প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লিভার ক্যান্সারের আগাম সতর্কবার্তা

নিউজ ডেস্ক: লিভার রক্ত পরিশোধন ও খাদ্য হজমসহ শরীরে বিভিন্ন কাজ করে। মানবদেহের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে একটি লিভার। আপনার যদি লিভার ক্যান্সার হয়, তাহলে এই অঙ্গের কোষগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং টিউমার তৈরি করে। ফলে লিভারের কার্যক্রমের ওপর প্রভাব পড়ে।

বেশিরভাগ মানুষ প্রাথমিক পর্যায়ে লিভার ক্যান্সারের কোনো উপসর্গ টের পান না। কারো মধ্যে যে উপসর্গগুলোর থাকতে পারে:

১. খুব দ্রুত পেট ভরে যাওয়া বা খেতে ইচ্ছে না করা

২. ডান পাঁজর ফুলে যাওয়া

৩. পেটের উপরের দিকে ডান পাশে ব্যথা অথবা ডান কাঁধের কাছাকাছি ব্যথা

৪. পেট খারাপ হওয়া

৫. পেট ফুলে যাওয়া

৬. দুর্বল ও ক্লান্ত লাগা

৭. ওজন কমে যাওয়া

৮. চকের মতো সাদা পায়খানা ও কালচে প্রস্রাব হওয়া

৯. চামড়ায় ও চোখের সাদা অংশ হলুদ রঙ ধারণ করা

কিছু রোগের কারণে লিভার ক্যান্সারের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তার মধ্যে আছে— হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাস, সিরোসিস, নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার, বংশগত হেমাক্রোমাটোসিস ইত্যাদি।

মদ্যপানের অভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন এবং ডায়াবেটিস এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। সিরোসিসের একটি মূল কারণ হচ্ছে অনেক বছর ধরে বেশি পরিমাণ মদ্যপান করা। এ ধরণের প্রবণতা থেকে লিভার সিরোসিস হয়। এ ছাড়াও আপনার ওজন যদি অনেক বেশি থাকে, ডায়াবেটিস কিংবা মেটাবলিক সিন্ড্রোম থাকে, তাহলে আপনি নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবেন।

অ্যাফ্লাটক্সিন, আর্সেনিক, থোরিয়াম ডাইঅক্সাইড, ভিনাইল ক্লোরাইড থেকে লিভার ক্যান্সার হতে পারে।

মানুষ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হোন হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা (এইচসিসি) নামের লিভার ক্যান্সারে। এটি আপনার লিভারের প্রাথমিক কোষকে আক্রান্ত করে। এই কোষগুলোর নাম হেপাটোসাইট। এইচসিসি সাধারণত একটি টিউমারের জন্ম দেয়, যা বড় হতে থাকে। কিন্তু আপনার যদি সিরোসিস ও এইচসিসি উভয়ই থাকে, তাহলে আপনার লিভার জুড়ে অনেক ছোট ছোট টিউমার তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

বাইল হচ্ছে এক ধরণের তরল, যা লিভার থেকে খাদ্য উপকরণ ভেঙে ফেলে। বাইল বহনকারী টিউবে বাইল ডাক্ট ক্যান্সার হয়। আক্রান্তের হারের দিক দিয়ে এইচসিসির পরেই এর অবস্থান।

লিভারের রক্তনালীতে অ্যাঞ্জিওসারকোমা এবং হেমাঞ্জিওসারকোমা দেখা দেয়। এ ধরণের ক্যান্সার বেশ দুর্লভ এবং এগুলো সাধারণত বিষাক্ত উপকরণ থেকে হয়। হেপাটোব্লাসটোমা আরেকটি দুর্লভ ক্যান্সার, যা সাধারণত ৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে দেখা দেয়।

ক্যান্সার সন্দেহ হলে চিকিৎসকরা বায়োপসি, রক্ত পরীক্ষা, আলট্রাসাউন্ড, সিটি স্ক্যান, এমআরআই অথবা এনজিওগ্রাম পরীক্ষার সুপারিশ করতে পারেন।

