প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পরিবহন ধর্মঘট: একদিনেই শেষ ২০ দিনের যাতায়াত খরচ

শরীফ শাওন:[২] সরকারিভাবে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস হিসেবে বরাবরই যাত্রীদের বাড়তি চাপ থাকায় রোববার সড়কে কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তির এই মাত্রাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে পরিবহন ধর্মঘট। শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ ও শনিবার সরকারি অফিস বন্ধ থাকায় যাত্রী ভোগান্তি কিছুটা কম থাকলেও তৃতীয় দিনের ধর্মঘটে ও সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে তা ব্যপক আকার ধারণ করেছে।

[৩] রোববার অফিস সময়ে মিরপুর, বনানী, মহাখালি, মগবাজার, কাওরানবাজার, ধানমণ্ডি, বাংলামটর, শাহাবাগ ও মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজট পরিলক্ষিত হয়। গণপরিবহন না থাকলেও সড়কে প্রাইভেট কার ও সিএনজির আধিক্য দেখা যায়। এছাড়াও রয়েছে অটোরিক্সাসহ ছোট যানবাহন।
কাকরাইলের একটি বেসরকারি অফিসে ২০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন মিরপুরের বাসিন্দা ইয়াসিন পারভেজ। তিনি জানান, অফিস যাতায়াতে ৩০ টাকা করে প্রতিদিন ৬০ টাকা খরচ হয়। এতে মাসে যাতায়াত খরচ হয় প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। গণপরিবহন না থাকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে সিএনজিতে। রোববার রাইড শেয়ারের ব্যবস্থা থাকায় ২০০ টাকা করে যাতায়াতে খরচ হয়েছে ৪০০ টাকা।

[৪] তবে শনিবার রাইড শেয়ার করতে না পারায় সিএনজির পুরো ভাড়া গুণতে হয়েছে। যাতায়াতে খরচ হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা। শুধুমাত্র একদিনেই শেষ হলো ২০ দিনের যাতায়াত খরচ। গত দিনের ভাড়া মিলিয়ে দুদিনেই শেষ হলো মাসের যাতায়াত খরচ।

[৫] অপর এক চাকরিজীবি মো. ইব্রাহীম জানান, কাকরাইল যেতে রিক্সা ভাড়া চেয়েছে ৪০০ টাকা। এতে একদিনের যাতায়াতে খরচ হবে ৮০০ টাকা। সল্প আয়ের মানুষের জন্য একদিনের যাতায়াতে এত টাকা খরচ করা অসম্ভব। খরচ বাঁচাতে কাওরান বাজার পর্যন্ত ২৫০ টাকায় রিক্সা ভাড়া করি। পরে সেখান থেকে কর্মস্থলে হেঁটে গিয়েছি।
অপর এক কর্মজীবি প্রিয়াঙ্কা আচার্য জানান, টিকাতলি থেকে কর্মস্থল তিব্বত মোড় পর্যন্ত আসতে সময় লেগেছে আড়াই ঘন্টা। স্বাভাবিক সময়ে তা লাগে ৫০ মিনিট। গণপরিবহন না থাকায় ভেঙ্গে ভেঙ্গে রিক্সায় ও হেঁটে আসতে হয়েছে। বাড়তি সময়ের পাশাপাশি অধিক ভাড়াও গুণতে হয়েছে। ১৫০ টাকার সিএনজি ভাড়া হেঁটে ও রিক্সায় খরচ হয়েছে ২৫০ টাকা।

[৬] সরকারি চাকরিজীবি জালিজ মাহমুদ বলেন, সপ্তাহের প্রথম দিনে অফিসে কাজের ব্যস্ততা কিছুটা বেশি থাকে। বাস না থাকায় সিএনজি ভাড়া করতে হয়েছে ৭০০ টাকায়। তারপরও সড়কে প্রচুর যানজট থাকায় অফিস পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে যানজটে অফিস যেতে দেড় ঘন্টা সময় লাগলেও আজ তা লেগেছে আড়াই ঘন্টা।
এর আগে গত ৪ নভেম্বর প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। বর্ধিত দাম প্রত্যাহার অথবা ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে ৫ নভেম্বর সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়। দাবি আদায়ে নেমেছে ট্রাক-লঞ্চ মালিকরাও। পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় এর প্রভাব পড়েছে বাজারগুলোতেও, বেড়েছে সকল ধরণের ভোগ্যপণ্যের দাম।

সর্বাধিক পঠিত