শিরোনাম
◈ বাজেট ২০২৬–২৭: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ১০ অগ্রাধিকার ◈ পোলট্রি ও ফিশ ফিডে বিষাক্ত ট্যানারি বর্জ্য, বাড়ছে ক্যানসারসহ নানা রোগ, সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি! ◈ যে ছেলে একসময় টিফিনের টাকাও জোগাড় করতে পারত না, আজ দুবাইয়ে ২০ হাজার কোটির মালিক ◈ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা ◈ ভারতের সব কর্মীকে ছাঁটাই করল ওপেনডোর, কারণ দেখালো ‘গ্রাহকরা আমেরিকায়’ ◈ বেনাপোল বন্দরের শেড থেকে উধাও ৬ কোটি টাকার পণ্য, ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা ◈ বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাস: তাজউদ্দীন থেকে আমির খসরু, কে কত দিলেন? ◈ অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল বাংলাদেশের অর্থনীতি, নতুন রেকর্ড জিডিপিতে ◈ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের তথ্য দিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেল করতে চেয়েছিল এপস্টেইন: বিল গেটস ◈ ব্রাজিলকে হালকাভাবে নিলে ভুগতে হবে, বিশ্বকাপে নামার আগে মিডফিল্ডার ব্রুনোর হুম‌কি

প্রকাশিত : ১৪ নভেম্বর, ২০২১, ০৩:২১ দুপুর
আপডেট : ১৪ নভেম্বর, ২০২১, ০৩:২১ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] অনলাইন বেটিং প্লাটফর্ম ওয়ান এক্সবেটের পরিচালকসহ গ্রেপ্তার ৯

সুজন কৈরী : [২] অনলাইন বেটিং প্লাটফর্ম ওয়ান এক্সবেটের পরিচালকসহ ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- স্বপন মাহমুদ (২৭), নাজমুল হক (২১), আসলাম উদ্দিন (৩৫), মুরশিদ আলম লিপু (২৫), শিশির মোল্লা (২১) মাহফুজুর রহমান ওরফে নবাব (২৬) ও তার স্ত্রী মনিরা আক্তার মিলি (২৪), সাদিক (২২) এবং মাসুম রানা (২০)।

[৩] শনিবার পৃথক অভিযান চালিয়ে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও কক্সবাজার থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১৬টি মোবাইল, নগদ একাউন্টে প্রায় ১২ লাখ টাকা, নগদ ৪ লাখ টাকাসহ গাড়ি ও ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।

[৪] রোবাবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি জানায়, এই সাইটটি মূলত রাশিয়া থেকে পরিচালিত হয়। আইপিএল, বিশ্বকাপ, বিগ ব্যাশ, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগসহ বিভিন্ন খেলার সময় অনলাইনে এসব জুয়া খেলা হয়। জুয়া খেলার জন্য একজন জুয়ারী মোবাইল নম্বর কিংবা ইমেইলের মাধ্যমে এই বেটিং সাইটে একাউন্ট ওপেন করে প্রতিটি একাউন্টের বিপরীতে ভার্চ্যুয়াল টাকা তৈরি করে ব্যালেন্স যোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সিপিসি’র অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল আহসান বলেন, ব্যালেন্স যোগ করার জন্য অনেক মাধ্যম থাকলেও তার মধ্যে ভেতর নগদকে বেছে নেয় চক্রটি।

[৫] জিজ্ঞাসাবাদে মেহেরপুর থেকে নগদ এজেন্ট সীমসহ গ্রেপ্তার স্বপন জানিয়েছেন, তিনি এজেন্ট সিমটি গ্রেপ্তার আসলাম উদ্দিনের কাছ থেকে সংগ্রহ করে জুয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিলেন। সীম দেওয়া বাবদ আসলামকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হতো। আর এই এজেন্ট সীমে আসা টাকার লেনদেন এবং বিটুবি করার কাজে প্রতক্ষ্য সহযোগীতা করে সেখানকার নগদের এসআর এবং ডিপোর ম্যানেজার মুরশিদ আলম লিপু। জিজ্ঞাসাবাদে লিপু জানিয়েছেন, তার বোন জামাইয়ের দোকানের একটি ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে তিনি মেহেরপুরের নগদের এসআর এবং ডিপোর ম্যানেজারের সহায়তায় এজেন্ট সীমটি সংগ্রহ করে জুয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করছিলেন।

[৬] সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মেহেরপুরে নগদের কয়েকজন এসআর এবং ডিপোর ম্যানেজার চক্রটির এই কাজের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এজেন্ট সীমসহ কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার নবাব জানিয়েছেন, তিনি নিজে জুয়ার একটি এজেন্ট সীম চালান। তার এলাকায় তিনিই প্রথম এই কাজ করেন। পরে তার রেফারেন্সে আরও বহু জুয়ার এজেন্ট যুক্ত হয়। তিনি আরও জানান, সাদিক তার সহায়তাকারী তার এজেন্ট নম্বরে আসা টাকা জুয়ার ওয়েবসাইটে ডিপোজিট এবং উইথড্র করার কাজ করতেন।

[৭] গ্রেপ্তার মাসুম তার নামে টেলিগ্রাম আইডি খুলে জুয়ার লোকজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করার কাজ করতেন এবং বিনিময়ে তিনি এজেন্টের কাছ থেকে কমিশন পেতেন। জুয়ার কাজে জড়িত থাকায় নবাব বাসা থেকে বের হতে পারতো না বা কোথাও যেতে পারতো না বিধায় তার স্ত্রী টাকা সংগ্রহ ও ব্যাংকে টাকা জমাসহ বাইরের সকল কাজ করতেন।

[৮] গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, জুয়ার লেনদেনের কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি এজেন্ট সীমই নগদের এসআরের মাধ্যমে ট্রানজেকশন করা হতো। জুয়ার সঙ্গে জড়িত এসআররা জুয়ার এজেন্টদের সঙ্গে সরাসরি অবৈধ লেনদেনে জড়িত এবং এর বিনিময়ে তারা জুয়ার এজেন্টদের কাছ থেকে প্রতিটি লেনেদেনে কমিশন পেতেন। অনেক সময় জুয়ার এজেন্ট এবং এসআরদের মধ্যে বিটুবির মাধ্যমে লেনদেন হলেও তাদের মধ্যে ফিজিক্যাল কোনও লেনদেন হতো না।

[৯] সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার স্বপনের ব্যবহৃত এজেন্ট সীমে প্রতিদিন গড়ে আনুমানিক ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা লেনদেন হতো। লিপুর ব্যবহৃত এজেন্ট সীমে প্রতিদিন গড়ে আনুমানিক ১০ লাখ টাকা লেনদেন হতো। সিআইডি কর্মকর্তা কামরুল আহসান বলেন, জুয়ার মাধ্যমে প্রতিদিন চার থেকে ৫ কোটি টাকার লেনদেন করা হতো। গ্রেপ্তারকৃতরা ৯ মাস ধরে এই জুয়া কার্যক্রম চালাচ্ছিল। জুয়ার এজেন্টরা তাদের সাইটের সকল কার্যক্রম ম্যানেজমেন্ট, টেলিগ্রাম ও রেডি নামক নামক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যবহার করতেন।

[১০] তিনি আরও জানান, চক্রটির সদস্যরা সকল লেনদেন নগদ একাউন্টের মাধ্যমেই করতো। বিদেশে টাকা পাচার হয়েছে কিনা, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়