শিরোনাম
◈ টেক্সাসে বন্দুকধারীর হামলায় শিক্ষার্থীসহ নিহত ১৫ ◈ সারাদেশে ছাত্রদলের ২দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা ◈ আবারও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস ◈ ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদলের বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল ◈ ঢাবিতে ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে জবি ছাত্রদলের মশাল মিছিল ◈ স্মারক স্বর্ণ মুদ্রার দাম ৪ হাজার টাকা বাড়লো কেন্দ্রীয় ব্যাংক ◈ হজ ফ্লাইট ৫ জুন শুরু ◈ সর্বজনীন পদ্মা সেতুতে ওঠার আগে অপপ্রচারকারীদের ক্ষমা চাওয়া উচিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ সিরিয়ায় সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিলেন এরদোগান ◈ হাতিরঝিলে ওয়াটার ট্যাক্সি ও বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ

প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারী, ২০২২, ০৯:০১ রাত
আপডেট : ১৭ জানুয়ারী, ২০২২, ০১:১৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] রাতভর ডাকাতের নির্যাতন, দিনভর ঘুরেও মামলা নিলো না পুলিশ

মিনহাজুল আবেদীন: [২] সাভারের গেন্ডা এলাকায় একটি দূরপাল্লার বাসে ডাকাতির ঘটনায় সাভার ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় ঘুরেও মামলা করতে পারেননি ভুক্তভোগীরা। কোনো থানায় মামলা নেয়নি পুলিশ, উল্টো হয়রানির শিকার হয়েছেন বাসটির চালক ও যাত্রীরা। ডেইলি বাংলাদেশ

[৩] শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এমন অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডাকাতের কবলে পড়া ঢাকা-বগুড়া রুটের সোনার তরী পরিবহনের বাসচালক পাভেল মিয়া।

[৪] এর আগে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাভারের গেন্ডা এলাকায় ডাকাতের কবলে পড়েন বাসের চালক-যাত্রীরা। শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সবার চোখ-মুখ বেঁধে টাকা-মোবাইল নিয়ে চলে যায় ডাকাতরা। ঢাকা পোস্ট

[৫] বাসচালক পাভেল বলেন, আমি বগুড়ার ঠনঠনিয়া বাস টার্মিনাল থেকে বিকেল সাড়ে ৫টায় গাড়ি ছেড়ে দেই। রাস্তায় যানজট থাকায় ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে গাড়ি চালাতে থাকি। আমাদের সিট খালি থাকলে রাস্তা থেকে যাত্রী উঠাই। এলেঙ্গায় এসে ৭ জন যাত্রী বাসে উঠাই। তারা আসলে যাত্রীর বেশে ডাকাত ছিল। এরপর চন্দ্রা বাসস্ট্যান্ড, রেডিও কলোনিতে যাত্রী নামাই। এর আগে নবীনগর থেকে ঢাকার একজন যাত্রী বাসে ওঠেন।

[৬] তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ সাভারের গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডে দুইজন যাত্রী নামিয়ে গেটলক করার সঙ্গে সঙ্গেই ডাকাতরা আমাদের আক্রমণ করে। এ সময় ডাকাতসহ গাড়িতে ২০ থেকে ২২ জন যাত্রী ছিল। গাড়ির স্টিয়ারিং থেকে আমাকে নামিয়ে ডাকাতদের মধ্যে একজন বসে। আর আমাকে মারধর করে হাত ও চোখ বেঁধে গাড়ির পেছনে নিয়ে রাখে। এ সময় সে গাড়িটি ঘুরিয়ে টাঙ্গাইলের দিকে রওনা হয়।

[৭] বাসচালক বলেন, মাঝরাতে হেলপার ও সুপারভাইজারসহ আরো দুইজনকে বেঁধে আমার কাছে নিয়ে রাখে। আমাকে মারধর করায় আমার মাথা তেমন কাজ করছিল না। এর কিছুক্ষণ পর আমি আর কিছু বলতে পারিনি। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আমার জ্ঞান ফিরলে দেখি নবীনগর থেকে যে যাত্রীটি গাড়িতে উঠেছিল সে আমাদের হাত ও চোখ খুলে দিচ্ছে। সব যাত্রীদের হাত ও চোখ বাঁধা ছিলো।

[৮] তিনি বলেন, গাড়ি থেকে নেমে দেখি আমরা টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার গোড়াই এলাকায়। ওই এলাকা থেকে সাভার হাইওয়ে থানার পুলিশ আমাদের গাড়িসহ সাভারে নিয়ে আসে। পরে সাভার থানায় গেলে তারা মামলা না নিয়ে মির্জাপুর থানায় যেতে বলে। মির্জাপুর থানায় যোগাযোগ করলে তারা বলে সাভার থানায় মামলা হবে। সারাদিন হয়রানির শিকার হয়েছি। কোনো থানা মামলা নিচ্ছে না।

[৯] সোনারতরী পরিবহনের ওই বাসের সুপারভাইজার শহিদুল বলেন, গাড়িতে ডাকাত পরার সঙ্গে সঙ্গে আমি জানালা দিয়ে লাফ দিয়ে ৯৯৯ এ কল করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সুযোগ পাইনি। আমার গলায় মাফলার ছিল তা দিয়ে আমার হাত বেঁধে ফেলে। তাদের কাছে চাকু, রামদা ও পিস্তল ছিল। সব যাত্রীর হাত বেঁধে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ও মোবাইল লুট করে ডাকাতরা। সারারাত আমাদের হাত ও চোখ বাঁধা ছিল। দিনে আমরা সাভার থানায় গেলে আমাদের মামলা না নিয়ে মির্জাপুর থানায় যেতে বলে। মির্জাপুর থানা বলে- মামলা সাভার থানায় হবে। এক থানা থেকে আরেক থানায় যেতে বলছে। সাভার থানায় বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ছিলাম তবু মামলা নিলো না।

[১০] টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গিয়াসউদ্দিন বলেন, এ রকম একটি খবর আমরা সকালে পেয়েছিলাম। তবে আমাদের এখানে কেউ আসে নাই। যেহেতু সাভার থানায় ডাকাতি শুরু হয়েছে সেহেতু মামলা সাভার থানায় হবে। মোবাইলে আমি চালকের সঙ্গে কথা বলেছি। সাভারে ঘটনা শুরু হয়েছে তাহলে মির্জাপুরে মামলা হবে কেন?

[১১] সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোমেনুল ইসলাম বলেন, এ মামলা সাভারে হবে না। এটা মির্জাপুরের ঘটনা। মির্জাপুর থানা মামলা নেবে।

  • সর্বশেষ