প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] জাতীয় চার নেতা স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘর নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে, আগামী বছর উদ্বোধন

মনিরুল ইসলাম: [২] পুরান ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ‘মৃত্যুঞ্জয়ী’ সেল ঘিরে নতুন নকশা অনুযায়ী নির্মাণ করা হচ্ছে ‘জাতীয় চার নেতা স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘর’ । কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামি বছর এই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করার টার্গেট নিয়ে চলছে নির্মাণ কাজ। উন্মুক্ত করে দেয়া হবে দর্শনার্থীদের জন্য বলে জানা গেছে।

[৩] ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর রাতে জাতীয় চার নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই কলঙ্কিত ইতিহাসের স্মৃতি ধরে রাখতে সেখানে তৈরি হচ্ছে জাতীয় চার নেতা স্মৃতি জাদুঘর।

[৪] পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ‘মৃত্যুঞ্জয়ী’ সেল ঘিরে তৈরি হবে জাদুঘর। এতে থাকবে জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানের ব্যবহৃত আসবাব, ঘাতকের বুলেটের চিহ্ন ধরে রাখা লোহার শিক ও জিনিসপত্র। নেতাদের কর্মজীবন ছাড়াও ঐতিহাসিক তথ্যচিত্রগুলো রাখা হবে প্রদর্শনীর জন্য।

[৫] চার নেতার এই স্মৃতি জাদুঘর তৈরির কাজ আগামী বছরের জুন- জুলাই শেষ করে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

[৬] কারা সূত্র জানায়, পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারটি ঐতিহাসিকভাবে সংরক্ষণের জন্য একটি নকশা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ প্ল্যানার্সের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ৩৪টি প্রতিষ্ঠান নকশা ও মডেল জমা দেয়। এর মধ্যে স্থাপনাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘ফর্ম থ্রি আর্কিটেক্টস’-এর নকশা সেরা হিসেবে নির্বাচিত হয়। সেই নকশাটি অনুযায়ী বাস্তবায়িত হচ্ছে পুরো কার্যক্রম।

[৭] প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় চার নেতা স্মৃতি জাদুঘর এলাকায় রয়েছে কারাগারের চারটি ভবন। এগুলো নীলনদ, জেলসুপারের বাসভবন, সেল ১৫ ও মৃত্যুঞ্জয়ী সেল নামে পরিচিত।

[৮] মৃত্যুঞ্জয়ী সেলের সামনে এখন চার নেতার আবক্ষ মূর্তিসহ ছোট বাগান ও ঝর্ণা রয়েছে। চার নেতার আবক্ষ মূর্তি আরও ভালোভাবে দেখার মতো পরিবেশ তৈরি করা হবে। দেখার সুবিধার্থে সেগুলো নতুন করে প্রতিস্থাপন করা হবে।

[৯] সেল ১৫ আংশিক ভেঙে ভাস্কর্য প্যাভিলিয়ন ও গ্যালারি হিসেবে পুনর্নির্মাণ করা হবে। কারাগারের ভেতরে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার জাতীয় চার নেতার সম্পর্কে ঐতিহাসিক তথ্যগুলো প্রদর্শনের জন্য রাখা হবে সেখানে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে সেনাবাহিনী বলে জানা গেছে।

[১০] ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর তার ঘনিষ্ঠ এই চার আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানেই হত্যা করা তাদেরকে।

[১১] পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে ১৮০৬ সালে ২৫ একর জমির ওপর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণ করা হয়। বন্দির তুলনায় ধারণক্ষমতা না থাকায় ও পুরনো হয়ে যাওয়ায় কেরাণীগঞ্জে নতুন কারাগার নির্মাণ করা হয়। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে পুরনো কারাগার থেকে সব কয়েদিকে নতুন কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সূত্র ঃ নিউজ বাংলা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত