শিরোনাম
◈ ঢাকার কাছে ভূমিকম্পের উৎস, বড় ঝুঁকির আশঙ্কা কতটুকু? ◈ পর্যটক ও বাসিন্দাদের জন্য ‘সিভিলিটি গাইডবুক’ আনছে দুবাই ◈ লাল কার্ডের পর এবার ৫ ম্যাচ নিষিদ্ধ কাতারের মিডফিল্ডার ◈ এবার মাজারের অর্থ নিয়ে ডিসি সারওয়ারের কল রেকর্ড ভাইরাল ◈ তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের ফল মিলবে আগামী মাসেই:: শ্রমমন্ত্রী ◈ উপদেষ্টা জাহেদ ইস্যুতে ভারতের ব্যাখ্যা ‘সন্তোষজনক নয়’ : ঢাকা ◈ টেস্ট খেল‌তে জিম্বাবুয়ে গে‌লো বাংলা‌দেশ ক্রিকেট দল  ◈ কুরআনের আয়াত নিয়ে ‘ঠাট্টা-বিদ্রুপসহ ভুল ব্যাখ্যার অভিযোগ: সংসদে মুখোমুখি সরকারি ও বিরোধীদল ◈ ‘শুল্কমুক্ত সুবিধা মিলেছে, তবু চীনের বাজারে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি?’ ◈ সতর্কসীমায় তিস্তা-ধরলা-দুধকুমারের পানি, বন্যা ঝুঁকিতে কয়েক জেলা

প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর, ২০২১, ০৪:৪৪ দুপুর
আপডেট : ১৯ নভেম্বর, ২০২১, ০৪:৪৪ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে জগন্নাথপুরের নারীরা

নুর উদ্দিন: [২] সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নে হাওরবেষ্টিত গ্রাম কুবাজপুর। গ্রামে বসবাসকারী পাল বংশের অধিবাসীরা বংশপরস্পরায় মৃৎশিল্পের কাজ করে আসছিল। অতীতে মৃৎশিল্পের কাজে জীবিকা নির্বাহ করলেও সময়ের পালাবদলে অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে নারীরা এ পেশা কিছুটা হলেও ধরে রেখেছেন। তাদের তৈরি মাটির মৃৎশিল্প যাচ্ছে সুদূর লন্ডনেও।

[৩] কুবাজপুর গ্রামটি পাল সম্প্রদায়ের আদি নিবাস। দুই শতাধিক পরিবারের বসতি থাকলেও এখন আছে মাত্র ৩০ পরিবারের বসবাস। তাদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষ অন্য পেশায় জড়িত থাকলেও নারীরা মৃৎশিল্পের কাজ করছেন। গ্রামের নারীরা হাড়ি, পাতিল, থালা-বাসন, সানকি, ঘটি, মটকা, মাটির তৈরি ব্যাংক, ফুলের টব, পুতুল, ছাইদানি, কলকি, হুক্কা, খেলনা সামগ্রী বানানোর পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা পার্বণের যাবতীয় বাসনপত্র ও দেব দেবীর প্রতিমা তৈরির কাজ করে থাকেন।

[৫] কুবাজপুর গ্রামের প্রয়াত পুতুল পালের স্ত্রী ৭০ বছর বয়সী সুমতি পাল বলেন, শ্বশুর শ্বাশুড়ির কাছ থেকে মৃৎশিল্পের শেখা কাজ ধরে রাখার চেষ্টা করছি। আমার ছেলের বউয়েরাও আমার কাছ থেকে শিখে কাজ করছেন।

[৬] গৃহবধূ সুচিত্রা পাল বলেন, মাটির তৈরি জিনিস পত্রের কদর এখনো শেষ হয়ে যায় নি। তবে এসব বানাতে আগের মতো এঁটেল মাটি পাওয়া যায় না। মৃৎপাত্র তৈরিতে সময় লাগে এবং ব্যয়ও বাড়ে। বাজারে প্লাস্টিক সামগ্রী কম দামে বিক্রি হওয়ায় আমাদের তৈরি জিনিসপত্রের দাম পাওয়া যায় না।

[৭] সুমন পাল বলেন, পূজা পার্বন ও বাঙালির বিভিন্ন উৎসব ও মেলায় আমাদের তৈরি মৃৎশিল্পের জিনিসপত্র বিক্রি হলেও আগের মতো চাহিদা না থাকায় এসব কাজ শুধু মৌসুমেই করি।

[৮] প্রবীণ মৃৎশিল্পী ধনঞ্জয় পাল বলেন, এখনো সখের বশে লোকজন মাটির তৈরি জিনিস পত্র ক্রয় করেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মৃৎশিল্প কে বাঁচিয়ে রাখা যাবে।

[৯] রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, ৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় পাল সম্প্রদায়ের লোকজন দেশে ছেড়ে চলে যান। বর্তমানে অল্প সংখ্যক লোকের বসতি। তাদের কারণে গ্রামটি এখনো বিখ্যাত। তাদের তৈরি মৃৎশিল্পের কদর এখনো রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়