প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালিদ খলিল: ‘মালাউন’ ও ‘যবন’ সমাচার!

খালিদ খলিল
বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে মালাউন শব্দের অর্থ দেওয়া আছে- লানতপ্রাপ্ত, অভিশপ্ত, বিতাড়িত, কাফের, মুসলমান কর্তৃক ভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায়ের লোককে দেওয়া গালি বিশেষ। উইকিপিডিয়ায় মালাউন বিষয়ে বলা হয়েছে, The Arabic word ملعون (malun), literally meaning cursed is derived from the root لعنة (la’nat) meaning curse. In Islamic parlance, it means deprived of Allah’s mercy. The word has been loaned into languages of non-Arabic Islamic countrieslike Malay and Indonesian.. ‘মালাউন’ শব্দটি আরবি শব্দ ‘ملعون’ থেকে উদ্ভূত যার অর্থ ‘অভিশপ্ত’ বা ‘ঈশ্বরের অভিশাপ প্রাপ্ত’। ১৯৪৬ সালে নির্মল কুমার বসু মোহনদাস গান্ধীর সঙ্গে নোয়াখালীতে সেবা কাজ করতে আসেন। তিনি লক্ষ্য করেন হিন্দুদের মালাউন বলে গালি দেওয়ার রীতি। [নির্মল কুমার বসু- My Days With Gandhi, পৃ: ২৫৯।]

এরপর ১৯৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় ‘শালা মালাউন কা বাচ্চা’ গালিটি ব্যাপক আকারে ব্যবহার হয় পাক হানাদার বাহিনীর মুখে এবং তাদের দেখে দেখে দেশীয় রাজাকাররাও হিন্দুদের ‘মালাউন’ গালিটি দিতে শুরু করে। হিন্দুদের মালাউন বলা হলেও শব্দটি আসলে মাল’উন। এটি আরবি শব্দ। কোরআন শরীফে শয়তানকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। এটি এসেছে লা’নত বা অভিশাপ শব্দটি থেকে। মুসলমান রাজারা যখন ভারতবর্ষে আসেন তখন হিন্দু রাজাদের বিরুদ্ধে তাদের সৈন্যসমূহ তো বটেই, তাদের তান্ত্রিকদের জাদু শক্তির বিরুদ্ধেও মোকাবেলা করতে হয়েছিলো যা ইতিহাসে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। ইসলামে শয়তানকে মালউন বা অভিশপ্ত বলা হয়েছে। হিন্দুদের সঙ্গে তান্ত্রিকতা, কালো জাদুর সম্পর্ক খুবই গভীর যা মূলত শয়তানি আচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেই সূত্র ধরে অনেক আগে থেকেই ভারতবর্ষে মালাউন শব্দটা ব্যবহার হয় বলে অনেকে ধারণা করেন। অপরদিকে হিন্দুগণ মুসলমানদের যবন বলে ডাকতো।
বেদ বিশ্বাসী ভারতীয়দের কছে বেদ-অবিশ্বাসী বিদেশি মাত্রই ছিলো যবন। যবন শব্দটির বু্যঁৎপত্তি (যু + অন (যুচ)-ক), অর্থ বৈদেশিক, বর্বর, মুসলমান, গ্রিক প্রভৃতি। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যবন শব্দটির চ‚ড়ান্ত অপব্যবহার ঘটান। যবন বলতে মূলত মুসলমানদের বোঝায়। তবে যবন নিয়ে একটা হাস্যকর গল্প আছে মহাভারতে। ‘হিন্দু রাজা যবাতি একবার গোমেধ যজ্ঞ করেছিলো। কিন্তু তার অসংযমী পুত্র লোভ করে এক টুকরো গরুর গোশত খেয়ে ফেলে। তখন থেকেই পিতার অভিশাপক্রমে এই আগের ভ্রৃষ্টপুত্র হতেই গো-খাদক  বংশ আরম্ভ হয়। সাধারণের ধারণা, ওই গো-খাদক মুসলমানরাই বংশীয় যবন। (ইতিহাসের ইতিহাস, গোলাম আহমদ মোর্তজা) মূলত যবন এবং মালাউন দুটোই গালি বিশেষ ব্যবহার হয়।

সর্বাধিক পঠিত