতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে- প্রধান সড়কে ট্রাম ব্যবস্থার প্রবর্তন।

প্রথম পর্যায় : (ক) এ রাস্তায় ট্রাফিক লাইট ও ট্রাফিক সিগন্যাল থাকবে না (খ) এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম বরাবর কানেকটিভিটি তৈরি করা হবে। (গ) প্রধান ৫টি সড়কের ১০৫ কিলোমিটার রাস্তা এক্সপ্রেসওয়ে হবে। (ঘ) বিদ্যমান ইন্টারসেকশনগুলোতে ওভারপাস/আন্ডারপাস, ক্লোভারলিফ ইন্টারচেঞ্জ, আন্ডারপাস ইউলুপ/ওভারপাস ইউলুপের মাধ্যমে যান চলাচল নির্বিঘ্ন করা হবে। (ঙ) রিকশাসহ অন্যান্য ধীরগতির গাড়ির জন্য লোকাল লেন ব্যবহার করা হবে। (চ) মানুষ পারাপারের জন্য প্রয়োজনীয় ফুটওভার ব্রিজ/আন্ডারপাস ওয়াকওয়ে। (ছ) এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিচালনায় নিয়োজিত থাকবে একটি কর্তৃপক্ষ। (জ) এক্সপ্রেসওয়ের বাইরের অভ্যন্তরীণ রোড ট্রাফিক লাইট ও ট্রাফিক সিগন্যালের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। (ঝ) ট্রাফিক লাইট ও ট্রাফিক সিগন্যালের বৈশিষ্ট্য :
এআই, আইওটিভিত্তিক, এআই নিয়ন্ত্রিত সংকেত প্রদর্শন, ক্যামেরায় এআই অ্যালগারিদম সংযুক্তি, রিয়েল টাইম কনজেশন অ্যানালাইসিস, জিপিএস অ্যাপসের সমন্বয়।

দ্বিতীয় পর্যায়ে : ক. প্রধান সড়কে ট্রাম ব্যবস্থার প্রবর্তন। (খ) প্রচলিত মেট্রো/মনোরেলের তুলনায় কম খরচ ও সময়ে স্থাপনযোগ্য (গ) বিদ্যুৎচালিত গণপরিবহন। (ঘ) এটি নির্দিষ্ট রুটে চলাচল করে এবং একসঙ্গে অধিক সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করতে সক্ষম। (ঙ) পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও জ্বালানি সাশ্রয়ী নগর পরিবহন (চ) নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক পরিবহন (ছ) যানজট কমাতে সহায়ক (জ) বিদ্যমান সড়কের বহুমুখী ব্যবহার।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়