প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ট্রেনের নিচে ঝাপদিয়ে মায়ের আত্মহত্যা, বেঁচে যায় শিশু

মোতাহার খান: [২] বুক ভরা কষ্ট নিয়ে এক সাথে শিশু মেয়েকে নিয়ে আত্মহুতি দিতে চেয়েছিলো নাদিরা বেগম। মেয়ে জাকিয়া জান্নাতকে (২) কোলে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপদেন তিনি। টুকরো টুকরো হয়ে মারাযান নাদিরা।

[৩] মৃত্যুর খুব কাছথেকে অলৌকিক ভাবে বেঁচেযায় কোলে থাকা জাকিয়া জান্নাত। ট্রেনের নিচে পরে গুরুত্বর আহত জান্নাতের বাম হাত থেতলেযায়। বর্তমানে সে শেখহাসিনা জাতীয় বার্ণ ইনস্টিটিউটে’র ১০ম তলার ১হাজার ৭নস্বর বিছানায় চিকিৎসাধীন অছে।

[৪] জাকিয়া জান্নাত নেত্রকোনা জেলার দর্গাপুর থানার বারহাট্টা গ্রামের জুয়েল রানার মেয়ে। সে শ্রীপুরের আনসার রোড এলাকায় ভাড়া করা বাসায় বাবা-মা’র সাথে থাকতো।

[৫] জান্নাতের দাদা তহিমুদ্দিন জানান, ট্রেনেরনিচে ঝাপদিয়ে পুত্রবধু নাদিরা মারাযায়। গুরুত্বর আহত হয় কোলে থাকা জান্নাত। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর হাপাতালে নিয়েযায়। অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় জরুরী বিভাগের ডা.মাহমুদা খাতুন তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

[৬] জান্নাতের চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসেন শ্রীপুরের সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বিপু। তার সহায়তায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথম এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দ্বিতিয় অপারেশন হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শেখহাসিনা জাতীয় বার্ণ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকগন জাকিয়ার ক্ষতবিক্ষত হাতটি রক্ষায় স্বচেষ্ট হন। নিবির পর্যবেক্ষনে রাখা হয় তাকে। তৃতীয় দফার অপারেশনে পা থেকে মাংশ এনে স্থাপন করাহয় হাতের ক্ষত স্থানে।

[৭] জান্নাতের দাদা আরও জানান, তিনি পেশায় দিনমজুর। জান্নাতের বাবা পোষাক কারখানায় স্বল্প বেতনে চাকরি করে। নাতনিকে নিয়ে দীর্ঘ দিনধরে হাসপাতালে আছেন তিনি। পূর্ণ সুস্থ্যহতে আরও সময়লাগবে। স্বল্প আয় দিয়ে জান্নাতের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা এখন কষ্টকর হয়ে পরেছে। বিক্রি করারমতো ভিটেমাটিও নেই তাদের। শিশুটিকে সুস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হৃদয়বান ও বিত্তবানদের সহায়তা কামনা করেন তিনি।

[৮] সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বিপু জানান, দুর্ঘটনার পরথেকে তিনি বন্ধুদের সহায়তা নিয়ে জান্নাতের চিকিৎসার জন্য সহায়তা করে আসছেন। চিকিৎসা সহায়তার পাশাপাশি ভবিষ্যত পুর্ণভাষণের জন্য তহবিল গঠনের উদ্দোগ নিয়েছেন। শিশুটিকে সহায়তা করতে হৃদয়বান ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

[৯] উল্লেখ্য গত ১৩ অক্টোবর সকাল সোয়া সাতটারদিকে শিশুটির মা নাদিরা বেগম তাকে কোলে নিয়ে আত্মহত্যা করতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলসড়রকের শ্রীপুর স্টেশনের উত্তর পাশে কাটাপুল এলাকায় দ্রুত গতির ৪৯ আপ বলাকা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেয়। এতে ঘটনাস্থলে শিশুটির মা ট্রেনে কাটা পরে মারাযায়। গুরুত্বর আহত অবস্থায় অলৌকিক ভাবে বেঁচে যায় কোলে থাকা শিশু জাকিয়া জান্নাত।

সর্বাধিক পঠিত