প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শওগাত আলী সাগর রাজাকারের বাচ্চা’ বলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে তাদের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে

শওগাত আলী সাগর
[১] ‘ঢাকার খেলার মাঠে পাকিস্তানি পতাকা উড়িয়ে উল্লাস করছে বাংলাদেশিরাই’- এই দৃশ্যটি অসহনীয়। কিন্তু যারা পাকিস্তানি পতাকা নিয়ে মাঠে গেছে- তাদের আমি শুরুতেই গালি দেবো না। তার আগে তাদের মানসপটটা বোঝার চেষ্টা করবো। বাংলাদেশ- পাকিস্তানের মধ্যকার খেলায় বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে পাকিস্তানকে সমর্থন এবং সেদেশের পতাকা নিয়ে উল্লাস করার পেছনে তাদের কী ভাবনা কাজ করেছে- সেটা বোঝার চেষ্টা করতে চাইবো। ইতোমধ্যে কোনো মিডিয়া তাদের এই প্রশ্নটা করেছে কিনা জানি না। কিন্তু করাটা দরকার ছিলো। তারা কেন এটা করছে- কেবল সেটা জানার জন্যই নয়, আমাদের এতে কোনো দায় আছে কিনা, সেটা বোঝার জন্যও আমি এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পক্ষে। [২] খেলার মাঠে পাকিস্তানকে সমর্থন করা বা পাকিস্তানের পক্ষে উল্লাস করা নতুন কোনো ঘটনা নয়। অনেকদিন ধরেই এগুলো চলে আসছে। এখন সেটা সংখ্যায় বেড়েছে। ‘খেলার সঙ্গে রাজনীতি মেশাবেন না’- এমন আপ্তবাক্য আর ‘এরা সব পাকি জারজ সন্তান’- এমন গালি দিয়েই আমরা আমাদের দায়িত্ব শেষ করেছি। এর বাইরে আর কিছু ভাবার দরকার আছে বলে কখনো মনে করিনি।

[৩] খেলার সঙ্গে কেন রাজনীতি জড়িয়ে যায়, কেবল রাজনীতিই নয, সংস্কৃতি, দেশপ্রেম জড়িয়ে যায়- সেগুলো বোঝার সক্ষমতা না থাকলে, অন্যকে বোঝানোর সক্ষমতা না থাকলে, আমরা অন্যকে কী দিয়ে প্রভাবিত করবো! ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করেছি, কিংবা পাকিস্তানিদের নৃশংসতা’ অন্যদের কেন স্পর্শ করা উচিত- এই বোধটা এই মানুষগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব ছিলো কিনা- সেটাও ভাবার চেষ্টার মধ্যে রাখতে চাই। [৪] রাজনীতি, সংস্কৃতির চর্চা না থাকা একটা দেশে ‘বাংলাদেশ নব্বই শতাংশ মুসলমানের দেশ’ প্রচারণার সঙ্গে সঙ্গে একটা জনগোষ্ঠীর কাছে পাকিস্তান তাদের মুসলিম উম্মাহ হিসেবে ঠাঁই পেয়েছে কিনা, মুসলমানিত্বের শতকরা হিসেবে তাদের কাছে বাংলাদেশ ‘কম ইসলামী দেশ’ মনে হয়েছে কিনা- এগুলো জানার কৌত‚হলও আমার আছে। [৫] মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে খেলার মাঠে পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে উল্লাস করা মানুষের সংখ্যা কেন বাড়ে, কীভাবে বাড়ে, রাষ্ট্র হিসেবে, সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি আছে কিনা, লেখক হিসেবে, সংস্কৃতি কর্মী হিসেবে, মিডিয়া হিসেবে- নাগরিকদের মনন এবং মনে দেশপ্রেম, স্বাধীনতা যুদ্ধের মন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে যথাযথ ভ‚মিকা আমরা রেখেছি কিনা- এগুলো নিয়ে ভাবাটাকে আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করবো। [৬] পাকিস্তানি পতাকাওয়ালাদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দিয়ে, ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে তাদের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। স্বাধীনতাবিরোধী, সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান যাতে দেশে না ঘটে, সেটা নিশ্চিত করতে ‘আওয়ামী লীগের অপরিহার্যতা’ আমরাই কিন্তু জনগণের সামনে তুলে ধরেছিলাম। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের কোনো জনগোষ্ঠীর মনে পাকিস্তান প্রেম কীভাবে বেড়ে উঠে- সেই প্রশ্নের উত্তরও আমাদেরই দিতে হবে। অন্য কারও কাছে না হলেও নিজের কাছে তো বটেই। লেখক : সিনিয়ার সাংবাদিক

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত