প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] অধিক মুনাফার লোভে বেপরোয়া ছিলেন বাস চালক ও হেলপার, কলেজ ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ

সুজন কৈরী: [২] রাজধানীর বদরুন্নেসা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী হাফ ভাড়া দিতে চাইলে ও বাস চালকের সহকারী দাবি করেন পুরো ভাড়া। এটা নিয়ে বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং তাকে হেনস্থা করেন হেলপার। মূলত বাস মালিকের সঙ্গে দৈনিক চুক্তির টাকা পরিশোধের পর অধিক মুনাফা ওঠানোর লোভেই বেপরোয়া ছিলেন চালক ও তার সহকারী। আর এজন্যই হেলপার ওই ছাত্রীর সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর কথাবার্তা বলেন।

[৩] রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, রোববার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ঠিকানা পরিবহনের একটি বাসের চালক মোহাম্মদ রুবেল ও তার সহকারী মো. মেহেদী হাসানকে আটক করে র‌্যাব-১০।

[৪] কমান্ডার মঈন বলেন, হেনস্থার শিকার ভুক্তভোগী বদরুন্নেসার ওই শিক্ষার্থী কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর করা অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার সকালে তিনি শনির আখড়া থেকে কলেজে যাওয়ার জন্য ঠিকানা পরিবহনের একটি বাসে উঠেন। তিনি শিক্ষার্থী হিসেবে হাফ ভাড়া দিতে চাইলে হেলপার মেহেদী তা নিতে রাজি হননি। এ নিয়ে বাক-বিতণ্ডার জেরে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকরভাবে কথা বলেন মেহেদী। এমনকি ওই শিক্ষার্থী বাস থেকে নামার সময়ও হেনস্থা করা হয়। বিষয়টি ছাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঢাকার আরও ৬-৭টি কলেজের শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে প্রতিবাদ জানায়। শনিবার সকালে বকশিবাজার সড়ক অবরোধ করা হয় এবং তাদের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

[৫] র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতে র‌্যাব গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১০ এর অভিযানে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ঠিকানা পরিবহনের ওই চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়।
আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, তারা দৈনিক তিন হাজার টাকার চুক্তিতে মালিকের কাছ থেকে বাসটি নিয়ে চালাতেন। তিন হাজারের বেশি টাকা হলে সেটা নিজেদের মধ্যে অর্ধেক হিসেবে ভাগ করে নিতেন তারা। এজন্য তারা হাফ ভাড়া নিতে চাইতেন না। কলেজ এলাকায় প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়াতেনও। ভাগে দৈনিক দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পেতেই হাফ ভাড়া নিতে চাইতেন না তারা।

[৬] এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মঈন বলেন, শনির আখড়া থেকে কলেজ পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীর ভাড়া ২৫ টাকা। তিনি ১৫ টাকা দিতে চান। সেখান থেকেই বাকবিতণ্ডার শুরু। হেলপার কোনোভাবেই ১৫ টাকা নিতে রাজি হননি। পুরো টাকাই দাবি করেন। এ নিয়ে বাসের ভেতরে তর্কাতর্কি-রাগারাগিও হয়। এক পর্যায়ে অশোভন ভাষায় হেলপার গালাগাল করেন। কলেজের সামনে নামিয়ে দেওয়ার সময়ও অশোভন আচরণ করা হয়।

[৭] অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হেলপার হাফ ভাড়া নিতে ইচ্ছুক ছিলেন না। অধিক মুনাফা ও বাড়তি টাকা উঠানোর জন্যই তারা এমনটি করেছেন। এতে মেহেদী ওই ছাত্রীকে গালাগালি করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন।
চালক-হেলপারকে কীভাবে শনাক্ত করা হলো জানতে চাইলে এ র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, র‌্যাব-১০ এর গোয়েন্দা দল সিসিটিভি ফুটেজ, সময় পর্যবেক্ষণ করে রোববার সন্ধ্যায় তাদের আটক করে। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আটকরাই অভিযুক্ত চালক-হেলপার।

[৮] র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ধর্ষণের হুমকির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে অস্বীকার করেছেন আটকরা। তবে কথা কাটাকাটি, অশোভন আচরণ, হেনস্তার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এই ঘটনায় মামলা হচ্ছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব বেড়িয়ে আসবে।

[৯] তিনি বলেন, ভিকটিমের পরিবার ও কলেজ অধ্যক্ষ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। চকবাজার থানায় মামলার প্রস্তুতিও চলছে। বাস চালকের লাইসেন্স থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, চালক নিজের লাইসেন্স আছে বলে দাবি করেছেন, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া বাসের কাগজপত্রও যাচাই করে দেখা হবে।

 

সর্বাধিক পঠিত