ক্যান্সার কোন স্টেজে বা পর্যায়ে আছে, তা থেকে জানা যায় সেটি আপনার দেহে কতটা ছড়িয়েছে।

স্টেজ ১: একটি টিউমার যেটি এখনো কোথাও ছড়ায়নি।

স্টেজ ২: একটি টিউমার তৈরি হয়েছে এবং এটি রক্তনালীতে ছড়িয়ে গেছে অথবা একাধিক টিউমার আছে যেগুলোর দৈর্ঘ্য ২ ইঞ্চির কম।

স্টেজ ৩: একটি টিউমার তৈরি হয়েছে, যেটি মূল রক্তনালী বা নিকটবর্তী অঙ্গে ছড়িয়ে গেছে। অথবা একাধিক টিউমার আছে যাদের মধ্যে কমপক্ষে একটির দৈর্ঘ্য ২ ইঞ্চির বেশি।

স্টেজ ৪: অন্যান্য অঙ্গে ক্যান্সার ছড়িয়ে গেছে।

লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসা আপনার বয়স, কোন স্টেজে আছে, সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং লিভারের স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে। যদি লিভারে অন্য কোনো সমস্যা না থাকে এবং ক্যান্সার ছড়িয়ে গিয়ে না থাকে, তাহলে আপনার কাছে যে বিকল্পগুলো আছে তা হলো:

১. টিউমার বের করার জন্য সার্জারি

২. লিভার প্রতিস্থাপন: একজন দাতার কাছ থেকে লিভার সংগ্রহ করে তা স্থাপন যদিও এটি সহজ নয়।

৩. অ্যাবলেশান থেরাপিতে অ্যালকোহল, ঠাণ্ডা, গরম অথবা বৈদ্যুতিক পালসের মাধ্যমে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা করা।

৪. এমবোলাইজেশন থেরাপি: এমবোলাইজেশন থেরাপিতে ঊরু ও হেপাটিক ধমনী দিয়ে একটি চিকন নল প্রবেশ করানো হয়। চিকিৎসক নলের মধ্যে একটি উপকরণ প্রবেশ করান, যা রক্তের প্রবাহ থামিয়ে দেয় এবং টিউমারকে পুষ্টিকর উপাদান থেকে বঞ্চিত করে। কেমোথেরাপির ওষুধ অথবা রেডিয়েশন বিডকেও এভাবে নলের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হতে পারে।

৫. টার্গেটেড থেরাপি: টার্গেটেড থেরাপিতে এমন কিছু ওষুধ ব্যবহার করা হয় যেগুলো সরাসরি ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে আক্রমণ করে। এর ফলে টিউমারগুলো রক্তনালী তৈরি করতে পারে না, যা তাদের টিকে থাকার জন্য আবশ্যক। কখনো কখনো টিউমার আক্রান্ত কোষগুলো এসব ওষুধের কারণে বিভাজিত হতে পারে না এবং বড়ও হতে পারে না।

লিভার ক্যান্সার পুরোপুরি প্রতিরোধ করা না গেলেও কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে আপনার এ ধরণের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। সেগুলো হলো:

১. হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন গ্রহণ

২. পরিমিত খাবার ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখা

৩. মদ্যপান যথাসম্ভব পরিহার করা

৪. দেহে সরাসরি প্রবেশ করানো হয় এমন (ইন্ট্রাভেনাস বা আইভি) ওষুধ গ্রহণ করতে হলে অবশ্যই পরিষ্কার সুঁই ব্যবহার করা

৫. উল্কি বা নাক কান ফুটো করালে নিরাপদ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা

৬. নিরাপদ যৌনতার চর্চা করা

সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাত্রা মেনে চললে অনেকাংশেই লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

সূত্র: ওয়েবএমডি, দ্য ডেইলি স্টার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত