প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাগবি ক্লাব চালু রাখতে নগ্ন হলেন কার্লাইল কুগারসের নারীরা

রাশিদ রিয়াজ : কোভিড ভাইরাসের কারণে ব্রিটেনের বিখ্যাত নারী রাগবি টিম কার্লাইল কুগারসের সদস্যরা ন্যুড ক্যালেন্ডারে ছবির জন্যে পোজ দিয়েছেন। দীর্ঘ সময় বন্ধ হয়ে আছে তাদের ক্লাব। এ ক্লাবটি থেকে তরুণীদের নিয়মিত রাগবি প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। কিন্তু অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে তাদের কার্যকলাপ। অর্থের সংস্থান করতে তারা নগ্ন পোজ দিয়েছেন। ক্যামেরার সামনে কখনো হয়েছেন টপলেস। কখনো শরীরের নিম্নাঙ্গের পোশাক পুরোটাই খুলে ফেলেছেন। আবার কখনো তাদের পরণে কাপড় বলতে কিছুই নেই। ক্লাবটির সদস্যদের নগ্ন ছবি সম্বলিত এ থ্রি সাইজের ক্যালেন্ডারের দাম ধরা হয়েছে ১৪.৯৯ পাউন্ড। ক্লাবটির ওয়েবসাইট থেকে ক্যালেন্ডারটি কেনা যাবে।

লন্ডনের স্টার ইউকে অনলাইন ট্যাবলয়েড এসব ছবি দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ পোজ দিয়েছেন নারীরা। এতে তাদের স্পর্শকাতর অঙ্গগুলো অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে। ক্লাবটির ভাইস ক্যাপ্টেন হান্নাহ ফারেল (২৬) বলেছেন, ক্যামেরার সামনে এভাবে নগ্ন হয়ে দাঁড়াতে সত্যিই বুক কেঁপেছে। এ অভিজ্ঞতা ছিল স্নায়ুুতে শিহরণ জাগানোর মত। সত্যি বলতে কি, বছরে পর বছর আমরা নগ্ন ক্যালেন্ডার নিয়ে কৌতুক করেছি। তবে সে জন্য নিজেরা কিছুই করিনি। শেষ পর্যন্ত নিজেদের নিয়ে ভাবলাম। তাতে মনে হলো, আমরা এ কাজ করলে বিষয়টি হাস্যকর হবে। তবে তা থেকে ক্লাবের জন্য অর্থ সংগ্রহ হবে। এতে নারীদের রাগবি খেলার প্রসার ঘটবে। একই সঙ্গে আমরা আমাদের দেহকে নিয়ে আনন্দ করবো, মজা করবো। তিনি আরো বলেন, কোভিডের পরে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ক্লাব বন্ধ হয়ে আছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, এই কাজটি করার এখনই উত্তম সময়। নগ্নতার মাধ্যমে ক্লাবের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা যাবে। যাতে নারীদেরকে রাগবি খেলার প্রতি উৎসাহিত করা যাবে। তাছাড়া আমরা তো চেঞ্জিং রুমে বা পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে প্রতি সপ্তাহে একজন অন্যের মুখোমুখি হই এবং বিষয়টিকে খুবই স্বাভাবিকভাবে নেই। একজন অন্যের শরীরের আদ্যোপান্ত অবলোকন করি। কিন্তু তাই বলে ক্যামেরার সামনে! বিষয়টি ভাবতেই কেমন যেন নার্ভে নাড়া লেগে যায়। যাহোক প্রথম ছবিটি ক্যামেরায় বন্দি করার পর আমরা স্বাভাবিক হয়ে গেলাম। ফটোশুটের পর মনে হলো আমাদের শরীরে পোশাক বলতে কিছু নেই। মনে হলো আমরা অনেক বেশি ক্ষমতাধর, শক্তিশালী এবং আত্মবিশ্বাসী।

তাদের এই কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেছে স্থানীয় ১৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সেই সহায়তা দিয়ে এই ছবি ধারণ করে প্রিন্ট করা হয়েছে। প্রকাশিত ক্যালেন্ডার বিক্রি থেকে যে অর্থ আসবে তা ব্যবহার করা হবে রাগবিতে। এটাকে একটা বোনাস পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন হান্নাহ। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো নারীদেরকে দেখাতে চেয়েছি যেকেউ রাগবি খেলতে পারেন। তা তার শারীরিক গঠন, আকার আকৃতি যা-ই হোক না কেন। তিনি আরো বলেন, আপনি যদি ৫ থেকে ৫০০ মিটার দৌড়াতে পারেন তাহলে সব সময়ই রাগবি টিমে আপনার জন্য স্থান হতে পারে। আমরা খেলোয়াড়দের স্বাগত জানাই এবং তাদেরকে গ্রহণ করি। এক্ষেত্রে তার রাগবি অভিজ্ঞতা বড় ফ্যাক্টর নয়। আমাদের খেলোয়াড়দের বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে আছেন মা, বোন, স্ত্রী অথবা আন্টিরা। এর মধ্যে আছেন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিফটে কাজ করা মানুষ। ব্রিটেনের কাম্ব্রিয়া এলাকায় এই রাগবি ক্লাবটি বেশ জনপ্রিয়। ক্লাবটির ভাইস ক্যাপ্টেন বলেন, দলটি সদস্যরা প্রত্যেকের পরিস্থিতি বোঝে এবং গ্রহণ করে। তারা পরিবার ও নিজেদের কাজের ফাঁকে রাগবি খেলতে আসে নিজেকে ফিট রাখার সঙ্গে সঙ্গে যে কোনো উত্তেজনা দূর করতে।

 

সর্বাধিক পঠিত